চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। অন্যায় বা অনিয়ম কোনো না কোনো সময় প্রকাশ পায়। তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাই। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিষদের কর্মসম্পাদনে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের পুনর্বাসনে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুনর্বাসনে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়েও বিষয়টি তুলে ধরা হবে। জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনওদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

সভার শুরুতে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে সভা শুরু হওয়ায় ভবিষ্যতে সময়ানুবর্তিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে কর্মকর্তারা সভায় অংশ নিতে আসেন। তাই নির্ধারিত সময়েই সভা শুরু করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনওরা মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

তাঁরা জনগণের সবচেয়ে কাছে থেকে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একইসঙ্গে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইউএনওদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, একজন ইউএনও চাইলে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন। স্থানীয় সমস্যা সমাধান, দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলে উন্নয়নের সুফল দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো.ইখতিয়ার উদ্দীন আরফাত, সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম খালেকুজ্জামান, প্রসানিক কর্মকর্তা আনিছ উদ্দিনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার, সমাজ সেবাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভার শেষ দিকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে চাই। জেলা পরিষদকে একটি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেকোনো প্রয়োজন বা সমস্যায় আমাকে সরাসরি জানাতে পারেন। আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। সভায় যেসব সমস্যা ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম – ঢাকা রেল যোগাযোগ বন্ধ, লাকসামে বগি লাইনচ্যুত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের কয়েকটি বগি কুমিল্লার লাকসামে লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে দিকে লাকসামের নাউটি স্টেশনের আউটারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, এ ঘটনার পর থেকে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

লাকসাম স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। নাওটি স্টেশন পার হওয়ার পরই ট্রেনটির চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনে থাকা যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ট্রেনের সামনের দিকে ছিলাম। হঠাৎ করেই ট্রেন থেমে যায় এবং কয়েকটি বগি কাত হয়ে পড়ে।’

চট্টগ্রামে এনসিপি নেতা তানভীরুলের আত্মহত্যা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে তানভীরুল ইসলাম (২৬) নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা বিষপানে আত্মহত্যা করেন। তিনি বায়েজিদ থানার যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে ঘটনাটি জানাজানি হয় গতকাল বুধবার।

নিহত তানভীরুল ইসলাম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার হিলপাড়া গ্রামের মো. আবু ইউসুফ ও তাসলিমা বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানাধীন টেক্সটাইল এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মইনুদ্দিন জানান, তানভীরুল একজন তালিকাভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলি তার কোমরের একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। শরীরের সেই ক্ষত অসহনীয় যন্ত্রণা দিত তাকে। এটি আর সহ‍্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে তাকে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ