চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ডাক এসেছিল : বিভাগীয় কমিশনার।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার হয়েছিল। এই হত্যাকান্ডের সূত্র ধরে চট্টগ্রাম থেকেই মহান স্বাধীনতার ডাক এসেছিল। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস ধরে যে যুদ্ধ করেছিলেন সে জন্য কৃতজ্ঞতার দাবীদার সেটি কখনো জানিয়ে শেষ করা যাবেনা। এ জন্য চট্টগ্রাম গৌরবের জায়গা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তি/ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যা, ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলাচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্যায়ের যারা রয়েছি তারা প্রত্যেকে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মের। মহান স্বাধীনতাকে কিভাবে দেখলাম, আপনাদের কাছ থেকে কি শেখলাম-তা নতুন প্রজন্মকে জানাতে না পারলে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সফল হবে না।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য আমাদের এখন সময় এসে গেছে। আগামীতে বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ট বসতিপূর্ণ স্থান হিসেবে শ্রেষ্ট রাষ্ট্রের মর্যাদা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ সফিজুল ইসলাম, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ফয়সাল আহমদ, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম। গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচএম জিলানী চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ কান্তি দাশ। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, নিরস্ত্র বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে গণহত্যা চালায়, যা আমরা ‘কালো রাত’ হিসেবে জানি। গণহত্যা করে পৃথিবীতে কেউ রক্ষা পায় না। যারা এ ধরণের অপরাধ করে তারা শেষ পর্যন্ত পরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়। জন্মভূমির জন্য আত্মত্যাগ শহিদী মর্যাদা এনে দেয়। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও সেবাকে ব্রত ধারণ করে সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ‘২৫ মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। শহীদদের ত্যাগ এবং সাহস আমাদের জন্য চিরস্মরণীয়। এ দিনটি আমাদের ইতিহাসের সত্য উদঘাটন করে আগামী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব দেয়। গণহত্যার স্মৃতিকে ধরে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। এটি শুধুমাত্র অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি ন্যায়পরায়ণ ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিও বয়ে আনে। সভায় বিভিন্ন বক্তারা বীর শহীদদের ত্যাগ স্মরণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ১৫ আগস্ট পালনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার ১৫ আইনজীবী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন থেকে ১৫ আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত শনিবার রাতে নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ এলাকার ওয়াপদা কলোনি থেকে তারা গ্রেফতার হন। এদের রোববার (১৬ আগষ্ট) চট্টগ্রাম আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত নারীদের জামিন ও পুরুষদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রাম আদালতসূত্রে পাওয়া গেছে এই আইনজীবীদের নাম। তারা হলেন, ইস্কান্দার মির্জা, সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থপ্রতিম নন্দী, শুভ আইচ, মশিউর রহমান আবির, জাকির হোসেন, যীশু রায় চৌধুরী, উম্মে হাবিবা, কামেলা খানম, আয়েশা হেভেন, সুজলা অন্তরা এবং শারমিন ইয়াসমিন নিশু।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম বললেন, মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির এক বাসার নিচে ১৫ আগস্ট পালনে তারা জড়ো হয়েছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তাদের আটক করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থক এক আইনজীবী জানালেন, গ্রেফতার উম্মে হাবিবার বাসার নিচে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন হয়। তাতে অংশ নেন আইনজীবীরা।অনুষ্ঠান শেষে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নেয় ডিবি কার্যালয়ে।

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে জাহাজে হাউসকিপিংয়ের সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৮ শ্রমিক নিহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামে একটা জাহাজ ভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৮ জন শ্রমিক মারা গেছেন। শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকালে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ দূর্ঘটনা ঘটে। আহত বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জাহাজটিতে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় তল্লাশি চালাতে ভাটার জন্য অপেক্ষা করছে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় লোকজনের শঙ্কা, ভেতরে আরও লাশ থাকতে পারে। নিহত ৮ শ্রমিকের মধ্যে ৫ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭), হাবিবুর রহমান (৫০) এবং দুই ভাই মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোয় পরিত্যক্ত জাহাজ ভেঙে-কেটে মূলত রড তৈরির লোহা সংগ্রহ করা হয়। সেখানে কাজটি অনিরাপদ পরিবেশে করা হয় বলে অভিযোগ বহুদিনের।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, দুই দফায় ওই কারখানা থেকে সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপর একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ঘটনাস্থলেও দুজনের মরদেহ রয়েছে।
কারখানার মালিকের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি কারখানার বাইরে ছিলেন। পরে কারখানা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে কাজ করার সময় ছয় থেকে আটজন শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ৮ জনের লাশ চমেক হাসপাতালে আছে। আহতদের মধ্যেও আশঙ্কাজনক আছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে আমাদের নিকটতম কুমিরা ফায়ার স্টেশনে সংবাদ আসে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনা ঘটছে। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের কুমিরা ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট, রেসকিউ ভ্যান, অ্যাম্বুল্যান্সসহ তারা এসেছে। তারা তিনটি লাশ এবং দুইজনকে প্রথমে উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিএসবিএ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। সবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় ফোরম্যানকে উদ্ধার করে আমাদের অ্যাম্বুল্যান্স দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এখানে এসে জানলাম, আমরা আসার দু-আড়াই ঘণ্টা আগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছু লোককে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করেছেন। এখন সাগরে সম্পূর্ণ জোয়ার চলছে। আমরা অ্যাম্বুল্যান্সসহ অপেক্ষা করছি জোয়ারের পানি নেমে ভাটা আসলে সর্বশেষ তল্লাশি (সার্চ) করব।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আসার পর গ্যাসের বা কেমিক্যালের দুর্গন্ধ ছিল। জোয়ারের পানি ঢোকার পর থেকে দুর্গন্ধ নেই। কার্বন মনোঅক্সাইড বা কার্বন থেকে উপজাত গ্যাস থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি এলএনজিবাহী পুরাতন জাহাজ। ২০-২৫ বছরের পুরোনো জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয়। জাহাজে এলএনজির অনেক উপজাত থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের দেশে অনেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মালিক সাধারণত এটা করে না। দীর্ঘদিন এটা অব্যবহৃত পড়ে ছিল। কাটিংয়ের আগে রাসায়নিক ফ্রি করতে হয়। এখানে পাইপ কাটার জন্য যখন শ্রমিকেরা গেছেন সামনে যারা ছিল তারা মারা গেছেন, একটু দূরে যারা ছিলেন তারা আক্রান্ত হয়েছেন।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ