চট্টগ্রাম অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ বিষয়ক কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আইএলওর কানাডা সরকারের অর্থায়নে প্রগ্রেস প্রকল্প এবং চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (সিডব্লিওসিসিআই) “নারী উদ্যোক্তা ঃ চট্টগ্রাম অঞ্চলে চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ” শীর্ষক একটি বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মশালার আয়োজন করেছে। কর্মশালায় চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ২০০ উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন, যারা পরবর্তীতে একটি ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকে অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হাসান খান, ওয়েল ডিজাইনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পৌতিআইনেন এবং দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিডব্লিউসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলী।
কর্মশালা চলাকালীন আলোচনায় চট্টগ্রাম বিভাগের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল এসএমই এবং শিল্প প্রবৃদ্ধির জন্য জাতীয় নীতি উন্নয়নকে অবহিত করার অন্তর্দৃষ্টি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ডক্টর আমীর মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ সমাজে নারী উদ্যোক্তাদের বহুমুখী গুরুত্ব তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তার গবেষণাপত্রে জোর দেওয়া হয়েছে যে, নারী উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষতা দিলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে, দারিদ্র হ্রাস হবে, মানব সম্পদ উন্নয়ন হবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা যাবে। চিহ্নিত মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য মূল সম্ভাব্য রয়েছে বন্দর এবং বাণিজ্য-সম্পর্কিত ব্যবসা, ম্যানুফ্যাকচারিং, পর্যটন এবং আতিথেয়তা, কৃষি এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, আইটি এবং ডিজিটাল পরিষেবা,স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা এবং হস্তশিল্প।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে উপযোগী ব্যবসার সুযোগের ওপর জোর দিতে বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, “এই অঞ্চলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর সম্পদ এবং কৃষি-পণ্য ও ফল রয়েছে যেগুলি সহজেই বৈশ্বিক ভ্যালুচেইনে একীভূত করা যেতে পারে। আমাদের কেবলমাত্র সঠিক প্যাকেজিং সহ রপ্তানি-মানের পণ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্বব্যাপী আমাদের উদ্যোক্তাদের সংযুক্ত করার দক্ষতা প্রয়োজন।”
তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও তুলে ধরেন, উল্লেখ করেছেন যে নারী উদ্যোক্তারা খুব কমই ব্যাঙ্ক ঋণে খেলাপি হন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য নীতি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তিনি ঈডঈঈও-কে সমর্থন করার জন্য প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।
আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পৌতিআইনেন বলেন, “চট্টগ্রাম বিভাগ অনন্যভাবে একটি প্রাণবন্ত অর্থনৈতিক হাব হিসেবে স্থান পেয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আমরা ২০২৬ সাল নাগাদ এলডিসি অবস্থান থেকে উন্নীত হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করা এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি গড়ে তোলা অপরিহার্য। ওখঙ ঈগঝগঊ-কে সমর্থন করতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ, যা কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, শোভন কাজ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক ন্যায় বিচারের অগ্রগতি। কম উৎপাদনশীলতা, অনানুষ্ঠানিক উদ্যোগ, অর্থের সীমিত অ্যা·েস, প্রতিযোগিতামূলক সমস্যা,দক্ষতার ফাঁক এবং বিঘিœত প্রযুক্তির কারণে চাকরি হারানোর ঝুঁকির মতো চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে আমাদের অবশ্যই নারী উদ্যোক্তাদের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করব।”
কর্মশালায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ বিবেচনা করে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ির উইম্যান চেম্বার অফ কমার্সের প্রতিনিধিরা তাদের ব্যবসার উন্নতির জন্য তাদের সম্মুখীন হওয়া বাধা এবং তাদের ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।
মনোয়ারা হাকিম আলী, ঈডঈঈও-এর সভাপতি, বলেন যে তারা নারীর জন্য ব্যবসায় প্রয়োজনীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল স্বাক্ষর , সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা, বাজার সংযোগ, নীতি ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা, ব্যবসা সুরক্ষা এবং মহিলা সমবায়ের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসাগুলিকে বাড়াানোর উপর জোর দেবে।
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (সিডব্লিউসিসিআই) ২০২৩ সাল থেকে আইএলও প্রোগ্রেস প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী অংশীদারদের মধ্যে একটি। প্রকল্পটি পর্যটন, কৃষি-সহ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িক সহায়তা পরিষেবা এবং মূল্য চেইন গভর্নেন্স উন্নত করতে সিডব্লিউসিসিআই-কে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, আইসিটি পরিষেবা এবং কেয়ার ওয়াক এই প্রকল্পের মূল সেক্টর।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অদম্য রাব্বির গল্প পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিগত ১০ বছর আগে স্কুলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় দু হাত হারানো রফিকুল ইসলাম রাব্বি সকল স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাফল্য অর্জন করতে প্রস্তুত ছিলেন। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে পড়ালেখার প্রতি অদম্য ইচ্ছে ও অধ্যবসায় রাব্বিকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সিঁড়িতে। দুই হাত না থাকার পরও তিনি দমে যাননি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা মো. রাব্বি। দুই ভাইয়ের এক বোন। তার বোন রোকেয়া আকতারও এবার ভাটিয়ারী বিজয় সরনী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বোনও পাস করেছেন। তবে ফলাফলে তিনি রাব্বির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। রাব্বির সাফল্যে খুশি পরিবার ও প্রতিবেশী।
চলতি বছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন রাব্বি।। এর আগে এসএসসিতেও একইভাবে পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার পথ আটকে রাখতে পারেনি।

জানা গেছে, রাব্বির পথচলা এত সহজ ছিল না। ২০১৬ সালে স্কুলে যাওয়ার সময় এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। তার দুই হাত কেটে ফেলতে হয়। তখন রাব্বি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন। এর পরও দমে যাননি তিনি। পা দিয়ে লেখা অনুশীলন করতে থাকেন। একসময় তা রপ্ত করেন। এরপর পুনরায় স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। এর মধ্যে কয়েকবছর নষ্ট হয় তার। তবুও ২০২৪ সালে এসএসসিতে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন রাব্বি। তখন পাড়া প্রতিবেশী বুঝতে পারেন রাব্বি হেরে যাওয়ার পাত্র নন।

পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন রাব্বি। তার অসাধারণ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলের মানুষ তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। কেউ পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কেউ আবার নানা সহযোগিতার কথা জানান। তবে দুঃখজনকভাবে, সেই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবে রূপ নেয়নি।

অভাব-অনটনের সংসারে রাব্বির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের নিরলস সংগ্রাম। তার বাবা বজলুর রহমান ও মা দুজনেই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে সংসার চালান। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তারা।তবে এই কঠিন পথচলায় কয়েকজন মানুষের সহযোগিতা রাব্বির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার পড়াশোনার ব্যয় বহন করে আসছেন। অন্যদিকে স্থানীয় শিক্ষক মো. ওসমান বিনা পারিশ্রমিকে তাকে কোচিং করিয়ে সহযোগিতা করছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে রাব্বির স্বপ্ন আরও বড়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিজ্ঞানী হতে চান তিনি।

২২ বছর পিছিয়ে গেল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড, কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। এই বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থ। গতবার পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৯৭ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণার সময় এ তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান, সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেন। সব মিলিয়ে এবার পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। আর নগর বাদে জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ ও বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪।বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ ও মানবিকে ৩৮ দশমিক ৩১।

এদিকে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে। গত ২২ বছরের মধ্যে এটিই বোর্ডটির সর্বনিম্ন পাসের হার। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমেছে।
বোর্ডের সংরক্ষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এরপর ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ। গত ২২ বছরে পাসের হার আর এত নিচে নামেনি। এমনকি করোনা-পরবর্তী ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন। পাস করেছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন।পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৪ হাজার ৬৭১ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২৯ হাজার ৮২২ জন। তাদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ৪১ হাজার ৬৬৪ ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৩৪৪ জন। তাদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭ জন। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১০ হাজার ২৬৯ জন। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি থেকে কমে ৩ হাজারের নিচে নেমেছে। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৫৯৬ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৩৩ জন।
এবার বোর্ডের অধীন ২৮৩টি কলেজের মধ্যে তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন কলেজের সংখ্যা ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে মাত্র ছয়টি কলেজ। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল আটটি এবং ২০২৪ সালে ১৩টি।এ ছাড়া এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২২ হাজার ১১৪ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার হয়েছেন ২৭ জন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ