চট্টগ্রামে অস্থির চালের বাজার বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২-৩শ’ টাকা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সরকারি গুদামে চালের মজুত দ্বিগুণ বেড়েছে।মজুদ থাকা সত্বেও অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। বর্তমানে চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ২-৩শ’ টাকা।অথচ চাল আমদানি করে মজুত বাড়ানো হয়েছে। খাদ্য কর্মকর্তা ও চাল ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যাপ্ত চাল মজুত থাকার পরও কর্পোরেট গ্রুপগুলো কারসাজি করে চালের দাম বাড়াচ্ছে।

পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সপ্তাহের ব্যবধানে জিরাশাইল, নাজিরশাইল, কাটারি আতপসহ চিকন চালের দাম বস্তাপ্রতি ২-৩শ টাকা বেড়েছে। এতে ফের বিপত্তিতে পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। বর্তমানে জিরাশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি ৪১০০-৪১৫০ টাকা। এর আগে ৩৯০০-৪০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

নাজিরশাইল ৪২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাটারি আতপ ৪০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যন্য চালের দাম অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে।চট্টগ্রাম চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক জ্ঞানপ্রিয় বিদূষী চাকমা বলেন, সরকার ৯-১০ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক টন খাদ্যশস্য দেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি জাহাজ থেকে আমদানি করা চাল খালাস করা হচ্ছে।

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন বলেন, চাল আমদানির কিছুটা প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে চার ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি ২-৩শ’ টাকা বেড়েছে। তিনি বলেন, বাজারে প্রচুর চাল রয়েছে। কয়েকটি কোম্পানি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়াচ্ছে। চালের ওপর সরকারের কোনো নজরদারি না থাকায় বাজার বার বার অস্থির হয়ে উঠছে।

কর্পোরেট কোম্পানি ও উত্তর বঙ্গের বড় চাতাল এবং মোকাম সিন্ডিকেটের কাছে চালের বাজার জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন প্রবীণ চাল ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রচুর পরিমাণ চাল মজুত রয়েছে। সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারায় সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বাজার ও বড় ব্যবসায়ীদের গুদামে মনিটরিং করা হলেই বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চট্টগ্রামে সরকারি খাদ্য গুদামে খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৭ মেট্রিক টন। এরমধ্যে চালের মজুত আছে এক লাখ ২৮ হাজার ৫৮৫ মে. টন। গম মজুত রয়েছে ৩৬ হাজার ৫৭৫ টন। গত বছর (২০২৪ সাল) একই সময়ে খাদ্য মজুত ছিল ৮১ হাজার ৩২২ টন। চাল ছিল ৭০ হাজার ৯৮১ টন। গম ছিল ১০ হাজার ২৯৯ টন। এক বছরে চালের মজুত বেড়েছে এক দশমিক ৫৮ গুণ।
চালের দাম বৃদ্ধির জন্য কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক (কারিগরি) ফখরুল আলম। তিনি বলেন, সরকার চাল আমদানির পর বাজারে চালের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু কিছু কোম্পানি বস্তা পাল্টিয়ে ব্র্যান্ডের নামে চালের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন।

ফুডগ্রেন লাইসেন্সের আওতায় খাদ্য অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান খাদ্য কর্মকর্তা ফখরুল আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম খাদ্য সংকট এলাকা। এখানে ধানি জমি কমে যাচ্ছে। শিল্প-কারখানা বাড়ছে। তাই প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে ৬০-৭০ ট্রাক চাল চট্টগ্রামে আসে।

পাইকারি মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অজুহাতে বেড়েছিল চালের দাম। আগস্ট মাসে সরকার পতনের পর আরেক দফা বেড়েছিল। পরিবহন সংকট ও গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে দুই দফায় বাড়ানো হয়েছিল। জুলাই মাস থেকে ক্ষণে ক্ষণে বেড়েছিল চালের দাম। বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার চাল আমদানির অনুমতি দেয়। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির পরও সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, চাপে সাধারণ ক্রেতারা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। আয় না বাড়লেও বাজার খরচ বাড়ায় সংসারের খাবারের তালিকাতেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে অনেককে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহের জটিলতায় বেড়েছে পণ্যের দাম।

শনিবার ৯২ (অক্টোবর) নগরের রেয়াজউদ্দিন, বকশিরহাট ও কাজীর দেউড়ি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে দামের পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. আলী সওদাগর বলেন, পাইকারি ক্রয়মূল্য, পরিবহন ও দোকান পরিচালনার ব্যয় বাড়ায় খুচরা দামেও প্রভাব পড়ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন বলেন, পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান নিয়মিত যাচাই এবং বাজার তদারকিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ বলেন, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ ও নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মাছের বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঙ্গাস ২৫০-৩০০, নাইলোটিকা ২৮০-৩২০, লইট্টা ২৮০-৩০০, রুই ৪৫০-৫৫০, কাতলা ৫০০-৬০০ এবং ইলিশ ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া পোয়া ৫০০, কোরাল ১ হাজার, পাবদা ৫০০-৫৫০, পুঁটি ৩০০, দেশি কই ১ হাজার ৬০০, শিং ৮০০-১ হাজার, শোল ৮০০-১ হাজার, লাক্ষা ১ হাজার ২০০, ছুরি ৩৫০, মাইট্টা ৫০০-৬০০ ও মলা ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রুপেন দাস বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমেছে। পরিবহন ও বরফের খরচও বেড়েছে। আগে দিনে দুই মণ মাছ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ কেজি।
এদিকে মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৮০, সোনালি ৩৫০, পাকিস্তানি কক ৪০০, দেশি সোনালি ৪৫০, লেয়ার ৩৫০, দেশি মুরগি ৬০০-৮০০, হাঁস ৮৫০ ও বেলজিয়াম হাঁস ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর হাড়যুক্ত মাংস ৭৫০, হাড়হীন ৯৫০, খাসি ১ হাজার ২০০, ছাগল ১ হাজার ১৫০ এবং ভেড়ার মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫৫, সাদা ডিম ১৪৫, দেশি ডিম ২০০ ও হাঁসের ডিম ২৪০ টাকা।

সবজির বাজারগুলোতে দেখা যায়, আলু, মিষ্টিকুমড়া ও পেঁপের মতো কিছু সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও বরবটি, বেগুন, ঝিঙে, ঢেঁড়স ও পটল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১০০-১৪০ টাকায়। টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০-২৬০ টাকা, শিম ২৪০-২৬০ টাকা। ধনেপাতা ২০০-২৫০, পুদিনাপাতা ৩৫০-৪০০, গাজর ১২০-১৬০ এবং কাঁচা মরিচ ১৪০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বকশিরহাটে বাজার করতে আসা এক শিক্ষিকা বলেন, একই টাকায় এখন আর পরিবারের প্রয়োজনীয় সবজি কেনা যাচ্ছে না। বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাজারের বাড়তি ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, পাইকারি দাম, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু সবজির দাম বেশি। এতে ক্রেতারা কম কিনছেন, বিক্রিও কমেছে।
অন্যদিকে সরু চাল ৭৫-৯৫, মাঝারি চাল ৬৩-৭৫ এবং মোটা চাল ৫০-৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চিনিগুঁড়া খোলা চাল ১৫০-১৭০ এবং প্যাকেটজাত চাল ২২০-২৩০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে।

খোলা আটা ৪৮-৫০, প্যাকেটজাত আটা ৬৮-৭০, খোলা ময়দা ৬২-৬৫ ও প্যাকেটজাত ময়দা ৮০-৮৫ টাকা কেজি। আমদানিকৃত মসুর ডাল ৮৫-৯০, দেশি আস্ত মসুর ১৬০-১৬৫, দেশি ছোট মুগ ১৬৫-১৭০, আমদানিকৃত মুগ ১৪৫-১৫০, ছোলা ১১৫-১২০, খেসারি ৭৫-৮৫ এবং কলাই ডাল ১৫০-১৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বেসনের দাম ৮০-১৬০ টাকা।
খোলা সয়াবিন তেল ১৮৯-১৯০, পাম তেল ১৬৫-১৬৮ এবং দেশি সরিষার তেল ২৩০-২৬০ টাকা। আমদানিকৃত চিনি ১০৫-১১০, লাল চিনি ১৩০, প্যাকেটজাত লবণ ৩৬-৪২ ও খোলা লবণ ২২-২৪ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫, আমদানিকৃত রসুন ১৪০-১৬০, আদা ১৪০-১৫০, দেশি হলুদ ২২০-২৪০ এবং শুকনা মরিচ ২৫০-৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ফলের দোকানগুলোতে দেখা যায়, মাল্টায় ৪০ টাকা ছাড়ে দাম ৫০৫ টাকা, লাল আঙুরে ৫০ টাকা ছাড়ে ৫০৯ টাকা এবং অস্ট্রেলিয়ান গালা আপেলে ৪০ টাকা ছাড়ে ৪২৯ টাকা। কাঁচা মরিচে ১০ টাকা ছাড়ে ১২০ টাকা, গাজরে ১৫ টাকা ছাড়ে ১৪০ টাকা এবং চীনা রসুনে ১০ টাকা ছাড়ে ১৬০ টাকা।

এছাড়া হলুদ ও ধনিয়ার গুঁড়ায় ৪০ টাকা করে ছাড়ে দাম যথাক্রমে ৩৪০ ও ৩১০ টাকা। খেসারির ডালে ২১ টাকা ছাড়ে ৯৯ টাকা। পাঁচ লিটার স্টারশিপ ফোর্টিফায়েড সয়াবিন তেলে ২০ টাকা ছাড়ে দাম ৯৮০ টাকা। প্রাণ মিনিকেট চালের পাঁচ কেজির প্যাকে ২০ টাকা, পুষ্টি চিনিগুঁড়া চালে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা, প্রাণ ন্যাচারাল ফাইবার আটা ও পুষ্টি সাধারণ আটায় প্রতি কেজিতে ১০ টাকা এবং পুষ্টি মসুর ডালে ১৫ টাকা ছাড় রয়েছে। অন্যদিকে মার্কস ফুল ক্রিম গুঁড়া দুধে ৩০ টাকা, হ্যাপি কাউ ইনস্ট্যান্ট দুধে ২০ টাকা এবং ফার্মল্যান্ড ফুল ক্রিম দুধে ২৫ টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সিলন ফ্যামিলি ব্লেন্ড অ্যারোমা ব্ল্যাক টির ৫০০, ৪০০ ও ২০০ গ্রামের প্যাকে যথাক্রমে ৫০, ৪০ ও ২০ টাকা ছাড় রয়েছে।

শুন ফ্যাট ক্রিম ক্র্যাকার্স স্পেশাল বিস্কুটের ৪০০ গ্রামে ১৪০ টাকা ও ২৮০ গ্রামে ১০০ টাকা ছাড়। কান্ট্রি ন্যাচারাল স্পাইসি চিকেন নাগেটসের ২৫০ গ্রামে ২৪ টাকা এবং ডুডলস ৩ এক্স স্পাইসি কোরিয়ান রামেন নুডলসের আট প্যাকে ৩০ টাকা ছাড় রয়েছে। রাজা দেশি ক্লাসিক পরোটার ১,৩০০ গ্রামের ২০ পিসে ৫০ টাকা, রোজা বাটারফ্লাই চিংড়ির ১০–১২ পিসে ২৫ টাকা এবং সাফোলা মধুর ২৫০ ও ৫০০ গ্রামের প্যাকে ৩৫ টাকা করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

সাইক্লিং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে: অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কের (ভিআইপি রোড) উন্নয়ন ও দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ সাইকেল ট্র্যাক, হাঁটার পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা সরকারের দায়িত্বের অংশ। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে সিটি করপোরেশনের মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। বিমানবন্দর সড়কের সাইকেল ট্র্যাকটি কেবল শুরু। পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এগুলো দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত জায়গায় হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতারা।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ