চট্টগ্রাম-৯ আসন ভোটারের সমর্থন আদায়ের লড়াইয়ে ব্যাস্ত ধানের শীষের সুফিয়ান, দাঁড়িপাল্লার ফজলুল।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনে জয়ের জন্য দিনরাত মাঠ-ঘাট, অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। অন্যান্য আসনের মতো চট্টগ্রামের এ আসনটিতেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটারের বিবেচনায় আছেন বিএনপি মনোনীত আবু সুফিয়ান এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. একেএম ফজলুল হক। মূল লড়াইয়ের আগে ভোটারের সমর্থন আদায়ের লড়াইয়ে উভয় প্রার্থীই যেন সমানে-সমান! গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণায় কেউ যেন পিছিয়ে না পড়েন, উভয়ের প্রাণান্ত চেষ্টা নজরে পড়ছে যে কারও। আবু সুফিয়ান না-কি একেএম ফজলুল হক, কাকে বেছে নেবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভোটারেরা, না-কি কোনো চমক অপেক্ষা করছে, সেটা জানা যাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর।
চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসন। শহরের মূল পয়েন্টকে ঘিরে এ আসনের অবস্থান হওয়ায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত। এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে বিশেষ মর্যাদার বিবেচনা করা হয়, যার কারণে মূল রাজনৈতিক দলগুলোর মরিয়া চেষ্টা থাকে নিজেদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার। প্রার্থীও মরিয়া হয়ে মাঠে নামেন, অতীত নির্বাচনগুলোর ইতিহাস তাই বলে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আছেন মোট ১০ জন। এদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া প্রচারে ঘাম ঝরাচ্ছেন কাঁচি মার্কায় বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থী শফি উদ্দিন কবির আবিদ ও চেয়ার প্রতীকে ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ। গণসংযোগ, মিছিল-পথসভার মধ্য দিয়ে এই দুই প্রার্থীও ভোটারদের আলোচনায় এসেছেন।প্রার্থীদের মধ্যে আরও আছেন- নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদার, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ হাসান মারুফ, জনতার দলের হায়দার আলী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস শুক্কুর, জেএসডি’র আবদুল মোমেন চৌধুরী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন।

জানা গেছে, নগরীর কোতোয়ালী, চকবাজার এবং বাকলিয়ার মোট ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসনের অবস্থান। এর মধ্যে শিক্ষিত-সচেতন নাগরিকদের আধিক্য আছে কোতোয়ালী-চকবাজার অংশে আর বাকলিয়ায় আছেন শ্রমজীবী ও ভাসমান মানুষের আধিক্য। আবার আসনটিতে সংখ্যালঘু আছেন মোট ভোটারের অন্তত ৩৫ শতাংশ। প্রায় সমসংখ্যক শ্রমজীবী-ভাসমান মানুষ আছে বাকলিয়ায়।

এ আসনে মোট ভোটার সোয়া ৪ লাখের মতো। এর মধ্যে দেড় লাখেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার বলে ধরা হয়। বাকলিয়ায় আছে সোয়া লাখের মতো ভোটার।
রাজনীতি সচেতন বাসিন্দাদের মতে, বাকলিয়া বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, তবে জামায়াতের সমর্থকের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। এবারের প্রেক্ষাপটে বাকলিয়ার ভোট দুই ভাগে ভাগ হবে। সেক্ষেত্রে ভোটে জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হবে সংখ্যালঘুরা। এ বাস্তবতা মাথায় রেখে ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দুজনই সংখ্যালঘুদের কাছে টানার চেষ্টায় যেমন আছেন, তেমনি চষে বেড়াচ্ছেন বাকলিয়ায়ও।

বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান একেবারে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতা। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সামনের কাতারে আছেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদেও ছিলেন। তিনি মূলত নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা, যেটি চট্টগ্রাম-৮ আসনের মধ্যে পড়েছে। ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের আমলে তিনি দুই দফায় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি এবার তাকে ওই আসন থেকে সরিয়ে এনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছে।

আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও বিএনপির দলীয় কার্যালয় ঘিরে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরব সুফিয়ান অবশ্য এ আসনের ভোটারদের মধ্যেও পরিচিত মুখ। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে পাশে পাওয়ায় নির্বাচনের মাঠে বাড়তি জোর পাচ্ছেন সুফিয়ান।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী একেএম ফজলুল হক চিকিৎসক হিসেবে চট্টগ্রামে পরিচিত মুখ। পারিবারিকভাবেও তার ভালো পরিচিতি আছে। এলাকায় সজ্জন মানুষ হিসেবেই তাকে লোকজন চেনে। রাজনীতির মাঠে অত বেশি পরিচিত না হলেও সমাজসেবার কারণে তার আলাদা একটি ভাবমূর্তি আছে। তবে আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতায় প্রথম দফায় তার মনোনয়ন বাতিল হলে তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। পরে অবশ্য প্রার্থিতা ফেরত নিয়ে এসে মাঠে নেমে গেছেন জোরশোরে।

মাঠের ‘পোড়খাওয়া’ নেতা আবু সুফিয়ান এবং ‘ভদ্রলোক’ ফজলুল হককে ঘিরেই আবর্তিত চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভোটের মাঠ। প্রচারে নেমে মাঝেমধ্যে অবশ্য দুজন দুজনের দিকে খানিকটা তীর ছুড়ছেন। যেমন- ফজলুল হকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আমলের কোনো মামলা নেই। অথচ সুফিয়ানের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা। সুফিয়ানের সমর্থকরা যখন ভোটারের কাছে সেটা তুলে ধরে সহানুভূতি চাচ্ছেন, তখন ফজলুল হক সুফিয়ানের ‘আয়ের উৎস’ জানতে চেয়ে কামান দাগেন। জবাবে সুফিয়ান তার মার্কিন নাগরিকত্ব ও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আয় বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ করেন।

তবে এসব কথার যুদ্ধ ছাপিয়ে উভয়ের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিই ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানা; এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে সুফিয়ানের প্রচার। তবে গণসংযোগে যেসব অলিগলিতে যাচ্ছেন, সেখানকার বাসিন্দাদের সমস্যা, অভাব-অভিযোগ শুনে সমাধানের আশ্বাসও মিলছে সুফিয়ানের কাছ থেকে। এক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের চেয়ারে আছেন বিএনপি নেতা শাহাদাত, যা নিয়ে ইতোমধ্যে এনসিপি অভিযোগ তুলেছে।
আবু সুফিয়ান বলেন, আমাদের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব আছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে। আরেকটা হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে নানা সমস্যা আছে। যেমন-জলাবদ্ধতা। এটা সমাধানে জোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাকলিয়ার অনেক এলাকা অনুন্নত রয়ে গেছে। সেখানে মানুষের নানা অভিযোগ আছে। আমি সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। ভোটারদের কাছে আমার বার্তা হচ্ছে; আমি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি, আমি সেটাকে পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমানত হিসেবে গ্রহণ করব।

ক্ষমতার দাপট দেখানো, মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং; এসব চলতে পারবে না।অন্যদিকে ফজলুল হক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এলাকায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, চাঁদাবাজি প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাকলিয়ায় গণসংযোগে গিয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি নির্বাচিত হতে না পারলেও বাকলিয়ায় ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল করে দেবেন। ফজলুলের এই প্রতিশ্রুতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বাকলিয়াকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা, মাদক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাসও দিচ্ছেন। ফজলুল হক প্রতিদিনই চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিভিন্ন অলিগলিতে একাধিক মিছিল, পথসভা করছেন। পুরো এলাকাকে শান্তিতে বসবাসের জন্য নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলা, তরুণদের কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা সহজ ও দুর্নীতি করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রচারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবহৃত দুটি মোবাইল চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে আ’লীগ নেত্রীর উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নুর নাহার নামে ওই নারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশের ভাষ্য, তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন কিংবা অস্বাভাবিক কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নুর নাহারের মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে সন্দেহ পুলিশের। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মাঝিরঘাট এলাকার নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছিলেন, নুর নাহারের বয়স প্রায় ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছেন। স্বামী আগেই মারা গেছেন। ৪৫ দিন আগে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বড় ছেলে মারা যান। ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকতেন। ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বাবার বাড়িতে ছিলেন। তিনি পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।

সদরঘাট থানার ওসি একরাম উল্লাহ বললেন, মহিলার বাড়ির সামনে-পেছনে দুই গেট। পেছনের গেটের সঙ্গে লাগোয়া তিনটি ভাড়া ঘর আছে। সেগুলোতে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক ও কয়েকজন পোশাককর্মী ভাড়া থাকেন। উনার ছোট ছেলে কেএসআরএম গ্রুপে চাকরি করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি অফিসে চলে যান। সন্ধ্যার পরও পেছনের গেট খোলা দেখে ভাড়াটিয়া কয়েকজন বাসায় প্রবেশ করেন।

তারা মহিলার বেডরুমের দরজাও খোলা পান। ভেতরে গিয়ে দেখেন মহিলা বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে বলে জানালেন ওসি একরাম। বললেন, শরীরে আমরা কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছুই পাইনি। আমাদের কাছে নরমাল ডেথ বলে মনে হয়েছে। তবে উনার দুইটা মোবাইল মিসিং। এজন্য আমাদের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। পুলিশ নুর নাহারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ছেলে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন বলে ওসি জানালেন।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ বছরের পথচলা: ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, মানবকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে প্রত্যেক স্তরে সৎ মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে আর্দশ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে ১৯৭৮ সালের ২৭শে অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার হাতে গড়া যুবদল আজ ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছরে পদার্পন করছে।


এদেশের যুবসমাজের প্রাণের সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। যুব, ঐক্য ও প্রগতির মূলমন্ত্রে যুবদল সগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে আপন মহিমায়।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে যুবদলের প্রথম কমিটি গঠন করা হয়। এর পর আবুল কাশেমকে সভাপতি ও সাইফুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়।

১৯৮৭ সালের ২৩ মার্চ যুবদলের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ১৯৯৩ সালের ৮ অক্টোবর কাউন্সিলে আব্বাস-গয়েশ্বর আবারো নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে যুবদলের কাউন্সিলে বরকত উল্লাহ বুলু সভাপতি ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাইফুল আলম নীরব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন।

এরপর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া কমিটিতে সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঠিক দিক নির্দেশনায় সারদেশে যুবদল আজ যুবসমাজের আস্হার প্লাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। একটি সুতায় গাঁথা হয়ে উঠেছে, সকল ইউনিট একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করে়ছে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। এই সংগ্রামের পথে অনেকের জীবন গেছে, অনেকে আহত হয়েছে, আর কতজন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে—এই দুঃখের চিত্র আমাদের হৃদয়ে গভীর আঁচড় কেটে গেছে। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৭৯ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন।

আহত হয়েছেন অসংখ্য যুবদল নেতা-কর্মী। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য জাতীয়তাবাদী যুবদলের জিয়ার সৈনিকেরা। গায়েবি মামলা আর জেলহাজতের ইতিহাস তো যুবদলের প্রতিটি নেতা-কর্মীর ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের দুঃসহ স্মৃতি। অতীতের সকল আন্দোলন সংগ্রামে যুবদল সন্মুখ যোদ্ধা হিসেবেই রাজপথে ছিলো।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন সংগ্রামে যুবদলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে জীবন দিয়েছে। বর্তমান সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি’র নেতৃত্ব জাতীয়তাবাদী যুবদল সারাদেশের প্রত্যেক ইউনিটেই সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের ভালো উদ্যোগ জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তির প্রপাগাণ্ডার বিরুদ্ধেও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংবাদ নির্বাচনে যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দিন-রাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। নির্বচানে

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি )। দেশ পুনর্গঠনে কাজ করে যাচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে । আমাদের সহযোদ্ধারা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছে, কিন্তু তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদেরকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দেশগড়ার নতুন যুদ্ধে তাদের চেতনা ও আদর্শের বিজয় হবে, এবং তারা সেই জয় অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তি ও পলাতক ফ্যাসিস্ট লীগের বিরুদ্ধে যুবদলের সংগ্রাম চলবে। সবার আগে বাংলাদেশ হ্নদয় ধারণ করে দেশ পরিচালনা করছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে যুবদল নিরবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশবিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে যুবদলের নেতা-কর্মীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

গতো বছর ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুবদলের নেতাকর্মীরা সত্যিকার অর্থে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছেন। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তারা ছুটে গেছেন দূরবর্তী গ্রামে, যেখানে বিপদের মধ্যে নিপতিত মানুষগুলো সাহায্যের জন্য অসহায় হয়ে পড়েছিল। ঝড়, ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস—কিছুরই আমাদের সাহসকে দমাতে পারেনি। কারণ আমাদের সাহসের আঁধার, প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান শিখিয়েছেন কিভাবে অকুতোভয় হয়ে এগিয়ে যেতে হয়। যুবদল সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত, মানবতার সেবায় কখনো পেছনে ফিরে তাকায়নি।

বর্তমানে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে। যুবদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশ্বস্ত হাতিয়ার হয়ে, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি পরিবর্তন আনতে তারা কখনো পিছপা হবে না। তাদের এই যাত্রা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং মানবতার, ভালোবাসার এবং সমতার একটি মহান অভিযাত্রা। জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত কর্মসূচি পালন করবে কেন্দ্রীয় যুবদল। নয়াপল্টনস্হ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় রক্তদান কর্মসূচি এবং ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পও পরিচালনা করা হবে। নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সারা দেশেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হবে পূর্বের ন্যায়।

যুব, ঐক্য ও প্রগতি’র মূলমন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল এগিয়ে যাক আপন মহিমায়, গৌরব ও সাফল্যের পথে।৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সকল নেতা-কর্মীদের জানাই রক্তিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ