কুরবে ইলাহী ও হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)।

লেখক : শাইখ সাইফুল্লাহ ফারুকী চরণদ্বীপি ইসলামী লেখক ও গবেষক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

″

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর অগ্রবর্তীগণইতো অগ্রবর্তী। তারাই মুকাররাবিন তথা নৈকট্য প্রাপ্ত।’ (সুরা ওয়াকিয়াহ, আয়াত ১০-১১)। পবিত্র কোরআনুল কারিমের অত্র আয়াতে আল্লাহ তায়ালার বাণী ‘মুকাররাবীন’ শব্দ হতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকে আরবীতে তাক্বাররোব ইলাল্লাহ এবং উর্দু ও ফার্সী ভাষায় ‘কুরবে ইলাহী’ বলা হয়। আল্লাহ তায়ালার প্রিয়ভাজন বান্দায় পরিণত হওয়ার পথপরিক্রমায় ‘মাকামে কুরবে ইলাহী’ অর্জন পূর্বক ‘মাকামে মাহবুবিয়ত’ অর্জানান্তে আল্লাহর প্রিয়ভাজন বান্দা তথা অলি আল্লাহ হিসাবে পরিগণিত হন। ইসলামের অন্তর্নিহিত দিক তরিকতের পরিভাষায় ‘কুরবে ইলাহী’ হলো পরম প্রেমাস্পদ আল্লাহর সাথে মিলনের প্রত্যাশায় রুহানী পরিভ্রমণের সবিশেষ অবস্থা যা সালিকের হৃদয়ের আল্লাহর প্রেমকে অধিকতর জাগ্রত রাখে এবং স্রষ্টার নৈকট্য হতে সামান্যতম দূরত্ব ব্যক্তিকে বিচ্ছেদের যাতনায় ব্যথিত করে তোলে। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলাধীন চরণদ্বীপ গ্রামে আবির্ভূত আরবের বিখ্যাত কোরাইশ বংশধর কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শাইখ অছিয়র রহমান ফারুকী কোরাইশী চরণদ্বীপি (কঃ) ছিলেন খোদা প্রেমে বিভোর কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বিখ্যাত অলি আল্লাহ। ছাত্রাবস্থায় বিকেলে সহপাঠিদের সাথে খেলাধুলা না করে নদীর তীরে কিংবা নির্জন স্থানে একাকী তন্ময় হয়ে ভাবনা, গভীর রাতে মসজিদে তাহাজ্জুদ আদায়পূর্বক মোরাকাবা-মোশাহাদা রত থাকা, দিবসে নিয়মিত রোজা পালন হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)’কে কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে পরম মাকাম শিখরে উন্নীত করে।

পবিত্র কোরআনুল কারিমের কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ব্যাপারে বিভিন্ন স্থানে আলোকপাত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর গ্রামবাসীদের মধ্যে কতিপয় লোক এমনও আছে যারা আল্লাহর প্রতি এবং কিয়ামাত দিনের প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখে, আর যা কিছু ব্যয় করে তা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপকরণ ও রাসূলের দু‘আ লাভের উপকরণ রূপে গ্রহণ করে। স্মরণ রেখ, তাদের এই ব্যয় কার্য নিঃসন্দেহে তাদের জন্য (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের (কুরবে ইলাহী) কারণ; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতে দাখিল করে নিবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ হচ্ছেন অতি ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়। (সুরা তাওবাহ, আয়াত : ৯৯) । মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে। ইল্লিয়্যীন কি তা আপনি জানেন? (তা হচ্ছে) লিখিত পুস্তক। আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তরা (কুরবে ইলাহী প্রাপ্তগণ) এটা প্রত্যক্ষ করবেন। (সুরা মুতাফফিফীন, আয়াত : ১৮ – ২১)। পবিত্র হাদীস শরীফেও কুরবে ইলাহী সম্পর্কে সবিস্তার বর্ণনা রয়েছে যা ব্যক্তিকে পার্থিব সৌন্দর্য পরিহারপূর্বক সৌন্দর্যের আধার পরম প্রেমাস্পদ আল্লাহর দিকে আকৃষ্ট করে । আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিপালক আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হয়, আমি তখন তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হই। আর সে যখন আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে দু‘হাত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (সহীহ বুখারী, অধ্যায় : জাহমিয়াদের মতের খন্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ।)
অত্র হাদীসে পাকে আল্লাহর প্রতি বান্দার নৈকট্য তথা কুরবে ইলাহীর বিনিময়ে আল্লাহর নৈকট্য প্রদানের কথা বিধৃত হয়েছে।

কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত ব্যক্তির মর্যাদাগত অবস্থান সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জিত হয় সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত হাদীসে পাকে। হজরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি, তা দ্বারা কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে। আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদাত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি কোন কাজ করতে চাইলে তা করতে কোন দ্বিধা করি না, যতটা দ্বিধা করি মু’মিন বান্দার প্রাণ নিতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দ করি। (সহিহ বুখারী, অধ্যায় : কোমল হওয়া।) নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের প্রকৃষ্ট উদাহরণ পরিলক্ষিত হয় কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শাইখ অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ) এর জীবন চরিতে। বর্ণিত রয়েছে, একদা এক ব্যক্তি গভীর রজনীতে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) এর পাশ্ববর্তী মহল্লায় পাকা আম চুরি উদ্দেশ্য আম গাছে উঠে। গাছে উঠার সাথে সাথে সে অন্ধ হয়ে যায়। হাতড়িয়ে হাতড়িয়ে কোন রকম গাছ থেকে নেমে সে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুমন্ত পাড়া প্রতিবেশী জাগ্রত হয়ে তার করুণ অবস্থার কারণ জানতে জিজ্ঞাসিত হলে উপস্থিত লোকজনকে চুরি ও তার শাস্তির কথা উল্লেখ পূর্বক হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) কদমে নিয়ে যাওয়ার অনুনয় বিনয় করতে থাকে। তন্মধ্যে উপস্থিত একজন বলেন, ফকির মাওলানা সাহেব (হজরত শাহ চরণদ্বীপি) দরবারে নেই। তিনি তাহাজ্জুদ ও মোরাকাবার নিমিত্তে ফকিরাখালী জামে মসজিদে গেছেন। ইচ্ছা করলে সেখানে যেতে পারেন। চোর লোকটি উপস্থিত একজনকে নিয়ে অন্ধত্ব হতে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশায়‌ হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) দোয়ার জন্য ছুটে গেলেন উক্ত মসজিদে। মসজিদের নিকটবর্তী হতেই সঙ্গী লোকটি প্রত্যক্ষ করলো, মসজিদে অনেক নুরানী ব্যক্তির সমাবেশ। জুব্বা ও পাগড়ী পরিহিত নুরানী ব্যক্তিবর্গের চেহেরায় নুরের আলো বিকিরণ হচ্ছে। হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) সম্মুখে আর সবাই তারই পেছনে আস্তে আস্তে মসজিদ হতে বের হচ্ছে। অনুমিত হয় যে নুরানী ব্যক্তিগুলো জমিনে পরিভ্রমণরত আল্লাহর ফেরেস্তাগণ যাদের সাথে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) নামাজ আদায় করেন। সবাই মোলাকাতপূর্বক প্রস্থানের পর দূর হতে প্রত্যক্ষকারী সঙ্গী ব্যক্তি সর্বশেষে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)’র নিকট এসে চুরের করুণ কাহিনী অন্ধত্বের বর্ণনাপূর্বক তা দূরীকরণের দোয়া আরজি করেন। হজরত শাহে চরণদ্বীপি চোরের দিকে নজর দেয়ার সাথে সাথে তার অন্ধত্ব বিদূরীত হয়। সঙ্গী লোকটি নুরানী ব্যক্তিগণ সম্পর্কে পুনরায় জিজ্ঞাস করলে তিনি এ সম্পর্কে লোক সমাজে বর্ণনা না করার জন্য হুকুম দিয়ে প্রস্থান করেন।’ এ ঘটনায় অনুমিত হয় যে, হজরত শাহে চরণদ্বীপি আল্লাহ তায়ালার এমন নৈকট্যপ্রাপ্ত তথা কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত আল্লাহর অলি যিনি নুরানী ফেরেস্তার সাথে ইবাদত ও বিচরণ করেন।

কুরবে ইলাহী অর্জনে কুতুবুল আকতাব হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ) ছিলেন অনন্য‌ ও বেলায়ত গগণে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। বোয়ালখালী উপজেলার গোমদন্ডী নিবাসী মোহাম্মদ ছদর আলী ফকির ছাহেব হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর ফয়েজ প্রাপ্ত ভক্ত শিষ্য ও খলিফা ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন, ‘আমি লোক পরম্পরায় হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর অলৌকিক কারামত ও আধ্যাত্মিক শক্তির বিষয় অবগত আছি। গোমদন্ডী নিবাসী জান আলী ফকির ও মুন্সী মিঞাজি তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা হজরত শাহে চরণদ্বীপি (ক.) এর হাতে বায়াত হওয়ার জন্য আমাকে বলেন। উত্তরে আমি বললাম, তিনি যদি সত্য কামেল অলি আল্লাহ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে আমাকে তাঁর খেদমতে পৌঁছাতে পারেন। একদা মেরাজ রজনীতে নামাজ সমাপণ করতঃ নিদ্রিত হয়েছি, স্বপ্নে দেখলাম, কেহ বলতেছে, অদ্য রজনীতে বহু লোক ফয়েজ নেয়ামত লাভ করবেন। তৎপর দেখলাম একখানা মণিমুক্তা খচিত জ্যোতির্ময় সিংহাসনে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.)। চতুস্পার্শ্বে অসংখ্যক লোক তাঁর যশঃ কীর্তন করতঃ গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী, হজতর শাহ চরণদ্বীপির জয় ঘোষণার সহিত তকবির ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে দিগমন্ডল প্রকম্পিত করেছেন। এই দৃশ্য দেখে আমার হৃদকম্প হল। ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ জপনা করছি। এমন সময় একজন লোক আমার হাত ধরে জনতার মধ্য দিয়ে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর সামনে উপস্থিত করল। আমি ভয়ে জড়সড় হয়ে পুন:পুন: ভূমি চুম্বন করছি। হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করতঃ বলেন-‘মিঞা হুঁশিয়ার হও, গাফেল থাকিও না, আমি তোমাকে পথ দেখাচ্ছি। আমার নির্দেশিত পথে চল।’ এই বলে আমাকে তাঁর সামনের বদনা হতে জল পান করালেন। মুহূর্তের মধ্যে আমার অজ্দ ও রোখছ হতে লাগল। নিদ্রা হতে জাগরিত হয়ে বেখুদী অবস্থায় জিকিরের সহিত অজ্দ করতে থাকি।” (জীবনী ও কেরামত, অধ্যায় : কারামত ও তাছাররোফ)। কুরবে ইলাহীর মাকাম অর্জনান্তে মাকামে মাহবুবিয়ত অর্জনে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) বেলায়ত জগতে এমন মর্তবার অধিকারী হন। আল্লাহ তায়ালার বেলায়ত ও নৈকট্য তথা কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শেখ অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ)’র ওফাত শরীফ স্মরণে আসন্ন ১২ ভাদ্র বেসাল বার্ষিকী ওরশ শরীফে উনার নুরানী সত্তায় অগণিত সালাম আরজ করছি।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাবেক মেয়র মনজুরের সঙ্গে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আলহাজ্ব হোসনেরা মনজুর আলম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। সাক্ষাৎকালে হযরত শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান গাউসুল আজম বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর খলিফা, মাইজভাণ্ডারী গানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং ফটিকছড়ির দক্ষিণ ধর্মপুরের মহান অলি হযরত শাহসূফি সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর আধ্যাত্মিক জীবন, সাধনা ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ধর্মীয় ঐতিহ্য আধ্যাত্মিক সাধনা ও মাইজভান্ডারী সংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ মতবিনিময়ীকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ সময় প্রতিনিধিদল তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শন, মাইজভাণ্ডারী সংগীত ও সুফিবাদী ভাবধারার তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমকে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে তাঁকে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের আমন্ত্রণপত্র এবং ‘সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী গান সমগ্র’ বইটি সৌজন্য উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। সভায় হযরত শাহসূফি সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর পরিবারের সদস্য শাহজাদী ফাতেমা বেগম (খুশি), শাহজাদী আকলিমা আক্তার (পুতুল) ও শাহজাদী রাজিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক সাংবাদিক আল সিরাজ মাইজভাণ্ডারী, মো. জাভেদ হাসান, রাকিব, পিএস লিটনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ সহ উপস্তিত ছিলেন।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল ও গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন; শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল ও গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
ষষ্ঠী থেকে বিজয় দশমী পর্যন্ত,পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, আনন্দ, উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার ২১ অক্টোবর সন্ধ্যার পূর্বলগ্নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে বিদায়ের বিষাদ আর আগামী শরতে দেবী কে আবার বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা।
বুধবার দুপুর ২টা থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের পূজামণ্ডপ থেকে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিমা নিয়ে নদীর ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ভক্তদের মধ্যে একদিকে ছিল প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগ, অন্যদিকে ছিল পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়।

বড়াল নদীতে ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় মন্দির, কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির, জগাতলা দুর্গা মন্দির, পাথরঘাটা দুর্গা মন্দির ও শরৎনগর বাজার মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। অন্যদিকে চড়-ভাঙ্গুড়া ঘোষপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, কৈডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, নৌবাড়ীয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বেতুয়ান সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, দিলপাশার দুর্গা মন্দির ও অষ্টমনিষা দুর্গা মন্দিরে প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হয়।

প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে নদীর ঘাটগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তারা। বিসর্জনের সময় ভক্তরা সব অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির বিকাশ এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর তাৎপর্য শুধু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই এর অন্যতম শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর শরৎকালে দেবী দুর্গা পিতৃগৃহে আগমন করেন। কয়েক দিনের পূজা-অর্চনা ও আনন্দ-উৎসব শেষে বিজয়া দশমীতে তাকে বিদায় জানানো হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, দেবী ফিরে যান কৈলাসে স্বামী মহাদেবের গৃহে। এরপর আবারও শরতের আগমনে দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকেন ভক্তরা।
প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। দেবী দুর্গার কাছে তারা পরিবার-পরিজনের সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করেছেন। আগামী বছর আবারও উৎসবের আনন্দে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা তাদের।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল বলেন, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূরাইয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকাশের মধ্য দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে, শারদীয় দুর্গোৎসবের শিক্ষা হোক সেই মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ