ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার পরিদর্শনে চসিক টিম।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেন্ডারের আগেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চট্টগ্রামের ফিসারিঘাটস্থ মাছবাজারের ঘাট দখলের অভিযোগ উঠেছিল চট্টগ্রামের দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শুধু ঘাটই নয়, অবৈধভাবে এরপর সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গা দখলে নিতে বেশ কিছু স্থাপনা নিমার্ণের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ওই এলাকার পান দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে গণহারে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এত সব অভিযোগে বিরক্ত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

এবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কর্পোরেশনের একটি টিম। কথা বলেছেন সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও। এরপর মৎস্যজীবি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে; কেউ যদি সিটি কর্পোরেশন, মেয়র, কিংবা মেয়রের পিএসের নামেও মাছবাজার থেকে চাঁদাবাজি করেন; তাদের ধরে যেন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তারা হলেন: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী আছু ও মহানগর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নবাব খান।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তারা ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার পরিচালনারা সাথে জড়িত জাতীয় মৎসজীবি সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মাছ বাজার পরিদর্শন করেন।

এসময় উচ্চ আদালতের স্থিতিআদেশ উপেক্ষা করে বন্দর থেকে লিজ নেয়া জমিতে বেআইনীভাবে চসিকের খাস কালেকশন, পরিবহন ও সাধারণ মৎস্যজীবীদের কাছে চাঁদাবাজি, চসিকের অধিভুক্ত নয় এমন জমিতে চসিকের লোক পরিচয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাজারের ল্যান্ড ডিমারকেশন, ঘাটের নতুন টেন্ডারসহ বিভিন্ন অভিযোগ রাজস্ব কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।

জানা যায়, দেশের সবচেয়ে আধুনিক এই ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থেকে মাছের দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা হয় বিদেশেও। এ অঞ্চলের মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মৎসজীবি। ২০১৫ সালে সাধারণ মানুষের দাবির মুখে জনবহুল ফিরিঙ্গিবাজার থেকে মাছ বাজার নতুন ফিসারীঘাটে সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো। পুরোনো বাজারটি সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

কিন্তু ৫ই আগস্টের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারীরা বাজারটি পুরোনোস্থানে সরিয়ে নিতে নানামুখী প্রচেষ্টা শুরু করে। যদিও ফিরিঙ্গিবাজারে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, গির্জা থাকার কারণে স্থানান্তরের বিষয়টি একেবারেই অযৌক্তিক বলছেন এলাকাবাসী।

নথি অনুযায়ী, বন্দর ও জেলা প্রশাসনের পারস্পরিক ভূমি বিরোধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা চলমান আছে (সিভিল বিবিধ পিটিশিন নম্বর ৭৮১/২৪, হাই কোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৪৬২৪/২৫)। এছাড়া বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল চট্টগ্রামে (এল. এস. টি নম্বর ৪৮৪৫/২৪) ও বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতে আরেকটি মামলা (নম্বর ৭০/২৫) চলমান আছে। মৎস্যজীবীদের পূনঃর্বাসন না করে কোন ধরনের উচ্ছেদ না করার হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে।

এর আগে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে মাছবাজার দখলের অভিযোগ উঠে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মাছ বাজারের দুই পাশে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন বিএনপির দুই নেতা। সেই ব্যানারে তাদের ছবির সাথে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবিও ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাগানো সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছিল চসিকের একটি স্মারক নম্বরও। তারা যে সাইনবোর্ডটি ঝুলিয়ে ছিলেন সেখানে দুজনের ছবি ছাড়াও সবার ওপরে দেওয়া হয়েছে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি। আর সবুজ কালিতে তাদের পরিচয়ে লেখা হয়েছে ‘ইজারাদার’। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর রাতারাতি সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়।

সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বন্দর থেকে লিজ নিয়ে বৈধভাবে এই ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এই বাজারের মাছ আভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। অযাচিতভাবে কেউ বাজার দখল করার জন্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে সেটি রাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতি হবে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি।’

বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন বলেন, ‘ কতটুকু জায়গা আমাদের লিজ দেওয়া হয়েছে, তা বন্দরের সঙ্গে করা চুক্তিতে উল্লেখ করা আছে। অনেকে ঘাটের কথা বলছেন, অথচ চট্টগ্রামে কিন্তু চাক্তাই-রাজাখালীসহ অনেক ঘাট রয়েছে। এখানে কোনভাবেই ঘাট নির্মাণ করতে দেওয়া যাবে না। বন্দর কোনভাবেই তা প্রশ্রয় দিবে না। নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই জায়গায় কোন অবকাঠামো সৃষ্টি করা যাবে না। বন্দর যদি খাস কালেকশনের জন্য যদি অনুমতি দিয়েই থাকে তাহলে বিষয়টিতো আমাদের জানাতে হবে। যেহেতু বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, ফলে এখানে ডাবল পক্ষ নিয়ে কাজ করতে গেলেই ঠেলাঠেলি হবেএটাই স্বাভাবিক। যার প্রভাব পড়বে বাজারে, পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাইকেই বেগ পেতে হবে। ফলে যারা ইজারা নিয়েছে আমি তাদের অনুরোধ করবো, আপনারা যেখান থেকে ঘাট নিয়েছে সেখানেই আপনারা ঘাট পরিচালনা করেন। অযথা বাজারে চাঁদাবাজি করবেন না।

তবে ঘাটের ইজারাদার মহানগর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ নবাব খান বলেন, ঘাট-বাজার, এসব জায়গা ইজারা দেওয়ার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। ফলে এই ঘাটের ইজারার টাকাগুলো তুলে কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয় আমাদের দুইজনকে নিয়োগ করেছেন। কিন্তু এসব জায়গা থেকে টাকা তারা তুলে আমাদের ঘাড়ের উপর চাড়াচ্ছে। তারা বলছে, আমরা নাকি এখানে চাঁদাবাজি করছি। অথচ আমরা গত দুই মাস এখানে আসি না। আমার প্রশ্ন-আইনের মধ্যে আছে কি না, ১৫ বছর মেয়াদে তাদের ঘাট দেওয়া যাবে?

বন্দরের জায়গা সিটি কর্পোরেশন কিভাবে লিজ দেবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক ঘাটই সিটি কর্পোরেশন লিজ দিয়েছে। এখন যেই ঘাট নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তা সিটি কর্পোরেশন বুঝবে। বন্দরের জায়গা হয়ে থাকলেও ডাক হলে সিটি কর্পোরেশনের। আর বন্দর এদের কিভাবে লিজ দিল গত ১৫ বছর? এত বছর কি বন্দবোস্তি হয়? তাহলে বাজার সমিতির মানুষ কিভাবে আবার এই জায়গা পরিচালনার দায়িত্ব পেল!

ঘাটের আরেক ইজারাদার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী আছু বলেন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই ঘাটের ইজারা দেওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। কিভাবে ডা. শাহাদাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, সেই চেষ্টা তারা নানাভাবেই করছেন। প্রতিদিন আমরা ১০ হাজার টাকা করে কালেকশন করে সিটি কর্পোরেশনকে দিচ্ছি। ঘাট আর বাজারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বন্দর বলছে, এই বাজারটা তারা সোনালী মৎস্যজীবি সমিতিকে দিয়েছে। তারা বাজারকে ভাড়া দিয়েছে। এসব বিষয় কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা আমাদের দেখতে হবে। সোনালী মৎস্যজীবি সমিতি যদি এই বাজার চালাতে না পারে সেক্ষেত্রে তারা তা বন্দরকে ফেরত দিবে, কিন্তু তা না করে তারা কিভাবে আরেকজনকে ভাড়া দিবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে কতটুকু শুদ্ধ রয়েছে তা জানা নেই, তবে ঘাটের মধ্যে আইন মেনে যতটুকু সম্ভব ততটুকুই কালেকশন করা হচ্ছে। কোনপ্রকার চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী আমরা করবো না।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, ফিসারিঘাট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, উঠে আসছে চাঁদাবাজিসহ অনেক অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, আমাদের (সিটি কর্পোরেশন) নাম দিয়ে অনেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উঠাচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়র মহোদয় বাজার ও ঘাটের ইজারাদার, সবাইকে ডেকেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে আজ (বৃহস্পতিবার) মেয়র মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। কিন্তু জরুরি কাজে তিনি ঢাকা থাকায় ওনার নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। আমাদের স্টেড টিমও ঘটনাস্থলে এসেছে। আমরা সবকিছু সার্ভে করে একটি রিপোর্ট মেয়র মহোদয়কে দিব। আমরা বলতে চাই, কেউ যদি সিটি কর্পোরেশন, মেয়র, কিংবা আমার নামেও মাছবাজারে চাঁদাবাজি করে; ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবিসহ সবাইকে বলবো তাকে ধরে আপনারা আমাদের ফোন করবেন।

৬ মাসের জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার রায় রয়েছে তারপরও কেন ইজারা দেওয়া হলো জানতে চাইলে মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, বাজারের বিষয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। কারণ বাজার হচ্ছে বন্দরের, ঘাট হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের। ফলে ঘাট বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দিয়েছে। ঘাট থেকে সিটি কর্পোরেশন খাস কালেকশন করতে পারবে। কিন্তু ইজারাদার বাজার থেকে কোন ধরনের ট্যাক্স, চাঁদা, ফি-বাজার থেকে তুলতে পারবে না। অবৈধভাবে বাজার থেকে কারা চাঁদাবাজি করছে, আপনারা (সাংবাদিক) তাদের ধরেন, তদন্ত করেন। কোন চাঁদাবাজিই এখানে হবে না। আমরা আশা করবো সাংবাদিকদের মধ্যে চাঁদাবাজদের মুখ উন্মোচন হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর কর্মকর্তা ছাবের আহমদ বলেন, বাজারের সীমানা এক জিনিস, ঘাটের সীমানা এক জিনিস। নদীর কূল কর্পোরেশনের ঘাট থাকবেই, তা নীতিমালাতেই বলা আছে। সেই আলোকে এই ঘাট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েই এই কাজ করেছি। প্রত্যেক বছর বন্দরের তালিকাভুক্ত ঘাটগুলো আমরা ইজারা দিয়ে থাকি। সেই হিসেবে এটিও ইজারা দেওয়া হয়েছে। নদীর কূলের সীমানার মধ্যে কোন ধরনের অবৈধ স্থাপনা রাখার পক্ষে আমরা নই, এগুলো উচ্ছেদ করার বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিবো। যেই ঘাট আমরা ইজারা দিয়েছি, ওই ইজারাদার ঘাট রিলেটেড আইন অনুযায়ী যা করণীয় সবটুকু করতে পারবেন। এর বাইরে আমাদের কোন এখতিয়ার নেই। ‘

নথি ঘেটে জানা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ হতে লিজ মূলে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর (১৪৭৭৫ নম্বর) এবং ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের (১৫০৫৩ নম্বর) বোর্ড রেজুলেশনের মাধ্যমে ফিসারিঘাটের ক্যাপিটাল ড্রেজিং থেকে সৃস্ট পরিত্যক্ত এই জমি (১,৭৩,২৬৩ বর্গফুট) বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ১৫ বছর মেয়াদে লিজ দিয়েছিল। সরকারি বিধি মোতাবেক বন্দরের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে ২০১৫ সালে ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই বন্দরকে বাৎসরিক ৬৩ লাখ টাকা ভাড়া দিয়ে আসছে সোনালী যান্ত্রিক মৎসজীবি সমবায় সমিতি। বর্তমানে এটি দেশের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক মাছ বাজার। কিন্তু ফিরিঙ্গিবাজার পুরোনো মাছ বাজার বন্দরের এই জমিতে স্থানান্তর নিয়ে সাবেক মন্ত্রী মুহিবুল হাসান নওফেলের সরাসরি আপত্তি ছিল। এছাড়া সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীও ফিরিঙ্গিবাজার থেকে ফিসারিঘাটে নতুন মাছ বাজার স্থানান্তরের ঘোর বিরোধী ছিলেন। সরকার পতনের পর ফিরিঙ্গি বাজার মাছ বাজারের (পুরাতন বাজার) সিন্ডিকেটের সাথে নতুন ফিসারিঘাট মাছবাজার বন্ধে চুক্তিবদ্ধ হন বিএনপি নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, ‘দরপত্রে অংশ নিয়ে সরকারকে রাজস্ব দিতে রাজি নন দখলদাররা। তারা মাসোহারা আদায় করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ইজারা নেয়া মাছ বাজার দখলে নিতে চাইছেন। বাজার সংলগ্ন ঘাটে চসিকের দরপত্র আহবানে ‘একান্ন লক্ষ টাকা’ ডাক উঠেছে। আইন অনুযায়ী, অভিযোগ উঠা দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কথা। উল্টো তারা দিন দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোক দাবি করে ঘর নির্মাণ করছে।’

এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, বাজারের খালি জায়গা জোরপূর্বক দখল করার অপচেষ্টা করছে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি। সিটি করপোরেশনের জায়গা নয় এটি- তাহলে খাস কালেকশন কেন করবে? মেয়রও বেআইনি কাজ কেন করবেন! এদের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভ হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসীদের জোরপূর্বক বেআইনী ও অনুপ্রবেশের কারণে বর্তমানে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসহ সকলে ভয়ে ভীত সন্ত্রন্ত।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আমরা সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যারা গণহত্যা চালিয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর আলেম-ওলামাদের রক্ত নিয়েছে এবং মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে, এ দেশের মানুষ তাদের আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। জুমার নামাজ আদায়ের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।দুদিনব্যাপী এ দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রমুখ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ইসলামবিদ্বেষী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হয়েছি। বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমিও তাদের একজন ছিলাম। মানুষ বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা সেই হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করতে চাই।

তিনি বলেন, ধর্মের নাম বিক্রি করে যারা রাজনীতি করছে, তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শুধু দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এখানে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। দেশের মানুষের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে কখনো ম্লান হতে দিতে চাই না।জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর পাশাপাশি সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনঃস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি থেকে দেশকে বের করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রের পূর্ববর্তী নীতিগুলোর পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনরায় ধারণ করব।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্যায়, অবিচার, দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এমনকি খালেদা জিয়ার মতো একজন মানুষকেও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তাদের আর এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকতে হবে। একেকজনের একেক রকম আদর্শিক রাজনীতি থাকতে পারে। কিন্তু একটি বিষয়ে আমরা একমত যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর আলেম-ওলামাদের রক্ত নিয়েছে এবং মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে, এ দেশের মানুষ তাদের আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না।

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি : পুলিশ সুপার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে সিভিক সেন্টারে আয়োজিত মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, উন্নত কর্মপরিবেশ, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত স্থান সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এসব জায়গায় শাকসবজি ও ফলমূল চাষের উদ্যোগ নিতে পুলিশ সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করেন।এতে অব্যবহৃত জমির সঠিক ব্যবহার, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা বাড়াতে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
এ ছাড়া প্রতিটি থানায় প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহের বিষয়েও নির্দেশনা দেন।

সভায় পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধী ও পলাতক আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন পুলিশ সুপার। সেগুলো সমাধানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসার, কোর্ট ইন্সপেক্টর, টিআই (অ্যাডমিন), ডিআইও-১, আরআই, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ