চট্টগ্রামে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ইলিশ এক কেজির দাম ২০০০-২৫০০ টাকা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়লেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশের সরবরাহ থাকার পরও দর বেশি থাকায় হতাশ ক্রেতারা। চট্টগ্রামের পাঁচটি উপজেলায় ও মহানগরীর একাধিক ঘাট এখন ইলিশে সরগরম। এর মধ্যে রয়েছে ফিশারি ঘাট, রাসমনি ঘাট, আনন্দবাজার ঘাট, উত্তর কাট্টলি, দক্ষিণ কাট্টলি, আকমল আলী ঘাট। এসব ঘাটে ইলিশ বিক্রির ধুম পড়েছে। এছাড়াও জেলার বাঁশখালী, মিরসরাই, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ডের উপকূল এলাকায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

দেওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রিদোয়ান বলেন, ইলিশ মাছ আনলেও মানুষ ইলিশ মাছ নেয় না। কারণ দাম বেশি হওয়ায় তারা কিনতে পারে না। আমরাও আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে আনি, তাই কম বিক্রি করা যায় না।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, একটি ট্রলার পাঠাতে অনেক খরচ। জ্বালানি তেলের দাম বেশি। একটি ট্রিপে যে খরচ হয়, সে তুলনায় ইলিশই পাওয়া যায় না। ফলে দাম কমছে না। তবে দু’এক সময় কোনো ট্রলারে হয়তো অনেক বেশি মাছ পাওয়া যায়। যদি কোনো ইলিশের ঝাঁক একবারে জালের নিচে পড়ে, তাহলেই হয়তো লাভের মুখ দেখা যায়। কিন্তু সেটা সার্বিক চিত্র না। আর তা দিয়ে বাজারে দাম কমে না।
নগরীর কয়েকটা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম এখন ২০০০-২৫০০ টাকা, দেড় কেজি ২৫০০-৩০০০টাকা। ছোট ইলিশের মধ্যে ৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১৫০০-২০০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ১২০০-১৫০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ ১০০০-১২০০ এবং ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজার অনুযায়ী মাছের দাম ভিন্ন হতে পারে।

এদিকে বাজারে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া মাছের কেন এত দাম হবে? এ মাছে চাষের খরচ নেই। নেই ফিড বা মেডিসিনের। তারপরও নদী বা সমদ্র থেকে জাল টেনে ধরে আনা ইলিশের দাম মাংস থেকেও অনেক বেশি। তাহলে তা কি আমাদের মতো মধ্যবিত্তের পক্ষে কেনা সম্ভব? এটা হয়তো আমাদের এক সপ্তাহের মাছ-মাংসের খরচ। তাই ইলিশ খেতে হলে এখন আয়োজন করে খেতে হয়। এভাবে চললে হয়তো আমাদের জাতীয় মাছ যে ইলিশ, তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভুলে যাবে।
ইয়াসিন আরাফাত নামে বেসরকারি ব্যাংকের আরেক ক্রেতা বলেন, এ বছর মাছের দাম বাড়তি দেখা যাচ্ছে। ইলিশের দাম বাড়তি দেখে অন্য মাছ নিয়েছি। তবে ইলিশ বুঝি সত্যিই এবার মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেল। বষা মৌসুমে এসে ইলিশের এত দাম।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইলিশের দেশ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। ‘বাংলাদেশ ইলিশ’ শীর্ষক ভৌগোলিক নিবন্ধন সনদ (জিআই সনদ) প্রাপ্তিতে নিজস্ব পরিচয় নিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ইলিশ সমাদৃত। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে, যা দেশের জিডিপির এক শতাংশের অধিক। ২০২১-২২ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ দশমিক ৬৭ লাখ টন। যা গত ২০১০-১১ অর্থবছরের (৩.৪০ লাখ টন) চেয়ে ৬৬.৭৬ শতাংশ বেশি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, এ বছর অন্য যে কোনো বছরের চেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। জাটকা শিকার, মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের কারণে এবার বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আর বাজারে দর ভালো থাকায় খুশি তারা। গেল কয়েক বছর ধরে সাড়ে ৫ লাখ টন ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবার ৬ লাখ টন হবে বলে তারা আশা করছেন। চলতি অর্থবছরে শুধু ইলিশ থেকে কয়েকশ কোটি টাকারও বেশি আয় করা যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আড়তদাররা বলছেন, ইলিশ ভারতে রপ্তানি করায় এবং মোকামে পর্যাপ্ত ইলিশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। নগরীর ফিরিঙ্গীবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ পুরো ফিশারি ঘাট এলাকা ইলিশে সয়লাব। জেলেরা সাগর থেকে মাছ ধরে বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসছেন। এখান থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি : পুলিশ সুপার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে সিভিক সেন্টারে আয়োজিত মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, উন্নত কর্মপরিবেশ, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত স্থান সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এসব জায়গায় শাকসবজি ও ফলমূল চাষের উদ্যোগ নিতে পুলিশ সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করেন।এতে অব্যবহৃত জমির সঠিক ব্যবহার, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা বাড়াতে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
এ ছাড়া প্রতিটি থানায় প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহের বিষয়েও নির্দেশনা দেন।

সভায় পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধী ও পলাতক আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন পুলিশ সুপার। সেগুলো সমাধানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসার, কোর্ট ইন্সপেক্টর, টিআই (অ্যাডমিন), ডিআইও-১, আরআই, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মো. সফি উল্যাহ চৌধুরী (৭০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূর নবী (৬০)। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ও তার ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে ১৩ নম্বর চরপার্বতী মৌজার সিএস ৯৯১ নম্বর খতিয়ানের ১২০৮ নম্বর দাগে নকশা অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পাঁচ শতাংশের মালিক ও দখলদার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সফি উল্যাহ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে সেখানে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এতে নূর নবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী।

নূর নবী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে সফি উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেটি প্রমাণের জন্য আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে ওসির কাছে উপস্থাপন করব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ