১০ এপ্রিল বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস : হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান’র ২৭০ তম জন্মবার্ষিকী

লেখক:কলাম লেখক ও গবেষক প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ,জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি চেম্বার :-ন্যাশনাল হোমিও রিসার্চ সেন্টার অলংকার শপিং কমপ্লেক্স চট্টগ্রাম ই-মেইল. [email protected]

ডা: মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ বৃহস্পতিবার ১০ এপ্রিল বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস ২০২৫।প্রতিপাদ্য— হোমিওপ্যাথি এক স্বাস্থ্য, এক পরিবার।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান’র ২৭০ তম জন্মবার্ষিকীর দিনে পৃথিবীব্যাপী এ দিবসটি পালন করা হয়।২০০৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী হ্যানিমেনের জন্মদিন ‘বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে যাত্রা শুরু বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবসের এবং বিশ্ব হোমিওপ্যাথি আন্দোলনে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।আমরা সবাই জানি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্ম জার্মানিতে। বিজ্ঞানী ডা: স্যামুয়েল হানেমানের আবিষ্কারক (১০ এপ্রিল ১৭৫৫ থেকে ২ জুলাই ১৮৪৩ ছিল তার জীবনকাল)। তিনিই প্রথম চিকিৎসাবিজ্ঞানী যিনি ভেষজ বস্তুকে শক্তিকরণ করে তা সুস্থ মানবদেহে পরীক্ষার মাধ্যমে ওষুধের রোগজ শক্তির আবিষ্কার করেন, যা তার আগে কোনো বিজ্ঞানী করেননি। তাই আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি বিপ্লবী বিজ্ঞানী হিসেবে। বিপ্লবী এ বিজ্ঞানীর জন্মবার্ষিকী বিশ্বব্যাপী পালিত হয়,এই দিনে পৃথিবীর আর কোনো বিজ্ঞানীর জন্মদিন এভাবে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় না। ২০০৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী হানেমানের জন্মদিন পালিত হচ্ছে বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস হিসেবে।

বিজ্ঞানে কৃত্রিম রোগ আবিষ্কার স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। ১৭৯০ সালে পৃথিবীর মানুষ প্রথম জানতে পারে তার আবিষ্কারের কথা।হানেমান নিজের নিজের দেহে ১৩০টি মেডিসিন প্রুভ করেছেন।সর্ব প্রথম মানবদেহে হোমিওপ্যাথি মেডিসিন পরিক্ষা করা হয়েছে।পেরুভিয়ান কফি বা সিষ্কোকা গাছের বাকল নিয়ে গবেষণা করতে করতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উদ্ভব হয়।পৃথিবীর কনিষ্টতম চিকিৎসা পদ্ধতি হলো হোমিওপ্যাথি।ঔষধ পরীক্ষার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার নিয়ম নীতি প্রকাশ করেন ১৮১০সনে।অর্গানন নামে যার পরিচিতি চিকিৎসক মহলে।তার জীবনের শেষ পর্যায়ে অর্গানন ৬ষ্ঠ সংস্করন সমাপ্ত করেন।বইটির আধুনিক ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে হানেমান ফাউন্ডেশন,আমেরিকা থেকে।

হোমিওপ্যাথির জন্ম জার্মানীতে।বিকাশ ফ্রান্সে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বৃটেন ১৮০৫ সনে। আর সারাবিশ্বে এ্যালোপ্যাথির পরেই দ্বিতীয় প্রধান এবং অল্টারনেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে হোমিওপ্যাথি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিটি জার্মান বিজ্ঞানী ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান কর্তৃক ১৭৯৬ সালে আবিষ্কৃত হয়। এটি বিগত ২৩০ বছর ধরে মানবসেবায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু এর জন্মলগ্ন থেকেই এটি নানা প্রতিকুলতা ও ভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছে। হোমিওপ্যাথি নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন সমালোচনা করে থাকেন যে, এটি ধীরে কাজ করে, জটিল রোগে ব্যর্থ, প্লাসিবো ইফেক্ট, এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই ইত্যাদি। কিন্তু আমরা যারা সমালোচক তারা বেশিরভাগই গবেষণা বা সঠিক ধারণা না নিয়েই হোমিওপ্যাথির ওপর বিষেদগার প্রকাশ করি।

আমি জানি না, মানি না বা মানবো না তাই বলে ব্যাপারটি যে সত্য ও ফলপ্রসূ নয় এমনটি ধারণা করা নিছক বোকার স্বর্গে বসবাস করারই নামান্তর নয়কি? যে ব্যবস্থাটি বিগত ২৩০ বছর ধরে মানবসেবায় নিয়োজিত আছে সেটি যে অবৈজ্ঞানিক এমনটি ধারণা করা কি ঠিক? ফল না থাকলে কিভাবে মানুষ ফল ভোগ করছে এবং কিভাবে সেটি এখনও টিকে আছে পৃথিবীর বুকে?

হোমিওপ্যথি নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা এটি ধীরে কাজ করে। এটি নিয়ে অনেকেই একটা কথা বলে থাকেন “যার নাই কোনো গতি সে খায় হোমিওপ্যাথি”। এই ধারণা থেকে বোঝা যায় মানুষ কখন হোমিওপ্যাথির কাছে যায়। একটা রোগী যখন সব চিকিৎসা শেষ করে আর কোনো উপায় খুঁজে পায় না, যখন সে স্টেরয়েড, এন্টিবায়েটিক ইত্যাদি খেয়ে নিজের রোগটি আর রোগের পর্যায়ে রাখে না, যখন সে নিজেই একটা মেডিসিনাল রোগে পরিণত হয় তখনই হোমিওপ্যাথ খোঁজে। কিন্তু এমতাবস্থায় হোমিওপ্যাথির তেমন কি বা করার থাকে। তবু অনেক ক্ষেত্রেই সফলতার সাথে এসব জটিলরোগীকে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। কিন্তু এই রোগীরাই যদি রোগের প্রারম্ভে হোমিওপ্যাথির শরণাপন্ন হতেন তাহলে রোগটি অল্প সময়ে তুলনামূলক কম খরচে ভালো হয়ে যেত। বিভিন্ন রকম জটিল সমস্যা যা প্রচলিত চিকিৎসায় সার্জারি করতে হয় অথবা সারাজীবন ওষুধ খেতে হয় যেমন, টনসিলাইটিস, পলিপাস, বিভিন্ন ধরনের টিউমার এমনকি ব্রেন টিউমার, লিম্ফোমা, একজিমা, সোরিয়াসিস, এ্যাজমা, অষ্টিওআর্থাইটিস, হাড় বৃদ্ধি, হাড় ক্ষয় যাওয়া, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, বাতজ্বর, হার্ট, কিডনি, লিভারের জটিল সমস্যা ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথরা যদি কয়েকবছরেও রোগীকে সুস্থ করতে সক্ষম হয় সেটিকে কি বেশি সময় লাগে বলা হবে? নাকি বলা হবে হোমিওপ্যাথি ধীরে কাজ করে? যেখানে প্রচলিত চিকিৎসাই ব্যর্থ।

অনেকেই ভাবেন হো্মিওপ্যাথরা ব্যাকডেটেড। তারা ডায়াগনোসিস নির্ভর চিকিৎসা করে না, টেস্ট করায় না ইত্যাদি। কিন্তু তারা হয়তো জানেন না বাংলাদেশেই ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধীনে বি,এইচ,এম,এস (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি) নামক একটি কোর্স চালু হয়েছে ১৯৮৯ সালে। কোর্সটিতে ৫ বছরের একাডেমিক এবং ১ বছরের ইন্টার্নি করতে হয়। এমবিবিএস কোর্সের সিলেবাসের এনাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথলজি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফরেনসিক মেডিসিন, গাইনি, অবস ও সার্জারি বিষয়গুলো এখানে এমবিবিএসদের মাধ্যমেই অধ্যায়ন করানো হয়। এই কোর্সে বিভিন্ন টেস্ট ও রোগের ডায়াগনোসিস, প্রোগনোসিস গুরুত্ব সহকারে অধ্যায়ন করানো হয়। বিভিন্ন জটিল রোগের ক্ষেত্রে যেমন, কিডনি ও পিত্ত পাথরের অবস্থান, সাইজ ইত্যাদি দেখার জন্য আলট্রাসোনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদি করে সঠিকভাবে ডায়াগনোসিস করা হয়। এছাড়া ক্যান্সারের স্টেজ নির্ণয়, হরমোনের পরিমাণ, ইনফারটাইল পুরুষ ও মহিলাদের কি কারণে সমস্যা হচ্ছে সেগুলো নির্ণয়ের জন্য আধুনিক ইনভেস্টিগেশনের সহায়তা নিয়ে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু একথা সত্য অনেক হোমিওপ্যাথ এখনো এগুলোকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু তাদের কারণে সকলকে দোষারোপ করা বা হোমিওপ্যাথিকে অভিযুক্ত করা কতটা যুক্তিসঙ্গত?
> হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা ব্যবস্থা

বাংলাদেশে
বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সমন্ধে জ্ঞান অর্জনের জন্য সরকারি দুইটি কোর্স প্রচলিত আছে। একটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৬ বছর ( ১ বছর ইন্টার্নি সহ) মেয়াদী ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী (বিএইচএমএস) কোর্স এবং অন্যটি হলো বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের অধিভুক্ত ৪ বছর ৬ মাস (৬ মাস ইন্টার্নি সহ) মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথি মেডিসিন এন্ড সার্জারী (ডিএইচএমএস) কোর্স। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত হোমিওপ্যাথির ব্যাচেলর ডিগ্রি প্রদানকারী ২টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ এবং বোর্ড স্বীকৃত ৬৩টি ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদানকারী মেডিকেল কলেজ/ইন্সটিটিউট রয়েছে।

> অন্যান্য দেশে

লন্ডন, জার্মানি এবং পার্শ্ববর্তীদেশ ভারত, পাকিস্থান, শ্রীলংকা,মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের নানান দেশে হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা অর্জনের জন্য বিভিন্ন স্বীকৃত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুক্তরাজ্যে রয়েল লন্ডন হোমিওপ্যাথিক ইউনিভার্সিটি নামে একটি হোমিওপ্যাথিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রিসার্চে বের হয়েছে, এখন বাংলাদেশের ৪০ ভাগ মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণার ফল আমেরিকার একটি মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে আমেরিকাতেই ১৫% হোমিওপ্যাথির ব্যবহার বেড়েছে। সম্প্রতি সুইচ গভর্নমেন্ট তাদের দেশে ১৫০০০ কোয়ালিফাইড হোমিওপ্যাথকে সরকারিভাবে তাদের স্বাস্থ্যখাতে অন্তর্ভূক্ত করেছে। এই উদ্যোগকে সুইজারল্যান্ডের জনগণ চিকিৎসার বিপ্লব হিসাবে দেখছে। এছাড়া আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, বেলজিয়াম, আয়ার্ল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফ্রিকাসহ বিশ্বের ৪৩ টি দেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রয়েছে এবং এসব দেশে প্রচুর পরিমাণে মানুষ হোমিওপ্যাথির উপর নির্ভর করছে। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের ২৪৬৭৭২ জন্য কোয়ালিফাইড রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ রয়েছেন। আমেরিকা-ব্রিটেনেও উন্নত মানের মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। সেখানে উচ্চতর ডিগ্রিধারী চিকিৎসকগণ চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। এখনও ব্রিটেনের রানির ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসাবে একজন হোমিওপ্যাথ রয়েছেন। সম্প্রতি ভারতের একটি রিসার্চে বের হয়েছে সেদেশে ৫৫% মানুষ হোমিওপ্যাথির দিকে অগ্রসর হয়েছে।

২০০১ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলেছে, ৪৩টি দেশে হোমিওপ্যাথি ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্রিটিশ জার্নাল ও টাইমস অব লন্ডন জার্নালে যথাক্রমে প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটেনে ৪২% ও ৪৮% চিকিৎসকরা জটিল রোগে ও অপারেশনের বিকল্প হিসাবে হোমিওপ্যাথির কাছে রোগী রেফার করে।

ফ্রান্সে একটি গবেষণায় বের হয়েছে সেখানে ১১০০০ এর বেশি হোমিওপ্যাথ রয়েছে এবং ২৫% লোক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করছে। এছাড়া সারা বিশ্বে ২০০০০ এর মতো ফার্মাসিউটিক্যালস হোমিওপ্যাথি মেডিসিন উৎপাদন করছে।

যেখানে উন্নত বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো হোমিওপ্যাথি ব্যবহার করছে এবং এর ব্যহারের হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে আমাদের কি হয়েছে? আমরা কি ভ্রান্তির মধ্যেই থাকবো? কোন জিনিসের ইফিকেসি না থাকলে সেটি কিভাবে ২৩০ বছর ধরে চলে আসছে?

কেন হোমিওপ্যাথি?
হোমিওপ্যাথি ওষুধ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত, সাশ্রয়ী এবং জটিল রোগে এন্টিবায়োটিক ও অপারেশনের বিকল্প হিসাবে কাজ করে থাকে। মা ও শিশুদের জন্য সহজে ব্যবহার উপযোগী ও জটিলতামুক্ত। বর্তমানে বিশ্বে দুইটি কারণে মানুষ চিকিৎসায় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একটি এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার আরেকটি অপারেশন। মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনার প্রফেসর ডাঃ মাইকেল ফ্রাস-এর মতে ‘হোমিওপ্যাথি একমাত্র এন্টিবায়োটিকের বিকল্প এবং পাশ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত কারণ এটি দেহের প্রধান অঙ্গগুলিকে আক্রমণ না করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেখানে এন্টিবায়োটিক জীবনীশক্তিকে দূর্বল করে’।

এছাড়া সম্প্রতি অষ্ট্রেলিয়ার একটি রিসার্চে বলা হয়েছে, ফুসফুসের ইনফেকশনজনিত রোগে এন্টিবায়োটিকের চেয়ে দ্রুত আরোগ্য করতে পারে হোমিওপ্যাথি ওষুধ। তারা ৪টি দেশের ৫০০ জন রোগীর ওপর এই পরীক্ষা চালিয়েছেন।

যে সকল রোগ সার্জারি করতে হয় সে সব রোগে বিকল্প হিসাবে হোমিওপ্যাথি ব্যবহার হয়ে থাকে। ফিস্টুলা, পাইলস, টনসিলাইটিস, এপেন্ডিসাইটিস (গ্যাংগ্রিনাস ব্যতিত), বিভিন্ন রকম টিউমার, সিস্ট, ব্রেষ্ট টিউমার, ব্রেন টিউমার, আঁচিল, হাড় বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অপারেশনের অল্টারনেটিভ হিসাবে হোমিওপ্যাথির সফলতা প্রশংসনীয়। তবে ডায়াগনোসিসের মাধ্যমে অবশ্যই রোগের গতিবিধি, বিস্তৃতি ইত্যাদি বিবেচনা করতে হবে।

এছাড়া শিশুদের কমন কোল্ড, কফ, জ্বর, বমি, এ্যাজমা, এ্যালার্জী, ডায়রিয়া, আমাশয়, এডিনয়েড, হাম, জলবসন্ত, মাম্পস, ব্রঙ্খাইটিস, হাইড্রোসেফালাস, মানসিক খর্বতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অল্প সময়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা সম্ভব।সাইকোসোমাটিক রোগেও যেমন মাইগ্রেন, এ্যাজমা, এসিটিডি, পেপটিক আলসার, এ্যালার্জী, মানসিক রোগেও সফলতার সহিত হোমিওপ্যাথি কাজ করে যাচ্ছে।

তবে হোমিওপ্যাথরা অনেক রোগেই গড়পড়তা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন যেটা দুঃখজনক। কারণ চিকিৎসক হিসাবে প্রথমে বোঝা উচিত তার কোন রোগ চিকিৎসা করবো আর কোনটা করবো না। কোন রোগটি ভালো হতে পারে এবং কোনটি সার্জারি করতে হবে। এখানেই হোমিওপ্যাথদের ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়। এর জন্য দায়ী কিছু হোমিওপ্যাথ, কিন্তু হোমিওপ্যাথি নয়।

হোমিওপ্যাথিতেই জটিল ও কঠিন রোগ আরোগ্য সম্ভব। সেটি প্রমাণের জন্য নিজেই কোনো ভালো হোমিওপ্যাথের শরণাপন্ন হউন। হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে কোয়ালিফাইড কোন হোমিওপ্যাথির পরামর্শ গ্রহণ করুন তাহলে ভ্রান্তি থাকবে না। নিজেও উপকৃত হবেন, জাতিও দেখবে চিকিৎসার নতুন দিগন্ত। তবে হোমিওপ্যাথি তখনি আরো একধাপ অগ্রসর হবে যেদিন বিজ্ঞান ন্যানোটেকনোলজিতে প্রবেশ করবে। সেদিনের জন্যই অপেক্ষা করছি!

তাই মহাত্মা হ্যানিম্যান ও তার পরবর্তী গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে হোমিওপ্যাথি ওষুধ স্নায়ুর মাধ্যমে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে জীবনীশক্তি জীবের সব ক্ষমতার উৎস এটা উপলব্ধি করে হোমিওপ্যাথিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে যতই ব্যবহার করা যাবে জনস্বাস্থ্যের ততই উন্নতি হবে।আর আজকের এই দিনে হানেমানের কথা স্বরন করে, হানেমানের অতিতের সব গুন গুলা মাথায় রাখতে পারলে সেই হল প্রকৃত হোমিওপ্যাথ। হানেমান একটি কথা বলতেন; আমি বৃথা জীবন ধারন করিনি, যা ভাল তা শক্ত করে ধরব” সব কিছুই প্রমাণ করব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পুলিশের যোগসাশসে ইটভাটার জন্য প্রবাসীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটার জন্য এক দুবাই প্রবাসীর বসতভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদীয়া ব্রিকফিল্ডের মালিক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার তিন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধেও ইটভাটার মালিকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জমি বন্ধক দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী বিলকায়েছ আরা বেগম ও শ্যালক নূর হোসেন মানিক।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল গোফরানের কেনা বসতভিটার জমিতে ইটভাটা সম্প্রসারণ করতে চান জাকির হোসেন। এ জন্য জমির সীমানায় থাকা টিনের বেড়া ভেঙে দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। জমি বিক্রি কিংবা তার কাছে বন্ধক না দিলে পরিবারটিকে এলাকায় বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাতে জাকিরের লোকজন গোফরানের জমির দক্ষিণ পাশের টিনের বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গোফরানের স্ত্রী বিলকিস আরা বেগম থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে এসআই নজরুল প্রবাসীর স্ত্রী ও তার বড় ভাইকে থানায় ডেকে নেন। সেখানে জাকিরের কাছে জমিটি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তারা তাতে রাজি হননি। এর চার দিন পর, ১৬ অক্টোবর স্বামীর কেনা জমিতে ২১ ফুট বাই ১৬ ফুট আয়তনের টিন ও কাঠ দিয়ে একটি দোচালা ঘর নির্মাণ শুরু করেন বিলকায়েছ আরা বেগম। এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই নজরুল, এসআই সুমন ও এসআই আনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেন। একই সঙ্গে জাকিরের সঙ্গে সমঝোতা করে জমিটি তার কাছে বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। অন্যথায় তাদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।

পরিবারটির ভাষ্য, পুলিশের কথায় রাজি না হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন রাতেই জাকিরের লোকজন নির্মাণাধীন দোচালা ঘর ও টিনের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত ২৬ অক্টোবর দুবাই দূতাবাসের মাধ্যমে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল গোফরান। অভিযোগটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জাকিরের লোকজন আবারও ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেঙে ফেলা ঘর ও সীমানাপ্রাচীরের কাঠ ও টিন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও বিধিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের নিরবতায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে শ্রমিক পরিচয়ে লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক জাকির হোসেন বলেন, ইটভাটার ভেতরে প্রবাসীর ৯ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর আমার মাটির স্তূপ রয়েছে। আমি তাদের বকেয়া টাকা থাকলে নিয়ে যেতে এবং জমিটি বিক্রি করে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। পরে তাদের জায়গায় রাখা আমার মাটি ও ইটের খোয়া দিয়ে দিতে বললে তারা বাধা দেন। এরপর তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী প্রথমে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর এসআই সুমন ও আনোয়ারও সেখানে যান। উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ইটভাটার লোকজন বাধা দেন। পরে প্রবাসীর পরিবারসহ দুই পক্ষ বিষয়টি বর্তমান ওসিকে অবহিত করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হাসপাতালের সাফল্য কি শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলো, কতটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলো কিংবা কত আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব? নাকি এর পাশাপাশি দেখতে হবে, রোগী কত সহজে সেবা পেলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য কতটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন, অভিযোগ জানালে কত দ্রুত সাড়া পেলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করা হলো? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

চিকিৎসার মান নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যথাযথ রোগনির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর কাছে স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় আরও বিস্তৃত একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া, অপেক্ষা, বিলিং, চিকিৎসা-পরবর্তী নির্দেশনা—প্রতিটি পর্যায় তাঁর আস্থা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে চিকিৎসার উৎকর্ষ এবং সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

জবাবদিহির প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হলে, রোগী প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে না পারলে কিংবা অভিযোগের যথাযথ সমাধান না হলে শুধু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায় তখনই, যখন সে নিজের কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে, দুর্বলতা শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দায়িত্ব নেয়।

এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিমাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু রোগীর সংখ্যা বা সেবার পরিমাণ নয়, অপেক্ষার সময়, অভিযোগের ধরন ও সমাধান, তথ্য প্রদানের স্বচ্ছতা, রোগীর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী যোগাযোগের মতো বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে। তবে এসব সূচককে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। সংখ্যার পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা শনাক্ত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করে না। তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্ব নির্ধারণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থা কেবল আরও কিছু রিপোর্ট তৈরির মাধ্যম হয়ে থাকবে।

একই সঙ্গে জবাবদিহিকে শাস্তিমূলক সংস্কৃতি হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। ভুল বা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার কারণ বোঝা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সংশোধন করা এবং পুনরাবৃত্তি কমানো। যেখানে অবহেলা বা অনিয়মের প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে যথাযথ তদন্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। আর যেখানে সমস্যার উৎস জটিল প্রক্রিয়া, অপর্যাপ্ত সমন্বয় বা অস্পষ্ট দায়িত্ব, সেখানে ব্যবস্থাগত পরিবর্তন জরুরি। এই দুই দিকের ভারসাম্যই একটি প্রতিষ্ঠানের শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বাস্তব প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি, খরচ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য রোগীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যোগাযোগ শুধু তথ্য পাঠানোর কাজ নয়; রোগী তথ্যটি বুঝেছেন কি না, তাঁর প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা গড়ে ওঠে এমন ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই।

এই দায়িত্ব কোনো একক বিভাগ বা পেশাজীবীর নয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি প্রশাসন, রোগীসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং ব্যবস্থাপনা দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সব উন্নয়ন উদ্যোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাই শুধু অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা চিকিৎসাসামগ্রীর দিকে তাকালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিজেদের কাজের মান যাচাই করে, রোগীর অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের বিরোধী নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে তা চর্চা করতে পারলে সুনামের ভিত্তি আরও শক্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উৎকর্ষ শুধু ভালো চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতায় নয়, বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার এবং সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মধ্যেও নিহিত। এই মানসিকতাই স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ