চমেক হাসপাতালে ২৮৫ কোটি টাকার বার্ন ইউনিট নির্মাণে পাহাড় কাটার কথা স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট নির্মাণ প্রকল্পে পাহাড় কাটার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তছলিম উদ্দীন। তিনি পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করেন এবং এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে জানান। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও পরিবেশ উপদেষ্টার নির্দেশে

কাজ বন্ধ রাখা হয়। আমরা পরিবেশে অধিদপ্তরের কাছে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করবো। ছাড়পত্র পেলে সে অনুযায়ী কাজ করবো।বুধবার চমেক হাসপাতাল পরিচালকের সভাকক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ভৌত অবকাঠামোগত কাজ করার আগে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়কে ঢালু আকারে কেটে এতে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলাম বসানো হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে

 

পাহাড় ধসের শঙ্কা কমে আসবে। যে জায়গায় পাইলিং করা হবে সেখানে উন্নতমানে ঘাস লাগানো হবে। যাতে বৃষ্টি হলে তা গড়িয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্কাশন করা যায়।
তিনি আরও জানান, এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২ বছর। কিন্তু চীনা প্রতিনিধি দল নির্ধারিত সময়ের আগে এই কাজ শেষ করে ফেলতে পারবে বলে জানিয়েছে। তাদের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হলেও এদিন উপস্থিত ছিলেন না পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রতিনিধি। ফলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ মে একনেকে অনুমোদন পায় ১৫০ শয্যার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট নির্মাণ প্রকল্প । নগরের চট্টেশ্বরী রোডে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসের পশ্চিমে গোয়াছি বাগান এলাকায় ২৮৫ কোটি টাকার এ প্রকল্পের মধ্যে চীন সরকার অর্থায়ন করবে ১৮০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ১০৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মিত হবে।

তবে প্রকল্পের চীনা প্রতিনিধি দলেন প্রধান মে ইইউ চ্যং বলেন, পাহাড়টা দেখার পর মনে হয়েছে- পাশে ভবন হলে জায়গাটি নিরাপদ হবে না। কারণ ভবনে বেইজ করার সময় পাহাড় ধসে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। পাহাড়ের মাটিগুলো খুবই নরম। পানির স্পর্শ পেলে নিচের দিকে চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৌশলীরা সয়েল নেইলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পাহাড়টি ড্রেসিং করে কলাম বসিয়ে কাজ করবে এবং সেখানে ঘাস রোপণ করা হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার ফারমিন এলাহী বলেন, গত বছরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিল। তখন তারা বলেছিলেন, পাহাড় রক্ষা করে কাজ করবেন। আজ আবার তারা বলছেন, পাহাড় ধসে পড়ার কারণে তারা পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছেন। যেকোনও প্রকল্প করতে হলে

 

পরিবেশগত প্রভাব পর্যালোচনা (ইআইএ) করতে হয়। কিন্তু ইআইএ না থাকায় আমরা অবাক হয়েছি। চমেক হাসপাতালের মতো একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের অবহেলা আশা করা যায় না। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ রাখা হয়েছে, সৌন্দর্যবর্ধক গাছের সঙ্গে দেশিয় প্রজাতির গাছও লাগাতে হবে।এর আগে বার্ন ইউনিট প্রকল্প এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই তড়িঘড়ি করে এই অংশীজন সভা ডাকে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্যবসায়িক অংশীদারকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার-৮

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতাসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহৃত ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে (৩৬) উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার পক্ষিয়া ইউনুস মোক্তার বাড়ির মৃত মোস্তফার ছেলে মো. শান্ত মিয়া (৩২), আনোয়ারা উপজেলার ভিংরোল মাস্টার আশরাফ আলীর বাড়ির মৃত আহমদ হোসেনের ছেলে মো. আবুল হাশেম (৫২), আকবরশাহ থানার লতিফপুর রেলবিট এলাকার মৃত সোলেমানের ছেলে মো. আকরাম (৩৪), মীরসরাই উপজেলার গড়িয়াহাস এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), সীতাকুণ্ডের কেদারখীল এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন (৩৫), গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শোভাগঞ্জ এলাকার মুসলিম আলীর ছেলে মাহবুব রহমান (২৬), ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চবরপুর এলাকার সুজল হকের ছেলে মানিক হোসেন (৩০) এবং জোরারগঞ্জের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে

মো. ফারুক (৩৪)।বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনস্ মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, বুধবার নগরের আকবরশাহ, পাঁচলাইশ ও মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, আবুল হাশেম ও আকরাম ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিনের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। পাওনা টাকা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তারা শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকায় ভাড়া করে অন্যদের সহযোগিতায় হেলালকে অপহরণ করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। আকরাম আবুল হাশেমের মেয়ের জামাই।হেলাল উদ্দিন নগরের পাঁচলাইশের শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের পাশে গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন। তার ব্যবসায়িক অংশীদার আবুল হাশেম, বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায় ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে হেলাল ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও আরও ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ টাকা আদায় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এর জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে আবুল হাশেমসহ কয়েকজন হেলালকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরদিন অপহরণকারীরা হেলালের মোবাইল থেকে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে শান্ত মিয়া, আবুল হাশেম ও আকরামকে গ্রেফতার করা হয়। আকরামের হেফাজত থেকে হেলালের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জের মহামায়া লেকে বন বিভাগের পরিত্যক্ত কটেজ থেকে হেলালকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন ও ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। আবুল হাশেম ও আকরাম পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দিয়ে অন্যদের ভাড়া করে হেলালকে অপহরণ করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ষোলশহরে ট্রেনে কাটা পড়ে হাত পা হারাল শিশু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের ষোলশহর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে এক শিশু। একই ঘটনায় শাহেদ নামে আরেক শিশু আহত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে ট্রেন লাইন ধরে হাঁটার সময় এই ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহত রাহাতকে (১০) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ডান পা ও ডান হাত ট্রেনে কাটা পড়েছে। একই ঘটনায় তার বড় ভাই শাহেদ (১৩) হাত ও মুখে ব্যথা পেয়েছে। তাদের বাবার নাম মোহাম্মদ ফারুক।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশেক জানালেন, দুপুর আড়াইটার দিকে রাহাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ষোলশহর রেলক্রসিংয়ে কাটা পড়েছে সে। তার হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে ২৬ নম্বর অর্থপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। রাহাত প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর তার বড় ভাই শাহেদ তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তাদের বাসা দুই নম্বর গেট মসজিদ গলিতে।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ ফারুক জানান, দুই ভাই ফিনলে স্কয়ার সংলগ্ন মসজিদে নামাজ পড়েছে। নামাজ পড়ে বাসায় যাওয়ার সময় ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় পড়ে যায়। বড় ছেলে শাহেদের হাত মুখ সামান্য ছিঁড়ে গেছে। রাহাতের এক পা ও হাত কেটে গেছে। এখন তার রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছে বেল তিনি জানান।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ