রূপগঞ্জে কৃষি জমির টপসয়েল যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটা। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো, মাসাবো, আতলাপুর, তেতলাবো, বরপা, আওখাবো, কর্ণগোপ, সাওঘাট, গোলাকান্দাইল, বলাইখা, বেলদি, দেবই, কামালকাঠি, চারিতাল্লুক, বিরাবো, কাঞ্চন পৌরসভাসহ আশপাশের এলাকার অবৈধ ইটভাটায় অবাধে তিন ফসলি কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে। এখন তিন ফসলি জমির টপসয়েল বিক্রির হিড়িক পড়েছে। স্থানীয় ভ‚মিদস্যুদের দাপটে অসহায় সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় অধিবাসীরা।

এছাড়া মাটিবোঝাই ভারী ডামট্রাক সড়কে চলার কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা। ধুলাবালিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
বিরাবো ইসলামপুর গ্রামের প্রবাসী আহাদ আলীর স্ত্রী আলেয়া আক্তার বলেন, তার স্বামী ও সন্তান সৌদী প্রবাসী। তাদের অনুপস্থিতিতে ভ‚মিদস্যরা দিন-রাত আমাদের বাড়ির পাশের ধান ক্ষেত বেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। যে কোন সময় আমার বাড়িটি সৃষ্ট গর্তে পরে বিলিন হয়ে যেতে পারে। আমি তাদের বাঁধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা আমাকে হুমকি প্রদান করছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তহীনতায় রয়েছি।
দাউদপুরের খৈসাইর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিন ফসলী জমির মাটি গভীর করে কেটে ইটভাটায় নেওয়ার পর সৃষ্ট গর্তে আমার জমির সবুজ রংয়ের ধানগাছসহ ধসে পড়ছে। এরই মধ্যে ভ‚মিদস্যূরা আমার ধান ক্ষেতের দুই পাশের জমির মাটি বেকু দিয়ে গভীর করে কেটে নিয়ে গেছে। আশপাশের লোকজন কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইটভাটার চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। কোনো কোনো ভাটার সামনে কয়লার স্ত‚প থাকলেও আড়ালে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ভাটার ভেতরে রয়েছে কাঠের স্ত‚প। আশপাশের গাছগুলো বিবর্ণ। মরেও গেছে অনেক গাছ। এক্সকাভেটর দিয়ে কৃষি ও ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। কোনো কোনো জমি ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীরে মাটি কাটা হচ্ছে। আর ভেঙে পড়ছে আশপাশের জমি। ইটভাটায় মাটি নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ভটভটির দাপটে সড়কগুলোতে দেখা দিচ্ছে খানাখন্দ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
কোন জমিতে সবুজ ধান গাছ। আবার কোন জমিতে ভরা গমের শীষ। পাশের জমিগুলো ১৫ থেকে ২০ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। আলু, গম ধানসহ ফসলি জমি কিছুই রেহাই পাচ্ছে না ভ‚মিদস্যুদের হাত থেকে। কৃষি জমির টপসয়েল হারিয়ে কৃষকরা এখন বোবা কান্নায় কাঁদছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধিরীর ইসলামপুর গ্রামের পৈত্রিক সম্পত্তিও ভ‚মিদস্যুদের থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রূপগঞ্জে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ ইটভাটা কৃষিজমির টপ সয়েল গিলে ফেলছে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়ছে জনজীবন। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালালেও থামেনি অনিয়ম। অবৈধ ইটভাটার মালিকদের আন্দোলন, সংগ্রাম, সভা, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে থমকে গেছে প্রশাসনের অভিযান।

জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত এসব অবৈধ ইটভাটায় কৃষিজমির টপ সয়েল ব্যবহার করায় উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি। জনবসতি এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে কেউ ইটভাটা করতে পারবে না। সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না কোনো ইটভাটার মালিক। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপগঞ্জবাসী।
ভোলাবো ইউনিয়নের আতলাপুর এলাকার কৃষক করিম মিয়া বলেন, আমার চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করি। কিন্তু এ বছর পাশের জমিতে ভেকু দিয়ে গভীর খনন করে মাটি কেটে নেওয়ায় আমার জমি ভেঙে পড়েছে। তাই ফসলও করতে পারছি না।

বেদলী এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ইটভাটায় মাটি কেটে নেওয়ায় অস্বাভাবিকভাবে কমছে কৃষি জমি। মাটি পরিবহণে লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। তৈরি হয়েছে পরিবেশগত ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। গ্রামীণ সড়কগুলো এক বছরও টিকছে না।
কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে। ইট প্রস্তুতের জন্য বিভিন্ন গ্রামের কৃষি জমি থেকে নেওয়া মাটি স্ত‚প করা হচ্ছে ইটভাটাগুলোতে। এসব ইটভাটার কারণে একদিকে ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমির অন্যদিকে মাটিবাহী ট্রলির আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে সড়কের।

ইটভাটার বেশ ক’জন মালিক বলেন, কৃষক জমির মাটি বিক্রি করছেন তাই কিনেছি। জোর করে তো আর মাটি কাটছি না। আমরা ছাড়াও আরও চারটি ইটভাটা রয়েছে। তারাও কৃষকের কাছ থেকে মাটি কিনছেন। মাটি কিনছি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। তারা কোথা থেকে মাটি তুলছেন তা জানা নেই।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়ম বর্হিভ‚তভাবে কোন কাজ করতে দেওয়া হবে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ, এইচ, এম রাসেদ বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অন্য স্থানের ন্যয় রূপগঞ্জ উপজেলাও রয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, কেউ নিয়মবহির্ভ‚তভাবে ইটভাটা চালালে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যকিশোরগঞ্জ দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান আলম। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম তাজুল ইসলাম ডালিম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রশিদ শাহ্, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন, অধ্যক্ষ মুকুল হোসেন, প্রেস ক্লাব সভাপতি আবু হাসান শেখ, ছাত্র প্রতিনিধি মোতালেব হোসেন প্রমুখ। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন অফিসের সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, বিভিন্ন সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিপ্লব উদ্যানে পুস্পস্তবক অর্পণকালে ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে এ দিবসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব আমাদের অনুপ্রেরণা। এদিনে আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন যাত্রা শুরু করেছি। সিপাহি জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দিনের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর ষোলশহর ২ নং গেইটস্থ শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত বিপ্লব উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভিন দেশের আধিপত্য মোকাবেলায় ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করতে হবে। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে এ দেশের মাটি ও মানুষকে মুক্ত করতে জিয়াউর রহমানের যুগ শ্রেষ্ঠ ভূমিকার কথা স্মরণ করে এদেশের সিপাহী জনতা ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর বিপ্লব এদেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে ৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনা কিশোর তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সিটি প্রশাসক বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপকার। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি জানতেন, এ ঘোষণার কারণে তাঁকে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তারপরও নিজের পরিণতির কথা চিন্তা না করে তিনি দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পক্ষে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশ পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে যায় এবং জনগণের ক্ষমতায়নের সূচনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনা ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আজকের দিনে আমাদের শপথ হোক, শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ও আদর্শকে ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মো. খোরশেদুল আলম, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু সহ চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, ম্যাজিস্ট্রেবৃন্দ, শাখা প্রধানবৃন্দ, বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সিবিএ নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ