রাউজানে বিসিসিইউএল হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিকিৎসকরা ভালোভাবে সময় দেন না বলেই রোগীরা বিদেশে চলে যায় দেশের চিকিৎসকরা ভালোভাবে সময় দেন না বলেই রোগীরা বিদেশে চলে যায় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডাক্তাররা অনেক অভিজ্ঞ অনেক শিক্ষিত। আমরা রোগীদের সময় দিতে পারি না বিধায়, আমাদের রোগীরা বিদেশে চলে যাচ্ছে। ডাক্তাররা যদি বেশী রোগীর পরিবর্তে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী দেখেন। আর প্রতিজন রোগীকে যদি ২০ মিনিট ধরে সময় দেওয়া যায় তাহলেই রোগীর আসল রোগের অবস্থা জেনে ভালো চিকিৎসা দেওয়া যাবে।

তিনি শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে রাউজান উপজেলাধীন চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী চৌমুহনীস্থ হাজী মকবুল টাওয়ারে বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

রাউজানের নতুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি হসপিটাল উদ্বোধন করা বড় কথা নয়, হসপিটালের মান ধরে রাখাই বড় কথা। হসপিটালের মান ধরে রাখার জন্য সবার প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা যারা হসপিটালটি করেছেন এ হসপিটালের মান আপনারা ধরে রাখবেন। আমাদের এখান থেকে অধিকাংশ রোগী ভারতে চলে যায়, ভারতে যাতে রোগী চলে যেতে না হয় সেজন্য আপনাদের হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধি করবেন।

রাউজানে ডায়ালাইসিস মেশিন আনার কারণে গ্রামবাসীর জন্য উপকার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাউজানে এ প্রথম ডায়ালাইসিস মেশিন, এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। গ্রামবাসীর জন্য উপকারে আসবে। এছাড়াও বাচ্চাদের জন্য এনআইসিইউ সেন্টার, শহরের বেশ কয়েক জায়গায় থাকলেও গ্রামে নেই। রাউজানে থাকছে, এটা একটা চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছেন আপনারা।

জনগণের অধিকার ঠিকভাবে পূরণ করতে হবে মন্তব্য করে চসিক মেয়র বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, এসব মানুষের অধিকার। যেগুলো আমরা এতদিন পাইনি, এই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এখন আমরা যারা আছি, সবাইকে মানুষের অধিকার যথাযথভাবে দিতে হবে। আমরা যদি আগের মতো মনে করি যে, তাদের অধিকার হরণ হয়েছে দেখে আমরাও অধিকার হরণ করবো, তা হবে না। এ চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এরপরই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ শহরকে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব।

দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ভদন্ত শাসন রক্ষিত ভিক্ষু’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক বাবু আশীষ কুমার বড়ুয়া, মো. দুলাল মিঞা, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিসান বিন মাজেদ, জেলা সমবায় অফিসার মুরাদ আহম্মদ, রাউজান সহকারি কমিশনার (ভূমি) অং ছিং মারমা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি প্রফেসর জাহাঙ্গীর চৌধুরী, সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান থানার ওসি একেএম শফিকুল আলম চৌধুরী, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবু রুবেল বড়ুয়া হৃদয়, রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম, উপজেলা সমবায় অফিসার ওবাইদুল হক, কালব’র

পরিচালক বাবু উত্তম কুমার দে, পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়াররম্যান শ্রীমতি অর্পিতা মুৎসুদ্দী, মকবুল টাওয়ারের স্বত্বাধিকারী আবদুল হক, মো. মোস্তফা, বিসিসিইউএল’র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক উজ্জ্বল মুৎসুদ্দী, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ডক্টরস এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ডা. চৌধুরী চিরঞ্জীব বড়ুয়া প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

লোহাগাড়ায় এনসিপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির অভিষেক ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লোহাগাড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বটতলী মোটর স্টেশনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি দক্ষিণ বটতলীর মাশবী রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে শেষ হয়।লোহাগাড়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মোস্তাক আহমদ সবুজ সভাপতিত্বে মাশাবী রেস্টুরেন্টের হলরুমে অভিষেক অনুষ্ঠানেএতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জুবায়েরুল আলম মানিক।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব খান তালাত মাহমুদ রাফি, দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক জিয়াউর করিম, চন্দনাইশ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আনাস মাহমুদ এবং পটিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।

প্রধান অতিথি লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরী বলেন, সংগঠনের শক্তি হচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নেতাকর্মীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধান বক্তা জুবায়েরুল আলম মানিক বলেন, লোহাগাড়ায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জনগণের পাশে থেকে একটি জনমুখী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে এনসিপিকে এগিয়ে নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাক আহমদ সবুজ নবগঠিত কমিটির ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি সংগঠনের কার্যক্রম ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিস্তৃত করতে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লোহাগাড়া উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব ডিএম মারুফ হাসান রিজভী।

৭ নভেম্বর সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়: নাজিমুর রহমান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেছেন, ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক সংহতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম কে মুক্ত করে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করে।

তিনি আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ এর পরিচালনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের স্মৃতি বিজড়িত ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণ পূর্বক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই দিনের ইতিহাসের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অভিযাত্রার পথে এগিয়ে যায়।

বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, কোনো ব্যক্তি বা দলের চেয়ে দেশ বড়, দেশের মানুষের স্বার্থ বড়। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হতে হবে মানুষের কল্যাণ, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য সুসংহত করা।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করে বিভেদ, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে আমাদের প্রত্যয় হোক—জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করা। তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল বীর সন্তান ও শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, আজকের এই দিনে ১৯৭৫ সালে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আর্দশের প্রাণপুরুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তিনি এ সময় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ হৃদয়ে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট থাকুক, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। গণতন্ত্রের বিজয় হোক। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, মুজিবুর রহমান মুজিব, মোহাম্মদ আলী সাকী, সি. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, এরশাদ উল্লাহ, গুলজার হোসেন, তানভীর মল্লিক, ওমর ফারুক, সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, শাহজালাল পলাশ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নুর হোসেন উজ্জ্বল, মহিউদ্দিন মুকুল, আসাদুজ্জামান রুবেল, সহ-সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির, হামিদুল হক চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, সিরাজ শিকদার, ইব্রাহিম খান, সাইদুল হক, মহানগর যুবদলের সদস্য প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, সাখাওয়াত কবির সুমন, থানা যুবদলের বজল আহমেদ, শেখ রাসেল, মন্জুর আলম মন্জু, তাজ উদ্দিন তাজু, মোর্শেদ কামাল, ওয়ার্ড যুবদলের মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল আলম, জহিরুল ইসলাম, মাসুদ আলম ও সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ