ঈদের ১৫ দিনে ৩৪৬ দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত—যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক মহাসড়কে ৩৪৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ১০৪৬ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত, ২২৩ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ০৮ টি দুর্ঘটনায় ০৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ০৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ পথে সর্বমোট ৩৭৭ টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ১২৮৮ জন আহত হয়েছে। গণমাধ্যম বিশ্লেষণে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় অর্থপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২১৭৮ জন ভর্তি হয়েছে। চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে গত ১৫ দিনে হতাহত বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

আজ ৩০ মার্চ সোমবার, সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য তুলে ধরেন।

ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ১০৪৬ জন আহত হয়েছে। বিগত ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছিল। বিগত বছরের সাথে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানী ৮.২৬ শতাংশ, আহত ২১.০৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১২৫ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত, ১১৪ জন আহত হয়েছে। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ এবং আহতের ১০.৮৯ শতাংশ প্রায়।

এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৭১ জন চালক, ৫৫ জন শিশু, ৫৪ জন পথচারী, ৫১ জন নারী, ৪২ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৭ জন শিক্ষক, ০৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ০৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ০৩ জন প্রকৌশলী, ০২ জন সাংবাদিক, ০১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ০১ জন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।

সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ১৬.২২ শতাংশ বাস, ১৫.২৮ শতাংশ ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ৮.৪৯ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৭.৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৭.৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ৩৫.৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৩৬ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা, ২২.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, ০.৫৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে, ০.৫৭ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে ও ৮.৩৮ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারনে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪৩.০৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২১.৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.০৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.২৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার শপথ গ্রহণের ০২ দিন পরে রমজান শুরু, একমাসের মাথায় ঈদযাত্রা। নতুন সরকারের ব্যর্থতা খুঁজতে নয় বরং সরকারকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার মানষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ঈদযাত্রায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। সরকার নতুন হলেও পুরোনো আমলা, পূর্বের মাফিয়া নেতাদের অনুসারী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের বর্তমান সরকার সর্মথিত নেতাদের চাপে আওয়ামীলীগ সরকারের মত এবারো সড়ক পরিবহন মন্ত্রনালয়, রেলপথ মন্ত্রনালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়, বিআরটিএ, বিআইডাব্লিউটিএসহ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সস্থার ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় লাখো যাত্রীদের পক্ষে কথা বলার মত যাত্রী ও নাগরিক সমাজের কোন প্রতিনিধি রাখা হয়নি। মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা লুফে নিতে এমন অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন প্রভাবমুক্ত থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছিল যা সর্বমহলে প্রশংসা পেয়েছে। এবারের ঈদে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবের কারনে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবহনের বিশৃঙ্খলা অতীতের দুটি ঈদের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রিত। ফলে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের পদ্ধতি অনুসরণের কারনে সড়ক পরিবহন সেক্টরে সরকারের কিছু কিছু কর্মকান্ড ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ:

১. দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, অটোরিক্সা অবাধে চলাচল।
২. জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকা, রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা।
৩. সড়কে মিডিয়ামে রোড ডিভাইডার না থাকা, অন্ধবাঁকে গাছপালায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি।
৪. মহাসড়কের নির্মান ত্রুটি, যানবাহনের নানাবিধ ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
৫. উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।
৬. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন।
৭. বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং একজন চালক অতিরিক্ত সময় ধরে যানবাহন চালানো।
৮. ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণে বাসের ছাদে, খোলা ট্রাক ও পিকআপে, ট্রেনের ছাদে, বাসের ইঞ্জিন বনাটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত।

দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ :

১. সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতির চালু করা।
২. মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা আমদানী ও নিবন্ধন বন্ধ করা।
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধে চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
৪. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহন, যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান।
৫. বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার ঘোষিত ৬০ ঘন্টা ইনক্লুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা।
৬. পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।
৭. গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা।
৮. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৯. মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা।
১০. উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওর্য়াক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
১১. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।
১২. সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালু করা।
১৩. ঈদযাত্রা একসাথে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী নানা পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকা উপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর দাবী জানাচ্ছি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য আলমগীর কবির, মনজুর হোসেন ঈসা, ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি বাদল আহমেদ, মনজুর হোসেন, আজাদ হোসেন টিপু প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাতকানিয়ায় জনবান্ধব প্রশাসনের দৃষ্টান্ত খোন্দকার মাহমুদুল হাসান – জাহাঙ্গীর আলম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর থেকে প্রশাসনিক দক্ষতা, সাহসী সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান, দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায়-দুস্থ মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন।

সাতকানিয়ার মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় একটি উপজেলায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন সহজ নয়। একদিকে রয়েছে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত জনপদ, অন্যদিকে নদী-খাল, কৃষিনির্ভর এলাকা ও ঘনবসতি। এর সঙ্গে রয়েছে বন্যা, জলাবদ্ধতা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ মাটি কাটা, খাদ্যে ভেজাল, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও ভেজাল রোধে প্রায় শতাধিক অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ভেজাল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তৎপরতা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবনযাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

আধুনিক ও উন্নত সাতকানিয়া গড়ার লক্ষ্যেও তিনি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলার কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, কোথায় অনিয়ম হচ্ছে কিংবা কোন বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সমস্যা সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ জনবান্ধব প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাতকানিয়ায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে চাকরি দেওয়া কিংবা আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন উপজেলা প্রশাসন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থেকেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। হতদরিদ্র ও সহায়-সম্বলহীন মানুষের মাঝে চাল, ডাল ও অর্থ সহায়তা প্রদান, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগে একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পাশাপাশি অসহায় মানুষের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতারও প্রকাশ ঘটেছে।

তার দায়িত্ব পালনের সময় সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি ছিল পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ। মাটি কাটার সুবিধার্থে কিছু প্রভাবশালী চক্রের তৈরি করা একটি কৃত্রিম বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সেই বাঁধ কেটে দেওয়ার সাহসী পদক্ষেপ নেন তিনি। প্রভাবশালী মহলের তৈরি করা বাধা অপসারণের এ সিদ্ধান্তের ফলে এলাকায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং বন্যার পানির চাপ দ্রুত কমে আসে বলে স্থানীয়দের অভিমত। মাঠ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবেও এ উদ্যোগটি আলোচিত হয়েছে।

সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সাধারণ মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য উপজেলা পরিষদে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেন তিনি। বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি, আটকে পড়া মানুষের তথ্য, জরুরি উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জানতে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে উপজেলার বিপন্ন মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রায় ৮৯টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র সচল করা হয়।

বন্যার পানিতে পানিবন্দী হাজার হাজার পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ১৫ হাজার প্যাকেট চাল এবং ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার সরাসরি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। ত্রাণ কার্যক্রম যাতে শুধু উপজেলা সদরে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানিতে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন ইউএনও। দুর্যোগের সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে গতিশীল করার চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানি কমে যাওয়ার পরও থেমে থাকেননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন। কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—এসব বিষয় চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত দুস্থ ও অসহায় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দেন তিনি।

সব মিলিয়ে সাতকানিয়ায় খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও মানবিকতার একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া যায়। একদিকে ভেজাল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শত শত অভিযান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের চাকরি ও আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রভাবশালী চক্রের কৃত্রিম বাঁধ অপসারণের মতো পদক্ষেপ; অন্যদিকে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য, অর্থ, শীতবস্ত্র ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ এবং বন্যার সময় আশ্রয়, ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা—দুই দিকই তার কর্মপরিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমস্যা বোঝা, প্রয়োজনের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা এবং দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে সাতকানিয়ায় খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কর্মকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসনে একটি সক্রিয়, সাহসী ও জনমুখী ভূমিকার চিত্র তুলে ধরেছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সাতকানিয়াকে আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। কারণ একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু সরকারি দায়িত্ব পালন নয়—দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থা অর্জন করা। সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে মানবিক কর্মকাণ্ড, দুর্যোগ মোকাবিলা, জনস্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেই আস্থার জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

কুমিল্লায় গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হ,ত্যা করেছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ