চট্টগ্রামে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বিতর্ক ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত।

চবি সংবাদদাতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামে পাঠশালা রিসার্চ সেলে আয়োজনে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বিতর্ক ও বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি সেমিনার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল হল রুমে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

কৃইজ প্রতিযোগিতায় সর্বমোট ২০ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না জান্নাত প্রিয়া।এম এ আমিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআনিক সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী হোছাইন।

চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু বকর বলেন, আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমার কাছে মনে হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিরাই আজ প্রকৃত অর্থে বৈষম্যের শিকার। প্রশাসনিক পদে উপজাতিদের অগ্রাধিকার দেখা যায়- মন্ত্রী, কমিশনার পদগুলো উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, যেখানে বাঙালিদের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিদ্যমান আইন এবং নীতিমালার মধ্যে থেকেই আমাদের অধিকারের সুরক্ষায় সক্রিয় হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. আলী হোছাইন বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির আড়ালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রে রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে যেভাবে কৌশলে উপজাতিদের খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে তারা দাবি করতে পারে যে, আমরা আলাদা জাতি, আমাদের আলাদা রাষ্ট্র দিতে হবে। এটি একটি সুপরিকল্পিত বৈচিত্র্য বিচ্ছিন্নতার প্রচেষ্টা। এর প্রতিরোধ করতে হলে আমাদের সকল বাংলাদেশি নাগরিককে সচেতন হতে হবে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পাঠশালা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বলেন, পাহাড়ে বাঙালিরা বছরের পর বছর মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই অঞ্চলে বাঙালির ইতিহাস হাজার বছরের। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে বলা হয়েছে সকল চাকরিতে আদিবাসীরা অগ্রাধিকার পাবে। ফলে, বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হবেন কিন্তু বৈষম্যের কারণে চাকরি পাবেন না৷ আমরা চাই এই শান্তিচুক্তি সংস্কার হোক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, আমাদের আন্দোলন মূলত অধিকার আদায়ের জন্য। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব নাগরিক সমান সুযোগ পাবে। পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালিরা এখনো নানা বৈষম্যের শিকার।পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অস্ত্র জমা না দেওয়া, লাইসেন্সধারীদের দৌরাত্ম্য চলছে। শান্তিচুক্তির পরও শান্তি আসেনি, বরং একটি গোষ্ঠী সুবিধা ভোগ করছে। অথচ এই অঞ্চলে উন্নয়ন হয়েছে বাঙালিদের হাত ধরে। আমরা আমাদের অধিকার ছাড়বো না, প্রয়োজনে আন্দোলন করবো।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা তৌহিদুল ইসলাম এবং প্রকৌশলী আবুল কালাম।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের সাবেক শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক ফোরাম ‘পাঠশালা-সি এইচ টি রিসার্চ সেল’ চট্টগ্রামে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কাজ করছে ফোরামটি।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৬০ বছরের পথচলা পূর্ণ করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ছয় দশক পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৮ নভেম্বর বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী। এ উপলক্ষে জেমসের সংগীত পরিবেশনা, র‌্যালি, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, মধ্যাহ্নভোজসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন বাস্তবায়নে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা গেছে, হীরকজয়ন্তী উদযাপন ঘিরে ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে অংশ নিতে পারবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় দশকের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে হীরকজয়ন্তীর আয়োজন নানা কর্মসূচিতে সাজানো হয়েছে। হীরকজয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে আয়োজকরা।
হীরকজয়ন্তীতে দিনের প্রথম কর্মসূচিতে থাকবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন। র‌্যালি শেষে আলোচনা সভা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় দশকের পথচলা, ইতিহাস ও উল্লেখযোগ্য অর্জন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। আর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়াও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ড তারকা জেমস। তার সংগীত পরিবেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।হীরকজয়ন্তী উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী উৎসব উদযাপন হবে। উৎসবে নানা আয়োজন থাকবে। সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছি। রেজিস্ট্রেশন চলমান রয়েছে, সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক আয়োজন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশ সেরা ঢাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭’-এ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩৬তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৬তম।

গত বছরও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ কিউএস এ র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে।এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় হয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ