চট্টগ্রামে পরিবহন থেকে চাঁদা নেয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার ৩০ পরিবহন চাঁদাবাজ।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম:

বানিজ্য নগরী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব। গ্রেফতার করা হয়েছে পরিবহন থেকে অবৈধভাবে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ে জড়িত ৩০ ব্যক্তিকে। দুপুরে নগরীর পাঁচটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো নূরুল আবছার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রামে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ৩০ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি জানান, চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথায় যাত্রীবাহী সিএনজি থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ১৩, একই থানাধীন বালুর টাল এলাকা থেকে ৪, পাহাড়তলী থানাধীন হোটেল মেরিন সিটির সামনে থেকে যাত্রীবাহী মিনিবাস থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ৪, আকবরশাহ ও এ কে খান মোড় থেকে ৩ এবং বায়েজিদ থানাধীন অক্সিজেন মোড় থেকে যাত্রীবাহী মিনিবাস ও টেম্পু থেকে চাঁদা আদায়কারী আরও ৬ জনসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪১ হাজার ৫৬৩ টাকা উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারদের উদ্ধৃতি দিয়ে র‌্যাব জানিয়েছে, চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় রিয়াদ এবং বখতিয়ার উদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় অবস্থায় হাতেনাতে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা থেকে মাসিক ১০০০/- টাকা করে ৪লাখ টাকা আদায় করে। ওই চাঁদার অর্থ শাহেদ রানা ও আবুল হোসেন নামের ব্যক্তির কাছে জমা করতেন।

একইভাবে চান্দগাঁও থানার বালুর টাল এলাকায় রুবেল ওরফে ইয়াবা রুবেল এবং মিজানের নেতৃতে চাঁদা আদায় অবস্থায় হাতেনাতে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রতিদিন ৩০ টাকা করে আনুমানিক ২০০টি ট্রাক থেকে ৬ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। চাঁদার টাকা সবুর এবং শফিক নামে ২ ব্যক্তির কাছে জমা করতেন। পাহাড়তলী থানা এলাকায় পেয়ার আহমেদের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় অবস্থায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের টমটম/সিএনজি অটোরিকশা থেকে মাসে ৮০০ টাকা করে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। চাঁদার টাকা খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা দিতেন। আকবরশাহ এবং এ কে খান মোড় এলাকায় নারায়ণ দের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় অবস্থায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা মিনিবাস থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। চাঁদার টাকা সমু এবং নিপু নামে দুই ব্যক্তির কাছে জমা দিতেন।

বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন মোড় এলাকায় সোহেলের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় অবস্থায় হাতে নাতে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা মিনিবাস এবং টেম্পু থেকে মাসিক ৮০০ টাকা করে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। চাঁদার টাকা নূরুল হক পুতু নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা করে বলে র‌্যাবকে জানিয়েছেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার ৩০ জনের মধ্যে ১০ জনের নামে হত্যা, দস্যুতা, লুণ্ঠন, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা গুনল চার প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম। নানা অনিয়মের অভিযোগে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরের ঝাউতলা বাজারের অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝাউতলা বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং অননুমোদিত পণ্য বিক্রির মতো অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব অপরাধে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রয়ের দায়ে বিসমিল্লাহ ফার্মেসি ও নাসির ফার্মেসি ১০ হাজার টাকা করে জারিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইলিয়াস ব্রাদার্সকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৬ হাজার টাকা এবং নরু সওদাগর জেনারেল স্টোরকে অননুমোদিত পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের দায়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এনসিটি-সিসিটি ইজারা ঠেকাতে আসছে কঠোর কর্মসূচী বন্দর রক্ষা কমিটির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ৩১ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। রোববার (১৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই হলে অনুষ্ঠিত নাগরিক কনভেনশন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বন্দর রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় কনভেনশনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।কনভেনশনে সিদ্ধান্ত হয়, ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসংযোগ কর্মসূচি চালানো হবে। এরপর ৩১ আগস্ট বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে।

কনভেনশনে বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু চট্টগ্রামের নয়, এটি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বন্দরের টার্মিনাল কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার আগে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বন্দরের সক্ষমতা ও আয় বাড়ানোর পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, বন্দর ও বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকদের স্বার্থ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। জনগণের সম্পদ জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জাতীয় সম্পদ। এর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। বন্দর রক্ষা কমিটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরদার করবে।

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজস্ব আয়, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কনভেনশনে আরও বক্তব্য রাখেন টিইউসি চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারুল, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ