বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামের বিশ্বমৈত্রি বৌদ্ধ বিহার ও কর্ণফুলী বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসাবে বিজয়ানন্দ ভিক্ষুকে জড়িয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগীপাহাড় লুসাই হলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চট্টগ্রামের বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার ও কর্ণফুলী বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসাবে বিজয়ানন্দ ভিক্ষু দীর্ঘ ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সম্প্রতি একটি গোষ্ঠী ঐ বৌদ্ধ বিহারের সম্পদ লুণ্ঠন করার হীন মানসে ষড়যন্ত্র করে সভাপতি ও সহ-সভাপতির সভাপতিত্বে কোন সভা না করে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রধান সমন্বয়কারী অমল বড়–য়া ঐ বৌদ্ধ বিহারগুলো ও ভিক্ষুদের বিরুদ্ধে কুচক্রী, বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করছি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, একটা গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এবং বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার ও বড়গাঙ শিশু সদন এর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের সম্মানহানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। বিজয়ানন্দ ভিক্ষু দুইটি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ১। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার ২। উক্ত বৌদ্ধ বিহারের শাখা বৌদ্ধ বিহার চট্টগ্রাম কর্ণফুলী বড়গাঙ শিশু সদন ও বড়গাং বৌদ্ধ বিহার। এ দুইটি বৌদ্ধ বিহারে সার্বিকভাবে ধর্মীয় কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং এ যাবৎ দায়িত্ব দেওয়ার পর দুইটি বৌদ্ধ বিহার দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। এ উন্নতি দেখে অমল বড়–য়া সহ ষড়যন্ত্রকারীগণ হিংসার বর্শবর্তী হয়ে গভীর চক্রান্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, বিগত ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল তারিখে অমল বড়–য়ার সভাপতিত্বে সভার কার্যবিবরণী বহিতে দেখা যায় আনন্দ বড়–য়া চৌধুরীর নাম আছে, কিন্তু তাঁর স্বাক্ষর নেই আর অনুরূপ সভাপতির নাম আছে স্বাক্ষর নেই। এতে বুঝা যায় যে, এ সভা সম্পূর্ণ ভূয়া। আমাদের দুই বিহারাধ্যক্ষ কোন শর্ত ভঙ্গ করে নাই। তারা বৌদ্ধ ধর্মালম্বী হয়েও অবৌদ্ধের কাজ করছে। তারা বুদ্ধ ধর্মের বিনয়, বিধি বিধান মানে না বিধায় একজন বৌদ্ধ সন্যাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এবং বুদ্ধের বিনয় মতে ধর্মীয় গুরু সব সময় সর্বোচ্চ স্থানে থাকে।

শুধু বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু নয়, সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি প্রত্যেক ধর্মীয় গুরু যার যার ধর্ম অনুসারে সমাজে সর্বোচ্চ স্থানে রাখেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, বড় গাঙ শিশু সদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার হচ্ছে চট্টগ্রামস্থ আগ্রাবাদ সিডিএ আ/ এ বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের শাখা বৌদ্ধ বিহার হিসেবে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ সহ তথা বিশে^র বৌদ্ধ প্রতিরূপ বৌদ্ধ রাষ্ট্রগুলোই অবগত আছেন। এটা বৌদ্ধ দায়ক দায়িকাগণ অস্বীকার করতে পারবে না।

সুতরাং আমাদের দুই বৌদ্ধ বিহারের আমার গুরু অধ্যক্ষ বিজয়ানন্দ ভিক্ষু। ১৯৯৭ ইং হতে ২০২৫ ইং অদ্যাবধি সুদীর্ঘ ২৮ বছর বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার ও বড়গাং শিশু সদন এবং কেন্দ্রীয় বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার এর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সার্বিক দায়িত্বে আছে তিনি অস্থায়ী অধ্যক্ষ নয়, তিনিই আজীবন অধ্যক্ষের পদে আসীন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, দক্ষিণ শাহমীরপুর বড়–য়া পাড়ার স্থানীয় কমিটি কর্তৃক দুই বিহারের অধ্যক্ষ ভিক্ষুকে/ পুরোহিত অধ্যক্ষ পদ হতে অপসারণ করতে পারে না। কারণ স্থানীয় কমিটির উপরে ও উর্ধ্বে কেন্দ্রীয় কমিটি চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এবং শাখা কমিটি সিইপিজেড চট্টগ্রাম, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা শাখা কমিটি রয়েছে। উক্ত উর্ধ্বতন কমিটির শলাপরামর্শ না করে, যে কোন মনগড়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছি। বিহারাধ্যক্ষের জীবদ্দশায় তার শিষ্যমন্ডলী বিহার অধ্যক্ষ হতে পারে না। পক্ষান্তরে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষকে অব্যাহতি অথবা অপসারণ করা কোন কমিটির এখতিয়ার নেই। তার অধ্যক্ষের পদ স্থায়ী, কারণ তিনি অবৈতনিক কাজ করছেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, দক্ষিণ শাহমীরপুর বড়–য়া পাড়ার স্থানীয় কমিটি হল একটি ভূয়া বানোয়াট কমিটি এই কমিটিতে যিনি সভাপতি তিনি অনেক বছর বিদেশে অবস্থান করছেন। গত ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই বিহারধ্যক্ষকে ভুল বুঝিয়ে স্থানীয় কমিটিতে অনুমোদন করাইছেন।

বিহারাধ্যক্ষ অত্যন্ত সরল সাদাসিদে বৌদ্ধ ধর্মের পুরোহিত। উক্ত কমিটি বিহারাধ্যক্ষকে বলে ছিলেন আমরা দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে সিয়ংদান বা পিন্ডদান হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। তাই আমরা এবার নতুন কমিটি গঠন করে সিয়ং বা পিন্ডদান করিব বলে প্রলোভন দেখিয়ে কমিটিতে স্বাক্ষর করান। স্থানীয় কমিটি বিহারাধ্যক্ষ কিংবা ধর্মীয় গুরুর সাথে এ রকম ব্যবহার করার প্রতারণার শামিল। তাই আমরা চট্টগ্রামস্থ আগ্রাবাদ বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অধীনে সকল কমিটি কর্তৃক দক্ষিণ শাহমীরপুর বড়–য়া পাড়াস্থ স্থানীয় ভূয়া কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি।

উল্লেখ্য যে,উক্ত মিটিং এ সভাপতি উপস্থিত ছিল না এবং তার নাম না লিখে সিল/ স্ট্যাম্প দিয়ে তার নাম লিখে দেয়া হয়েছে। আর তার স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। অথচ অধ্যক্ষের নাম কম্পিউটারে লেখা হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রেণোদিতভাবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম কম্পিউটারে লেখা হয়নি। সভাপতির স্বাক্ষর জাল বলে সন্দেহতীত মনে হয়। যেহেতু সভাপতি মহোদয় দেশের বাইরে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, দক্ষিণ শাহমীরপুর স্থানীয় বড়–য়া পাড়ার কমিটির সভাপতি দেবপ্রিয় বড়–য়া কয়েক বছর যাবৎ দুবাই নামক একটি রাষ্ট্রে রয়েছে। কার্যকরী কমিটিতে সভাপতি থাকাবস্থায় প্রধান সমন্বয়কারী কিভাবে সভায় সভাপতিত্ব করতে পারে এবং কমিটির সভায় মিটিং হলে উক্ত মিটিং এ সভাপতি মহোদয় তার ক্ষমতাবলে সভাপতিত্ব করেন এবং তার অবর্তমানে সহ সভাপতি পদাধিকার বলে সভাপতিত্ব করে সভা পরিচালনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, ১৯৯১ সালের ২৫ জানুয়ারী ‘বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে সর্বপ্রথম অর্থায়ন করেছিল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহার। তখন হতে ‘বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার’টি আগ্রাবাদস্থ বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অন্তর্গত ও আওতাধীন শাখা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় স্বর্গীয় প্রয়াত ভদন্ত ধর্মতিলক ভিক্ষু মহোদয়। বর্তমানে তাঁর উত্তরসুরী হিসেবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন শ্রদ্ধেয় বিজয়ানন্দ ভিক্ষু মহোদয়।

উল্লেখ্য তিনি বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারেরও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় বিজয়ানন্দ ভিক্ষু মহোদয় আমার গুরু। গুরুর আদেশে আমি বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ পদে আসীন রয়েছি। আমি কোন দায়ক-দায়িকা বা জনগণ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হই নাই।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, এই বৌদ্ধ বিহারের অবস্থানরত ভিক্ষুদের খাবার-দাবার, চিকিৎসা ও ভরণ-পোষণসহ যাবতীয় বিষয়ে দেখাশোনা করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও কোম্পানীতে চাকুরীরতরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে আসা চট্টগ্রামে অবস্থানরত হাজার হাজার দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকাবৃন্দ। অধিকাংশ দায়ক-দায়িকাবৃন্দ বসবাস করেন সিইপিজেড এবং কেইপিজেড এলাকায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের পাশে রয়েছে একটি ছোট বড়–য়া পাড়া। তাঁরাও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। তাঁদের পাড়ায় পূর্বে নাম ছিল রতন জ্যোতি বৌদ্ধ বিহার। বর্তমানে দেয়াং পাহাড় শাক্যমনি বৌদ্ধ বিহার নামে একটি বিহার রয়েছে। তাহারা ঐ বৌদ্ধবিহারে বিভিন্ন পূজা-পার্বণ অনুষ্ঠান উদযাপন করে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, আমি জেনে ও শুনে খুবই মর্মহত, হতাশ ও হতবাক যে, স্থানীয় অমল বড়–য়ার সভাপতিত্বে গত ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল দক্ষিণ শাহ মিরপুরস্থ বড়–য়া পাড়ার দায়ক-দায়িকাদের আলোচনা সভায় অত্র বিহারে অনুষ্ঠিত হয়। কার্যবিবরণী বহিতে লেখা পড়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত এবং হতাশ। কারণ তাঁরা এ যাবৎ পর্যন্ত কোন সভা বা মিটিং বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে করেননি। যাবতীয় সভা/ মিটিং তাঁরা স্থানীয় বড়–য়া পাড়ার বৌদ্ধ মন্দিরেই করে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, যেহেতু অমল বড়–য়ার সভাপতিত্বে এই বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারে কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি অতএব সেই সভার কার্যবিবরণী ও গৃহীত সিদ্ধান্ত ভুয়া, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। তাছাড়া অমল বড়–য়া স্থানীয় কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারীর সভাপতিত্ব করে আর পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি সে স্থানীয় কমিটির সভাপতি বাদ দিয়ে প্রধান সমন্বয়কারীকে সভাপতিত্ব করার অর্থ হচ্ছে বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহার ও বড়গাঙ শিশু সদন সহ ভিক্ষদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে বৌদ্ধ বিহার ভোগ দখল করার চক্রান্ত করছে। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই সভার কার্যবিবরণী ও গৃহীত সিদ্ধান্ত ভুয়া, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বড়গাঙ শিশুসদন ও বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মকীর্তি ভিক্ষু, প্রজ্ঞা দর্শন ভিক্ষু, কুমার কশ্যপ ভিক্ষু ও বিশ^মৈত্রী বৌদ্ধ বিহার এবং এর শাখা বিহার বড়গাঙ বৌদ্ধ বিহারের পরিচালনা কমিটি, দুই বিহারের অঙ্গ সংগঠন এবং চট্টগ্রাম শহরস্থ সচেতন বৌদ্ধ সমাজ।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

৭ নভেম্বর সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়: নাজিমুর রহমান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেছেন, ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক সংহতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম কে মুক্ত করে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করে।

তিনি আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ এর পরিচালনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের স্মৃতি বিজড়িত ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণ পূর্বক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই দিনের ইতিহাসের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অভিযাত্রার পথে এগিয়ে যায়।

বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, কোনো ব্যক্তি বা দলের চেয়ে দেশ বড়, দেশের মানুষের স্বার্থ বড়। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হতে হবে মানুষের কল্যাণ, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য সুসংহত করা।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করে বিভেদ, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে আমাদের প্রত্যয় হোক—জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করা। তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল বীর সন্তান ও শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, আজকের এই দিনে ১৯৭৫ সালে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আর্দশের প্রাণপুরুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তিনি এ সময় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ হৃদয়ে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট থাকুক, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। গণতন্ত্রের বিজয় হোক। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, মুজিবুর রহমান মুজিব, মোহাম্মদ আলী সাকী, সি. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, এরশাদ উল্লাহ, গুলজার হোসেন, তানভীর মল্লিক, ওমর ফারুক, সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, শাহজালাল পলাশ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নুর হোসেন উজ্জ্বল, মহিউদ্দিন মুকুল, আসাদুজ্জামান রুবেল, সহ-সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির, হামিদুল হক চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, সিরাজ শিকদার, ইব্রাহিম খান, সাইদুল হক, মহানগর যুবদলের সদস্য প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, সাখাওয়াত কবির সুমন, থানা যুবদলের বজল আহমেদ, শেখ রাসেল, মন্জুর আলম মন্জু, তাজ উদ্দিন তাজু, মোর্শেদ কামাল, ওয়ার্ড যুবদলের মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল আলম, জহিরুল ইসলাম, মাসুদ আলম ও সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ