চাকসু নির্বাচনে ভোটার ২৭ হাজার ৬৩৭ জন, মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

জয়ে কোমর বেঁধে নামছে শিবির, দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছাত্রদল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে চাকসু ভবনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৬৩৭ জন ছাত্র-ছাত্রী। রোববার সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে চাকসু নির্বাচন কমিশন।

এদিকে ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের সাফল্যে উজ্জীবিত ইসলামী ছাত্রশিবির এবার কোমর বেঁধে নামছে চাকসু জয়ের জন্য। ৪৫ বছর পর আরেকবার চাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে জয়ের আশা করছে সংগঠনটি। অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচনে পরাজয় ও জাকসু নির্বাচন বর্জনের পর চাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন ছাত্রদল নেতারা। তাদের মত হচ্ছে, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন।

জানা গেছে, ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য হল সংসদের মনোনয়ন ফি রাখা হয়েছে ২০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩০০ টাকা। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীরা ডোপ টেস্টের কার্ড পাবেন। পরে চবি মেডিক্যালে ৩৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে নমুনা দিতে হবে।

চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। ভোটগ্রহণ হবে ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের সাফল্যে উজ্জীবিত ইসলামী ছাত্রশিবির এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামলেও নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন ছাত্রদল নেতারা। তাদের মত হচ্ছে, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮টি পদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) ২৩টি পদে জয় পায় ছাত্রশিবির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম কোনো নির্বাচনে বিশাল এ বিজয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে।

এর পর গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (জাকসু) নির্বাচন হয়। দু’দিন পর ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) ১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টিতে জয় পেয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আগে কখনো কোনো নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখেনি।

প্রথমবারের মতো এ সাফল্য ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মনোবল আরও অটুট করেছে, এমনটাই বলছেন সংগঠনটির নেতারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ডাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবির বিশাল জয় পেয়েছে। জাহাঙ্গীরনগরেও আমাদের অধিকাংশ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমাদের নেতাকর্মীরা উজ্জীবীত হচ্ছেন, খুবই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আচরণবিধি নিয়ে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সভা বর্জন করে বেরিয়ে যান ছাত্রদলের নেতারা। এর পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বিদ্যমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
ফেসবুকের পোস্টে আব্দুল্লাহ আল নোমান লিখেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসনের অধীনে কতটুকু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান। এই দলকানা প্রশাসনের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব কিনা তা এখন ভেবে দেখার বিষয়।
জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু আমাদের কিছু দাবি-দাওয়া আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একপেশে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাদের দলকানা মনোভাব এরই মধ্যে পরিষ্কার হয়েছে। আমাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে। আমাদের আপত্তির জায়গাগুলো শুনতে হবে। অন্যথায় আমরা নির্বাচনে যাব কিনা, সেটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।
চাকসু নির্বাচন কমিশন নিয়ে আপত্তি তুলেছিল ছাত্রশিবিরও। তবে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে জয়ের পর তাদের আপত্তি আর জোরালো অবস্থায় নেই বলে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছি। এর মধ্যে গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি কিছুটা স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার কার্যক্রম জোরালো করেছি। আমাদের প্রার্থীদের রেডি করছি। তবে কৌশলগত কারণে আমরা কারও নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।
ডাকসু-জাকসু’র মতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকসুতেও শিবিরের ওপর আস্থা রাখবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর থেকে গত একবছর ধরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব অনেক কার্যক্রম করেছি। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের একটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালে শিবির একবার চাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছিল। এবারও আমরা আরেকবার সেই বিজয় দেখব বলে আশাবাদী।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর মোট ছয়টি চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭০ সালে চাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১ সালে এবং ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চাকসুর নির্বাচন হয়। ১৯৮১ সালে ভিপি পদে জসীম উদ্দিন সরকার ও জিএস পদে আব্দুল গাফফারসহ ছাত্রশিবিরের পূর্ণ প্যানেল জয়ী হয়।

এরপর ১৯৯০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে তৎকালীন জাতীয় ছাত্রলীগের নেতা নাজিম উদ্দিন (ভিপি), আজিম উদ্দিন (জিএস) ও ছাত্রদলের মাহবুবের রহমান শামীম (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতা ফারুকুজ্জামান নিহত হলে চাকসুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত ৩৫ বছরে আর চাকসুতে নির্বাচন হয়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৬০ বছরের পথচলা পূর্ণ করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ছয় দশক পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৮ নভেম্বর বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী। এ উপলক্ষে জেমসের সংগীত পরিবেশনা, র‌্যালি, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, মধ্যাহ্নভোজসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন বাস্তবায়নে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা গেছে, হীরকজয়ন্তী উদযাপন ঘিরে ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে অংশ নিতে পারবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় দশকের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে হীরকজয়ন্তীর আয়োজন নানা কর্মসূচিতে সাজানো হয়েছে। হীরকজয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে আয়োজকরা।
হীরকজয়ন্তীতে দিনের প্রথম কর্মসূচিতে থাকবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন। র‌্যালি শেষে আলোচনা সভা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় দশকের পথচলা, ইতিহাস ও উল্লেখযোগ্য অর্জন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। আর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়াও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ড তারকা জেমস। তার সংগীত পরিবেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।হীরকজয়ন্তী উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী উৎসব উদযাপন হবে। উৎসবে নানা আয়োজন থাকবে। সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছি। রেজিস্ট্রেশন চলমান রয়েছে, সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক আয়োজন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশ সেরা ঢাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭’-এ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩৬তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৬তম।

গত বছরও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ কিউএস এ র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে।এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় হয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ