আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামের উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত:মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম তথা দেশের রাজনৈতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়াত জননেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান যে অবদান রেখেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামের উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বাকলিয়া শহীদ এনএমএমজে ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলন, মোজাম্মেল, জিহাদদের স্মরণে এই শান্তিপূর্ণ বাকলিয়ায় যে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল তৎকালীন মন্ত্রী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল নোমানের। তাঁর সুযোগ্য সন্তান সাইয়েদ আল নোমান তূর্য আজ কলেজটির গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন। এটাই তাঁর পিতার আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের বাস্তব প্রমাণ। নোমান ভাই কলেজটির জন্য রাতদিন পরিশ্রম করেছেন। বাকলিয়াবাসীও তাঁদের সঙ্গে ছিল। এটা আমরা ভুলে যেতে পারি না।

ডা. শাহাদাত অভিযোগ করেন, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নোমান সাহেবের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ। এটা খুবই দুঃখজনক। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট মানসিকতা কাজ করে। তারা কলেজের গভর্নিং বডি নিজেদের মতো করে বদলে দেয়।
মেয়র বলেন, নোমান ভাই আমাকে রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই অনুপ্রাণিত করেছিলেন। ছাত্ররাজনীতিতে যখন আমরা সংগঠন করতাম, তিনি পাশে থাকতেন, আমাদের হাতে কবিতার বই, কলম তুলে দিতেন, যাতে আমরা নবীনদের আকর্ষণ করতে পারি। তিনি ছিলেন উদার মনের, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী রাজনীতিক।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে থাকত না, যদি নোমান ভাই সময়মতো দৃঢ় অবস্থান না নিতেন। পাথরঘাটা মহিলা কলেজ, এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, জেনারেল হাসপাতাল, কর্ণফুলী ব্রিজ সবখানেই তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে শুরু করে আধুনিক চট্টগ্রাম গঠনে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, সেই আব্দুল্লাহ আল নোমানের নাম ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।

বাকলিয়া এলাকাবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, আজ যেসব উন্নয়ন দেখছেন বিস্তৃত রাস্তা, উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এর অনেক কিছুই শুরু হয়েছিল নোমান ভাইয়ের হাত ধরে। তাঁর মতো নেতার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, মানবিকতা এবং উন্নয়নচিন্তা আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সাঈদ আল নোমানের সভাপতিত্বে ও উপাধ্যক্ষ নুরুল আলম রাজুর পরিচালনায় শোক সভায় মূখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি প্রফেসারিয়াল ফেলো প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন। বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা এম এ সবুর, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, শফিকুর রহমান স্বপন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন,

আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, সাবেক বিএনপি নেতা এস কে খোদা তোতন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এস এম আবুল ফয়েজ, মো. কামরুল ইসলাম, জাফর আহমেদ, গভর্নিং বডির সদস্য জাকির হোসেন, মোহাম্মদ সৈয়দ, কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মালেক, রবিউল হাসান চৌধুরী প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আপন দুই ভাইবোন গ্রেপ্তার, রুবেলের বিরুদ্ধে ১১ মামলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ১৪ হাজার ৮০০ টাকাসহ আপন দুই ভাইবোনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোছা. বাবলি (২৬) ও মো. রুবেল রানা (৩২)।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হরিহরপুর (হাজীপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের বাবার নাম ছোট বাবু এবং মায়ের নাম মোছা. মেরিনা বেগম। তাঁরা চায়ের দোকানের ব্যবসার পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা করতেন বলে পুলিশের দাবি।

অভিযানকালে তাঁদের কাছ থেকে ২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাবলির চুলের খোঁপার ভেতর থেকেও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার রুবেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১১টি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ