যুদ্ধবন্দীর বিনিময়ে শিক্ষা: প্রিয় নবী (দ:) সেরা কর্মসূচি

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কবির কল্পনা, শিল্পীর আলপনা, দার্শনিকের চিন্তা, সাহিত্যিকের লেখনী, সূরাকারের সূর যেখানে ব্যর্থ সেখান হতে প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ)’র প্রশংসা শুরু। মানুষের মগজ মস্তিষ্ক এক বিস্ময়কর বস্তু। আধুনিক বিজ্ঞানীদের সেরা বিজ্ঞানী বলা হয় আলবার্ট আইনস্টাইনকে।আইনস্টাইনের মাথার মগজ ছিল দেড় লিটার। প্রায় মানুষের মস্তিষ্ক এ রকম। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, একটি কম্পিউটারের দাম যদি হয় এক লক্ষ টাকা , তাহলে দেড় লিটার মস্তিষ্কের দাম হবে দশ হাজার কোটি টাকা। দুনিয়ার মহাকালের সকল মানুষের মস্তিষ্ক ব্যয় করে চিন্তা-গবেষণা করলে আল্লাহর একটি চিন্তার সমান হবে না। সমস্ত মানবের শক্তি ব্যয় করলে আল্লাহর একটি কাজের সমান হবে না।

মহান আল্লাহ পাক তাঁর কুদরতী শক্তি ব্যবহার করে তাঁর নবী (দঃ)’র মর্যাদা ঘোষণা করেছেন ‘ওয়ারা ফান লাকা জিকারাকা’… (আল কোরআন) অর্থাৎ হে নবী আমি আপনার প্রশংসাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছি। কতটুকু উঁচুতে নিলেন, তার সীমানা কোথায়,তা বান্দার ধারণায় নেই।এই চিন্তার ক্ষমতা বান্দার নেই। যে নবী (দঃ)’র প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক নিজেই উঁচুতে নিয়ে গেছেন, তাঁকে দুনিয়ার কোন শক্তি শত চেষ্টায় নিচে নামাতে পারবে না। কেউ নিচে নামাতে চাইলে সে নিজেই নিচে নেমে যাবে,কেউ তাকে আর উপরে তুলতে পারবে না।

কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ বলেছেন, ‘পৃথিবীর তাবৎ উপন্যাসিক যাঁর কোটের পকেট থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তাঁর নাম দস্তয়ভস্কি। আরেকজন আছেন মহামতি টলস্টয়। এক রেলস্টেশনে যখন টলস্টয় মারা গেলেন, তখন তাঁর ওভারকোটের পকেটে একটি বই পাওয়া গেল। বইটির নাম Sayings of Prophet। বইটি ছিল টলেস্টরের খুবই প্রিয়।এটি সবসময় তিনি সঙ্গে রাখতেন। সময় পেলেই পড়তেন। বইটিতে হযরত মোহাম্মদ (দঃ)’র বিভিন্ন সময়ে বলা ইন্টারেস্টিং কথাগুরো গ্রন্থিত। আমি বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই, আমাদের কয়জন বইটি পড়েছেন? টলেস্টয় যে বইটি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, সেই বই আমাদের প্রত্যেকের একবার কী পড়া উচিৎ নয়? (সূত্র হাসান হাফিজের লেখা, ‘হুমায়ুন আহমদ তাঁর স্পষ্টবাদিতা’ লেখা দ্রঃ)

যিনি পথকলি জায়েদকে লালন পালন করে যুদ্ধের সেনাপতি (একটি যুদ্ধের) করতে পারেন, দাসীকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারেন,বিধবাকে উন্মুল মোমিনের মর্যাদা অধিষ্টিত করতে পারেন, কৃষ্ণাঙ্গ হযরত বেলাল (রা:)কে সহচরের মর্যাদার আসনে বসাতে পারেন তাঁর নাম ‘মুহম্মদ’ (দঃ)। তৎকালে এ ধরনের মহান কাজ করা দুনিয়ার বুকে সম্ভব ছিল না, অথচ একজন রাষ্ট্রনায়ক ও সেরা ধর্ম প্রবর্তক হয়ে এ ধরনের অহিংস কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন সর্বপ্রথম সকল ধর্মের মানুষের সেবক তরপর ধর্মপ্রচারক। সকল ধর্মের মানুষের কল্যাণের কারণে ধর্ম প্রচারকের পূর্বেই তিনি ‘আল আমিন’ উপাধী পেয়েছেন। নবুয়ত প্রকাশের পূর্বে তিনি সকল মতের মানুষের কল্যাণে সামাজিক সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বধর্মের মানুষের কল্যাণ ব্যতীত অমুসলমানদের দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব হতো না। তিনি মক্কায় ধর্ম প্রচারক আর মদিনায় ছিলেন রাষ্ট্র নায়কও।

মদিনায় যখন হিজরতের পর রাষ্ট্র নায়ক নির্বাচিত হন তখন মদিনায় মুসলমানের সংখ্যা ছিন মাত্র ২ শত জন। যা মদিনার জনসংখ্যার কম বেশী ৬/৭ ভাগ। তিনি ছিলেন অমুসলিম ভূখণ্ডের মুসলিম রাষ্ট্রনায়ক।সংখ্যালঘু মুসলমানদের নবীকে কেন সংখ্যাগরিষ্ঠ অমুসলমানরা রাষ্ট্রনায়ক করলেন? কারণ তিনি সর্বধর্মের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।মক্কার কাফিরগণ প্রিয় নবী (দঃ) কে জন্মভূমি হতে বিতাড়ন করেছেন সে কথা সবাই উচ্চস্বরে উচ্চারণ করেন কিন্তু মদিনার কাফিরগণ তাঁকে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচিত করেছেন সে কথা কেউ বলতে চায় না। নবী পাক (দঃ)’র মহামানবতার পথ অনুসরণ করে আউলিয়া কেরামগণ দুনিয়াব্যাপী ধর্ম প্রচারের আগে সর্বধর্মের মানুষের সেবা-কল্যাণ করেন। এই মানবতার সেবায় যুক্ত হয়ে মানুষ দলে দলে আউলিয়া কেরামের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

প্রিয় নবী (দঃ) দুনিয়ার মানুষের নিকট যে ক্ষমা আদর্শ রেখে গেছেন তা অন্যকোন মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কাফির সর্দার আবু সুফিয়ান ছিলেন ইসলাম ও মহানবী (দঃ)’র চরম শত্রু। যার নেতৃত্বে শত শত সাহবী শহীদ হন। নবী পাক (দঃ)’র প্রাণপ্রিয় চাচা হযরত আমির হামজা (রা:) কে যে ব্যক্তি টুকরো টুকরো করে শহীদ করে। আবু সুফিয়ানের মত যে সব কাফির মুসলমানদের উপর চরম অমানুষিক নির্যাতন করেছিল মক্কা বিজয়ের পর প্রিয় নবী (দঃ) তাঁদের ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন,’আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত। আমি তোমাদের সাথে সেই কথাই বলছি, যে কথা হযরত ইউসুফ (আ:) তাঁর ভাইদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। যাও তোমরা সবাই মুক্ত’।
হযরত ইউসুফ (আঃ) নিজ ভাইদের ক্ষমা করেছিলেন, এই ভাইয়েরা আবু সুফিয়ানের মত চরম জুলুম করেনি। আবু সুফিয়ান তো আপন ভাই ছিলো না, ছিলো হত্যাকারী ও নির্যাতনকারী। তাদের ক্ষমা করা কোন সাধারণ বিষয় নয়।

এ ধরনের ক্ষমা ইতিহাস দুনিয়াতে আজ পর্যন্ত কেউ রচনা করতে পারেননি। শুধু ক্ষমা নয়, এ ধরনের হত‍্যাকারী একটি মাত্র বাক্য উচ্চারণ করার সাথে সাথে প্রিয়নবী (দঃ)’র সহচর, সাহাবায়ে রাসুল হয়ে যান। সেই মর্যাদাপূর্ণ বাক্যটি হলো; ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ।’ একটি বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে প্রিয় নবী (দঃ) সাহাবী হয়ে যাওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দ:) যুদ্ধবন্দীদের প্রতি যে আচরণ করেছেন, বর্তমান ইউরোপ আমেরিকার রাষ্ট্রগুলো সে ধরনের আচরণ করা চিন্তাই করা যায়না। মুসলমানের নবী (দঃ)’র নির্দেশে সাহাবীরা না খেয়ে যুদ্ধবন্দীদের খাওয়াতেন। ভালো খাওয়াটা যুদ্ধবন্দীদের হাতে তুলে দিতেন। বদরের যুদ্ধে ৭০ জন নিহত, ৭০ জন বন্দী হয়। বন্দীদেরকে ১০ জন মুসলমানকে শিক্ষিত করার বিনিময়ে মুক্তি দিয়ে ছিলেন। আধুনিক যুগে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি পালন করা হয়। অথচ এ ধরনের কর্মসূচি ‘বন্দী মুক্তির বিনিময়ে শিক্ষা’ চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মহানবী (দঃ) পালন করেছিলেন।

মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ (দঃ) ছিলেন ধৈর্যের পাহাড়। ছোটবেলা হতে তাঁর ধৈর্য গুণের বিকাশ ঘটতে থাকে। এতিম অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে মা ও দাদাকে হারান। বাল্যকাল হতে কঠিন পরিশ্রম করে উপার্জন করতে শিখেন। জীবনটা শুরু হয় ধৈর্য্যের অবলম্বন দিয়ে। তিনি কঠিন বিপদ এবং বাধার মধ্যে দৃঢ়তার সাথে ধৈর্যধারণ করতেন। আবার ঠিক তেমনি বিজয়ের সময় ধৈর্যধারণ করতেন। যখনই কোন বিজয় তাঁর পদচুম্বন করেছে, তখন তিনি আত্মসংবরণ করতেন। আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় করতেন। দুনিয়ার সেরা সেরা ব্যক্তি, মনীষী, নেতার পাবলিক লাইফ এক রকম আর প্রাইভেট লাইফ হয়ে থাকে অন্য রকম। কিন্তু প্রিয় নবী (দঃ)’র ব্যক্তি আর সামাজিক জীবনে কোন পার্থক্য বিন্দু মাত্র ছিল না।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে অহংকার ও দাম্ভিকতায় মাতোয়ারা হয়ে যায়। নবী পাকের জীবনে এ ধরনের কোন দম্ভ অহমিকার বিন্দু মাত্র প্রকাশ ঘটেনি। হযরত আনাস (রা:) ছোটকাল হতে প্রিয় নবী (দঃ)’র কাছে থাকতেন। হযরত আনাস (রা:) বর্ণনা করেছেন, ‘আল্লাহর কসম করে বলছি, দীর্ঘ দশ বছর আমি প্রিয় নবী (দঃ)’র যত খেদমত করেছি, তার চেয়ে বেশী খেদমত আমি উনার হতে পেয়েছি। দীর্ঘ দশ বছরে তিনি আমার কোন কথা ও কাজে বিরক্ত প্রকাশ করেননি। এই হলো নবী (দঃ)’র আদর্শ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিপ্লব উদ্যানে পুস্পস্তবক অর্পণকালে ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে এ দিবসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব আমাদের অনুপ্রেরণা। এদিনে আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন যাত্রা শুরু করেছি। সিপাহি জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দিনের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর ষোলশহর ২ নং গেইটস্থ শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত বিপ্লব উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভিন দেশের আধিপত্য মোকাবেলায় ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করতে হবে। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে এ দেশের মাটি ও মানুষকে মুক্ত করতে জিয়াউর রহমানের যুগ শ্রেষ্ঠ ভূমিকার কথা স্মরণ করে এদেশের সিপাহী জনতা ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর বিপ্লব এদেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে ৭ নভেম্বরের বিপ্লবী চেতনা কিশোর তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সিটি প্রশাসক বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপকার। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি জানতেন, এ ঘোষণার কারণে তাঁকে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তারপরও নিজের পরিণতির কথা চিন্তা না করে তিনি দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পক্ষে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশ পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে যায় এবং জনগণের ক্ষমতায়নের সূচনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনা ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আজকের দিনে আমাদের শপথ হোক, শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ও আদর্শকে ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মো. খোরশেদুল আলম, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু সহ চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, ম্যাজিস্ট্রেবৃন্দ, শাখা প্রধানবৃন্দ, বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সিবিএ নেতৃবৃন্দ।

নোয়াখালীতে সংস্কার হচ্ছে রেলপথ, চালু হচ্ছে নতুন ট্রেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালী অঞ্চলের রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর আওতায় লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণকাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম ও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

জনপ্রশাসন সচিব বরেন, নোয়াখালী ও চৌমুহনী অঞ্চলের স্টেশনগুলোর প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়ায় যাত্রীদের ওঠা-নামায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্ল্যাটফর্মের বিপরীত পাশে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি নতুন অংশ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রসারিত প্ল্যাটফর্ম চালু হলে একযোগে ১৬টি কোচবিশিষ্ট ট্রেনের যাত্রীরা নিরাপদে ওঠানামা করতে পারবেন। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের মেঝে পেভিং করা, অ্যাকসেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করা এবং স্টেশন ভবন ও শেডের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। নোয়াখালী বাসীর যাতায়াত সুবিধার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও নতুন বরাদ্ধকৃত আন্তঃনগর সুবর্ণচর এক্সপ্রে খুব শীঘ্রই চালু করা হবে।

রেলপথ আধুনিকায়নের বিষয়ে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্বাঞ্চল) তানভীরুল ইসলাম বলেন, লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত ৪৮-৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজের দরপত্র ৫ নভেম্বর আহ্বান করা হয়েছে। এর আওতায় ক্ষয়প্রাপ্ত রেলপাত ও স্টিল স্লিপার পরিবর্তন, নতুন পাথর (ব্যালাস্ট) স্থাপন, ফিটিংস আধুনিকায়ন, ব্যাংক প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলোর মানোন্নয়ন করা হবে। ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিটারগেজ ইঞ্জিনের (লোকোমোটিভ) কিছুটা সংকট থাকায় নতুন ট্রেন পরিচালনা আপাতত আটকে আছে।

তবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ (প্রতিটি প্রায় ৫০ কোটি টাকা) ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এসব ইঞ্জিন ও নতুন কোচ বহরে যুক্ত হবে। ইঞ্জিন ও কোচ হস্তান্তরিত হলে বর্তমানে চলন্ত ‘উপকূল এক্সপ্রেস’-এর বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর কাজ পুরোপুরি প্রস্তুত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সচিব।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ