বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছে সাময়িকীটি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে জনমত জরিপ ও নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চলছে বিচার বিশ্লেষণ। এনিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট তাদের সর্বশেষ বিশ্লেষণে যা ফুটে উঠেছে, তাই প্রকাশ করেছে তাদের নিজস্ব মাধ্যমে। তাদের প্রকাশিত তথ্যে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।প্রকাশিত সাময়িকীটির সাম্প্রতিক সংখ্যায় বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে সুপরিচিত একটি পরিবারের উত্তরসূরি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের নেতৃত্বে আসার প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।


ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর এই আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান ঘটে।বিগত সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবেও সমালোচনা ছিল। দ্য ইকোনমিস্ট আরও জানায় , গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুলে দেবে।


নির্বাচনের পূর্বে তারেক রহমানকে নিয়ে এমন সময়ে এপূর্বাভাস দেয়া হলো, যখন টাইম ম্যাগাজিন, ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনমতে এগিয়ে থাকার বিষয়টি গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে সাময়িকীটিতে । ঐপ্রতিবেদনে বলা হয়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে রাজধানীতে প্রবেশের সময় বিপুল সংখ্যক সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। উচ্ছ্বাসের কারণে বাসটি কয়েক মাইল পথ খুব ধীরগতিতে চলতে থাকে, যেন সমর্থকেরা কাছ থেকে তাকে দেখতে পারেন।


বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছে সাময়িকীটি। সেপ্রতিবেদনে আরও বলা হয়- ২০০৮ সালের পর দেশে আর কোনো বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ নাগরিক কখনো প্রকৃত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচনই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। অধিকাংশ মানুষের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সরকার অর্থনীতিতে একটি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদের জন্য একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব।সংসদে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অতীত অভিজ্ঞতা কম জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে দ্যা ইকোনমিস্ট লিখেছে-দলটি ক্ষমতায় গেলে সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে তাদের উত্থান উদ্বেগ তৈরি করেছে। দলটি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি, কিন্তু কর্মীদের দ্বারে দ্বারে পাঠাচ্ছেন নারীদের ভোট দাঁড়ি পাল্লায় দেয়ার জন্য। এই রাজনৈতিক বাস্তবতাই তারেক রহমানের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করে সাময়িকীটিতে। কারণ বিভিন্ন জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

বিএনপি দীর্ঘদিন তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। তার পূর্বে বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নব্বই ও দুই হাজারের দশকে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বলা হয়, তারেক রহমান নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিস্তারিত না দিলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ আয়ের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন।
তিনি দেশের পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে উপযুক্ত মনে করেন এবং তাকে একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী হিসেবে দেখেন।দ্য ইকোনমিস্ট আরও লিখেছে, তারেক রহমানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার অবশ্যই হবে।

তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—যে সরকার জনগণের জন্য কার্যকর কর্মসূচি দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের পতন অনিবার্য। প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন- প্রতিশোধ সমাজের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।বিশ্লেষকদের মতে-লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই রাজনীতিককে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযত ও পরিণত মনে হচ্ছে। দেশে ফেরার পর জনমানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে চলছেন।

সংগৃহীত –

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবহৃত দুটি মোবাইল চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে আ’লীগ নেত্রীর উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নুর নাহার নামে ওই নারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশের ভাষ্য, তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন কিংবা অস্বাভাবিক কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নুর নাহারের মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে সন্দেহ পুলিশের। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মাঝিরঘাট এলাকার নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছিলেন, নুর নাহারের বয়স প্রায় ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছেন। স্বামী আগেই মারা গেছেন। ৪৫ দিন আগে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বড় ছেলে মারা যান। ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকতেন। ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বাবার বাড়িতে ছিলেন। তিনি পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।

সদরঘাট থানার ওসি একরাম উল্লাহ বললেন, মহিলার বাড়ির সামনে-পেছনে দুই গেট। পেছনের গেটের সঙ্গে লাগোয়া তিনটি ভাড়া ঘর আছে। সেগুলোতে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক ও কয়েকজন পোশাককর্মী ভাড়া থাকেন। উনার ছোট ছেলে কেএসআরএম গ্রুপে চাকরি করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি অফিসে চলে যান। সন্ধ্যার পরও পেছনের গেট খোলা দেখে ভাড়াটিয়া কয়েকজন বাসায় প্রবেশ করেন।

তারা মহিলার বেডরুমের দরজাও খোলা পান। ভেতরে গিয়ে দেখেন মহিলা বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে বলে জানালেন ওসি একরাম। বললেন, শরীরে আমরা কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছুই পাইনি। আমাদের কাছে নরমাল ডেথ বলে মনে হয়েছে। তবে উনার দুইটা মোবাইল মিসিং। এজন্য আমাদের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। পুলিশ নুর নাহারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ছেলে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন বলে ওসি জানালেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ