চট্টগ্রামে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ৬৫৩টি ভোট কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলা মিলিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ১৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় সূত্র জানায়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য উপকরণ বুধবার সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হবে। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি উপকরণ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।ভোটগ্রহণের জন্য প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার মিলিয়ে ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন এবং নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০জন। এ ছাড়া, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৭০জন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটির অবস্থান পুরোপুরি মহানগরীতে। ১০টি আসনের অবস্থান জেলায়। বাকি তিনটি আসন জেলা ও মহানগরীর কিছু অংশ মিলে আছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে মহানগরী ও নগরী সংলগ্ন উপজেলা মিলিয়ে মোট পাঁচটি আসনে বিভাগীয় কমিশনার, মহানগরীর একটি আসনে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জেলার ১০টি আসনে জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ১৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১২ হাজার একটি কক্ষ বা বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ২৩টি। অর্থাৎ দুই বছর পর হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে ৫৮টি ভোটকেন্দ্র কমেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৬০৭টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) ১৬ থানার আওতাধীন। বাকি ১৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭টি থানার আওতাধীন।

পুলিশের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ-গুরুত্বপূর্ণ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। নগরীতে ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০ টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, আমরা কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছি না। আমরা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ কিংবা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বলছি। তবে এটা ঠিক যে, যেসব কেন্দ্র কিছুটা দুর্গম এলাকায়, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না, পাহাড়ি এলাকা অথবা সন্দ্বীপের বিচ্ছিন্ন এলাকা, সেগুলোতে ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আমরা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছি। আবার অনেক ভোটকেন্দ্র উপজেলার মূল কেন্দ্র কিংবা শহরের কাছাকাছি হলেও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকদের মনোভাব, পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছি।

যেসব ভোটকেন্দ্রে আমরা মনে করছি যে বেশি নজরদারি প্রয়োজন, সেখানে আমাদের অতিরিক্ত ফোর্স থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্সকে আমরা এমন এলাকায় মোতায়েন রাখব, যেন যেকোনো ঘটনার খবর পেলে ২-৪ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া, এসব ভোটকেন্দ্রের আশপাশে সার্বক্ষণিক টহল তো থাকবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জেলার কিছু বিশেষ ও দূরবর্তী কেন্দ্র যেমন— উড়িরচর, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীর পাহাড়ি এলাকাগুলোকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর ইউনিট স্থাপন করে কাজ করা হচ্ছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার–ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার–ভিডিপির সংখ্যা ১০জন, গ্রাম পুলিশ থাকবে এক থেকে দু’জন। সেইসঙ্গে থাকবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড। এ ছাড়া, নির্বাচনে সেনাবাহিনীও মোতায়েন থাকবে। শুধু ভোটের দিন নয়, ভোটের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যাচ্ছে পুনর্ব্যবহারে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিট এখন ‘প্লাস্টিক বর্জ্য’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা। পরিবেশ রক্ষায় শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।তাঁর এ উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় জনসচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‌্যালি।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ।
উদ্যোগ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। যেখানে সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করতেই প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ চালু করা হয়েছে। সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।তিনি বলেন, শিশুদের মুঠোফোনের পর্দায় আটকে না রেখে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান (সি), পিসিএসসি, বিএন; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ফয়’স লেক সংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও ডাবের খোসা যত্রতত্র না ফেলার আহ্বান জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। পাশাপাশি বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায় পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক করতে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, গত ২৫ জুলাই পরিচালিত অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা থেকে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এতে ছয় হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দুই হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ১০০টি হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হাসপাতালের সাফল্য কি শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলো, কতটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলো কিংবা কত আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব? নাকি এর পাশাপাশি দেখতে হবে, রোগী কত সহজে সেবা পেলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য কতটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন, অভিযোগ জানালে কত দ্রুত সাড়া পেলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করা হলো? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

চিকিৎসার মান নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যথাযথ রোগনির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর কাছে স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় আরও বিস্তৃত একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া, অপেক্ষা, বিলিং, চিকিৎসা-পরবর্তী নির্দেশনা—প্রতিটি পর্যায় তাঁর আস্থা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে চিকিৎসার উৎকর্ষ এবং সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

জবাবদিহির প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হলে, রোগী প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে না পারলে কিংবা অভিযোগের যথাযথ সমাধান না হলে শুধু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায় তখনই, যখন সে নিজের কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে, দুর্বলতা শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দায়িত্ব নেয়।

এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিমাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু রোগীর সংখ্যা বা সেবার পরিমাণ নয়, অপেক্ষার সময়, অভিযোগের ধরন ও সমাধান, তথ্য প্রদানের স্বচ্ছতা, রোগীর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী যোগাযোগের মতো বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে। তবে এসব সূচককে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। সংখ্যার পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা শনাক্ত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করে না। তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্ব নির্ধারণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থা কেবল আরও কিছু রিপোর্ট তৈরির মাধ্যম হয়ে থাকবে।

একই সঙ্গে জবাবদিহিকে শাস্তিমূলক সংস্কৃতি হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। ভুল বা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার কারণ বোঝা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সংশোধন করা এবং পুনরাবৃত্তি কমানো। যেখানে অবহেলা বা অনিয়মের প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে যথাযথ তদন্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। আর যেখানে সমস্যার উৎস জটিল প্রক্রিয়া, অপর্যাপ্ত সমন্বয় বা অস্পষ্ট দায়িত্ব, সেখানে ব্যবস্থাগত পরিবর্তন জরুরি। এই দুই দিকের ভারসাম্যই একটি প্রতিষ্ঠানের শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বাস্তব প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি, খরচ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য রোগীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যোগাযোগ শুধু তথ্য পাঠানোর কাজ নয়; রোগী তথ্যটি বুঝেছেন কি না, তাঁর প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা গড়ে ওঠে এমন ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই।

এই দায়িত্ব কোনো একক বিভাগ বা পেশাজীবীর নয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি প্রশাসন, রোগীসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং ব্যবস্থাপনা দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সব উন্নয়ন উদ্যোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাই শুধু অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা চিকিৎসাসামগ্রীর দিকে তাকালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিজেদের কাজের মান যাচাই করে, রোগীর অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের বিরোধী নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে তা চর্চা করতে পারলে সুনামের ভিত্তি আরও শক্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উৎকর্ষ শুধু ভালো চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতায় নয়, বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার এবং সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মধ্যেও নিহিত। এই মানসিকতাই স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ