আল-বাখেরা জাহাজে ৮ নাবিক হত্যাকান্ডে জড়িতদের ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রেফতার করুন, অন্যথায় নৌ পথে লাগাতার কর্মবিরতি

স ম জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগের বিক্ষোভ মিছিলে এম. নুরুল হুদা চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আল-বাখেরা জাহাজে ৮ নাবিক হত্যাকান্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ডাকাত- জলদস্যুমুক্ত নৌ-পথ নিশ্চিত করতে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যর্থ হলে নৌ পথে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি এম. নুরুল হুদা চৌধুরী।

গত ২৩ ডিসেম্বর মেঘনা নদীর চাঁদপুরের হরিনা ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় এম ভি আল বাখেরা জাহাজের শ্রমিকদের গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা শাখা, চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি. নং-চট্ট ২০৯০ বাল্কহেড কার্গো শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আজ ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ মোড় চত্বরে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো আলাউদ্দিন মাঝির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগের কার্যকরি সভাপতি মো. আবু তাহের মাস্টার, সহ সভাপতি মো. আজগর হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ নৌ যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা শাখার কার্যকরি সভাপতি মো. নুরুল আলম, সহ সভাপতি মো. ইদ্রিস, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো নুরুল হোসেন, মো. জাবের সুখানী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর সুখানী সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রাসিবুল ইসলাম রাসেল, নুর আলম, মো. মুসা, নাজিম উদ্দিন, আমির হোসেন, মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ কার্গো টলার ভাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মো: ফেরদৌস আলম, সাধারণ সম্পাদক জামাল সুকানি, মো. পারভেজ সুকানি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য নৌ-শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি দাওয়া উত্থাপন করে আন্দোলন করছে। এই আন্দোলনের বাধ্য হয়ে এদেশের প্রতিটি সরকার বার বার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। দেশের পণ্য আমাদানী রপ্তানি সরবরাহ নিশ্চিত করে নৌ শ্রমিকরা। অথচ এসব শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতার বহি:প্রকাশ। প্রচলিত রাষ্ট্রীয় বাহিনী নৌ পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।
বক্তারা দাবি করেন, নিহত নাবিকদের প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক, অসুস্থ নাবিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে বিনা খরচে সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করে ক্ষতিপূরন প্রদান করা হোক এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।
অন্যথায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর মধ্য রাত থেকে নৌ পথে লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য শ্রমিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি আরিফা সুলতানা রুমা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সন্মানিত সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

রবিবার ৮ নভেম্বর-২০২৬ সকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধপত্র ও সার্বিক চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় তিনি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান, চলমান কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।

এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ হালিমা খানম, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সন্মানিত ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্টরা।পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

রাজধানীতে বাসে অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ পরিকল্পিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ পরিকল্পিতভাবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে ঘটানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ৮ নভেম্বর রবিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সংস্থাটির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন।

ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সদস্যও রয়েছেন বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ