চাই সত‍্য জ্ঞান —————————————-

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী —————————————-

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমরা এখন একুশ শতকে সূর্য উদয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। এ যুগ প্রচণ্ড জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তির ক্ষমতার বিকশিতের যুগ। প্রতিযোগিতার যুগ। আগে প্রতিযোগিতা হতো দেশের একটি অঞ্চলে।সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা হতো জাতীয় পর্যায়ে।এ যুগে কেউ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সারা পৃথিবীর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। কারণ জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি অর্থনীতির বাজার বিশ্বে মাত্র একটি, দুটি নেই।

এখনো আমরা বুঝতে চাই না,পরীক্ষার খাতার প্রতিযোগিতায় বেশি নাম্বার পেলাম কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে সফল বলা যাবে না। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফার্স্টবয়দের নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি হয় কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় যাঁরা সফল হয়েছে তাদের নিয়ে তেমন কিছু হয় না। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনকেও এ বিষয়টি পীড়া দিয়েছে। যা তিনি তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘দ্য কান্ট্রি অব ফাস্ট বয়েজ’ এ উল্লেখ করেছেন। ফাস্ট বয় কিন্তু অমর্ত্য সেন কখনো হয়নি। পরীক্ষায় পাস করা আর জীবনের পরীক্ষা পাস হওয়া এক বিষয় নয়।

পাঠ পরবর্তী জীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ‍্যায়। সে সময় সম্পর্কে যে উদাসীন সে ব‍্যক্তি সফল মানুষ হতে পারে না। আজকাল পত্রিকায় দেখতে পাই, পরীক্ষার নাম্বারের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের জঘন্য সিদ্ধান্ত ‘আত্মহত্যা’র পথ পর্যন্ত গ্রহণ করছে।
বিশ্বের সেরা ধনী বিল গেটস বলেছেন, ক্লাসের যে ছেলেটি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম হতো সে আমার মাইক্রোসফ্ট কোম্পানীর ভাইস প্রেসিডেন্ট। আর যে ছেলেটি (বিল গেটস) এ সবের অত্যাচারে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিল সেই ছেলেটি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

বিল গেটস কিন্তু হার্ভার্ডে কয়েকটি বিষয়ে ফেল করেছিল। যারা পাস করে তাদের অনেকই আজ তাঁর প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত। আমাদের মনে রাখতে হবে বিল গেটস কিন্তু ধন কুবের হওয়ার জন্য সফটওয়ার আবিষ্কার করেনি। পৃথিবীটাকে সহজ করার জন্য তিনি কাজটি করেছিলেন। সে কাজটিই তাঁকে পৃথিবীর সেরা ধনীতে পরিণত করেন।

সাহিত্যিক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ‘সফলতা নয়, জীবনকে সার্থক করো। ফুলের রং সফলতা, সৌরভ হলো সার্থকতা, অনেক জীবন শিক্ষার অর্থে সফল হতে দেখি কিন্তু সার্থক হয় না। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেছেন, ‘কুমড়া ফুল থেকে ফল হয়, এটা হলো সফলতা, আর গোলাপ ফুল থেকে ফল হয় না, বীজ হয় না, কিন্তু তার আছে সৌন্দর্য ও সৌরভ। এটা হলো সার্থকতা।

বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ছিলো,হয়তো ভবিষ‍্যতে এগিয়ে যাওয়ার কাতারে যাবে।একসময় এদেশের মানুষের মাথাপিছু আরো বাড়তে পারে।বহু উন্নয়ন একদিন ঘটতে পারে।সে উন্নতিকে প্রকৃত উন্নতিতে রূপ দিতে না পারলে আমরা জাতি হিসেবে টিকে থাকবো কী ভাবে! আমরা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অনকে দেশ দেখেছি। বর্তমান যুদ্ধরত সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, লিবিয়ার মাথাপিছু আয় অনেক বেশি ছিল।

আজ কিন্তু রাষ্ট্রগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত।আমাদেরও একই অবস্থা হবে কিনা তা বলা যায় না।আমাদের উন্নতিকে মানসিকতার উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে না পারলে, পিছিয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে মানসিক ও মানব সম্পদ উন্নয়ন জরুরি। মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে হলে মানবিক মূল্যবোধের উন্নতি করতে হবে। দৃষ্টি রাখতে হবে বাহ‍্যিক উন্নতিকে যেন মনুষ্যত্বের অবনতির দিকে নিয়ে না যায়।

আজ শিক্ষার অভাব নেই,দীক্ষার অভাব আছে। শিক্ষার সাথে দীক্ষার সমন্বয় না ঘটলে জীবন সফল হয় না।
শিক্ষা গতি আনে, দীক্ষা আদর্শ শিখায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে প্রচুর কিন্তু দীক্ষাগুরুর আছে অভাব। মানুষ গড়ার শিল্পী আজ কয়জন আছে।এই শিল্পীরা আজ ছাত্র কতৃক অপমানিত হয়।আমাদের আর বাকি থাকলো কী!
আধুনিক যুগের সেরা বিজ্ঞানী আলভার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, জীবনটা শিক্ষার জন্য, যে দিন কিছু শিখতে পারি না সেটা আমার জীবনের অংশ নয়।

মহানবী হয়রত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগেই বলেছিলেন, এমন কোনদিন নেই যেদিন আমি নতুন কিছু শিখিনি। একব্যক্তি হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)’র নিকট জানতে চাইলেন, আপনার বয়স কত? তিনি জানালেন, দুই বছর। তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, কেন আপনি মিথ্যা বলেছেন? জবাবে ঈমাম সাহেব বললেন, আমি ঈমাম জাফর সাদিক (রা.)’র সান্নিধ্যে এসেছি দুই বছর। এই দুই বছর আমার জীবন, বাকী সময় আমার জীবন নয়।

প্রকৃত শিক্ষা আত্মার,আধ্যাত্মিকতার। তিনি তা জাফর সাদিক (রা.)’র নিকট পেয়েছিলেন। মহাকবি মিল্টন বলেছিলেন, ‘প্রকৃত শিক্ষা শরীর, মন, আত্মার সমন্বিত উন্নত করে’।প্রকৃত পক্ষে যে শিক্ষা, শরীর, মন, আত্মার উন্নতি করে না তা জাতিকে উন্নত করতে পারে না।যে মেধাবীদের কারণে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয় সেটি কুশিক্ষা।কোন অশিক্ষিত মানুষের কারণে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। পৃথিবীর কোথাও হয় না।

প্রকৃত আধ্যাত্মিক আলোকিত শিক্ষা যাদের নেই, তাদের কারণেই দেশ বিপদগ্রস্ত হয়।রাজপথের আন্দোলনে পরিবর্তন আনে।তার সাথে দরকার ভিতরের পরিবর্তন ।ভিতরটা পরিবর্তন করে দিলে বাইরেরটা পরিবর্তন হয়ে যাবে। মন হলো ‘পাওয়ার পয়েন্ট’। এই পাওয়ার পয়েন্ট পরিবর্তন করলে সমাজ পরিবর্তন হবে।

মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘শরীরের মধ্যে এমন একটি অংশ আছে যা পরিশুদ্ধ হলে পুরো মানব শরীর পরিশুদ্ধ হয়ে যায়’। গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, ‘চিত্ত (মন) হতে চেতনা, চেতনা হতে কর্ম’। চিত্ত যদি পরিশুদ্ধ না হয় সুস্থ চেতনা জাগ্রত হবে না।

সুস্থ চেতনায় সুন্দর কাজ সম্পাদন হয়। সুন্দর কাজ সমাজ ও দেশ সুন্দর করে। কথায় বলা হয়, ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি’। প্রকৃত পক্ষে আত্মার শিক্ষাই পরিশুদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ করতে পারে। আমরা পরিবর্তন চাইলে আগে নিজের মনের পরিবর্তন করতে হবে। মনের পরিবর্তন ছাড়া সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। এ পৃথিবী নামক গ্রহটি তারাই পরিবর্তন করেছে যা আগে নিজকেই পরিবর্তন করেছে।

আমরা পরিবর্তনের জন্য কেমন শিক্ষা চাই। প্রাণের শিক্ষা, হৃদয়ের শিক্ষা। মনীষী শরৎচন্দ্র বলেছেনে, ‘শিক্ষা মানে লেখাপড়া জানা নয়, জ্ঞানের প্রসার হৃদয়ের কালচার’। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘আমাদের শিক্ষা যেন তথ্য না দেয় সত্যও’। সত্য জ্ঞান আলোকিত জ্ঞান। যে জ্ঞানই আনতে পারে প্রকৃত মুক্তি।
লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম ওয়াসা সাড়ে দশ হাজার নষ্ট ও চুরি হওয়া মিটার পরিবর্তন করছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার গ্রাহকদের অচল/নষ্ট ও চুরি হওয়া মিটার তথা গড় বিল জারী হওয়া মিটারসমূহ পরিবর্তনের জন্য গত ১৭সেপ্টেম্বর ২০২৬তারিখে এলটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করা হয়। এপ্রেক্ষিতে ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মিটার প্রতিস্থাপন কাজ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় সাড়ে দশ হাজার মিটার পরিবর্তন করার কাজ চলছে। গ্রাহক সেবা সহজীকরণ, গড় বিলের অভিযোগ এবং সর্বোপরি রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতার স্বার্থে এই অচল/নষ্ট ও চুরি হওয়া মিটার প্রতিস্থাপন কাজ হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। পানির মিটার নষ্ট/অচল বা চুরি হলে অনেক সময় গ্রাহকদের গাফেলতি বা বিলম্বে মিটার পরিবর্তনের ফলে নিয়ম অনুযায়ী ওয়াসা গ্রাহকের কাছে গড় বিল জারী করে। গড় বিল জারীর ফলে নিয়মিত বিলের সাথে পার্থক্য পরিলক্ষিত হলে গ্রাহক বিল বেশি আসছে অভিযোগ, ওয়াসার বিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। এই অহেতুক ঝামেলা ও গ্রাহকদের নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি চিন্তা করে চট্টগ্রাম ওয়াসা সাড়ে দশ হাজার গ্রাহকের অচল/নষ্ট ও চুরি হওয়া মিটার প্রতিস্থাপন করছে।

০৪ নভেম্বর ২০২৬ (বুধবার) চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম সকাল ১১:০০ টায় হালিশহর বড়পোল এলাকায় সরেজমিনে মিটার প্রতিস্থাপন কাজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তিনি মিটার প্রতিস্থাপন কাজের প্রয়োজনীয়তা, গ্রাহকদের সমস্যা ও মিটার সংক্রান্ত অভিযোগ, প্রতিকার নিয়ে গ্রাহকদের সাথে কথা বলেন। গ্রাহকগণ মিটার প্রতিস্থাপন কাজের ফলে গড় বিলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর থেকে পানি সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নতির চেষ্টা ও রাজস্ব আদায়ে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য গ্রাহকগণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলমকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সরেজমিনে মিটার প্রতিস্থাপন কাজ পরিদর্শন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা সম্মানিত গ্রাহকদের সেবা সহজীকরণের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর থেকে গড় বিল, বেশি বিল, ভুতড়ে বিল এসব অভিযোগ নিয়ে গ্রাহকগণ স্বশরীরে বা লিখিতভাবে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। এসব সমস্যার মুল কারণ বের করলে শেষ পর্যন্ত দেখা যায় গ্রাহকের মিটার নষ্ট/অচল বা চুরি হয়ে গিয়েছে। গ্রাহক মিটার প্রতিস্থাপনে বিলম্ব বা অনেক সময় অনীহা প্রকাশ করায় চট্টগ্রাম ওয়াসা আইন অনুযায়ী গড় বিল জারী করতে বাধ্য হয়। গ্রাহকদের সুবিধার্থে সাড়ে দশ হাজার মিটার চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিস্থাপন করে দিচ্ছে। এর ফলে সম্মানিত গ্রাহকগণ মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল পাবেন এবং ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ থেকে আমরাও রক্ষা পাবো। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে পানির মিটারের সঠিক রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল জারি হলে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে। একাজে গ্রাহকগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

সরেজমিনে মিটার প্রতিস্থাপন কাজ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) মিজ্ শারমিন আক্তার, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মিজ্ সাজিয়া পারভীন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে, রাজস্ব কর্মকর্তা এরফানুল করিম সাজ্জাদ ও সংশ্লিষ্ট মিটার পরিদর্শক।

চুরির বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হুমায়ন কবির (৬০) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার ২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া এলাকায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত হুমায়ন কবির কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী চরদরবেশ ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের আলী আহম্মদের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তার বাড়ি সোনাগাজীতে হলেও তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।

নিহতের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, তারা সোনাগাজীর চরচান্দিয়া গ্রামে বসবাস করলেও তাদের ভোটার ও অন্যান্য কার্যক্রম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। প্রায় ১৫-১৬ দিন আগে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের জিন্না মাঝি বাড়ির মো. ইলিয়াছের (৫৫) ছেলে নূর আমিনের (৩০) পাম্প মেশিন ভাড়া নিয়ে তাদের একটি পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হয়। ওই সময় নূর আমিন তাদের তেল ও মাছ চুরি করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল হক দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকেলে তার বাবা প্রতিবেশী আব্দুস ছাত্তারের সঙ্গে দাড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় ইলিয়াছ ভুল বুঝে মনে করেন, তার বাবা তাদের নিয়ে কথা বলছেন। তাৎক্ষণিক ইলিয়াছ তার দুই ছেলে নূর আমিন ও শুক্কুরকে ফোন করে সেখানে ডেকে আনেন। পরে তারা কয়েকজন মিলে লোহার রড, ধারালো কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার বাবার ওপর হামলা চালান।

মিজানুর রহমানের অভিযোগ, হামলাকারীদের একজন লোহার রড দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করেন। আরেকজন ধারালো কিরিচ দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি সরে যান। এতে তার মুখের বাম পাশে ও বাম চোখের নিচে দুটি স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তার পকেটে থাকা মহিষ বিক্রির বায়না বাবদ ১৫ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি ও বমি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তাকে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনাটি ফেনীর সোনাগাজী থানার আওতাধীন এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি সেখানকার পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনিও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ