দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান তবুও বন্দর কর্মকর্তার পদোন্নতি।

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডের ইন্সপেক্টর ক্রাফটস পদে উন্নীত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে একই অভিযোগের কারণে তার পদোন্নতির বিষয়টি স্থগিত রাখা হলেও এবার বোর্ডের সিদ্ধান্তে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।এই বিষয়ে বন্দরের জাহাজ পরিদর্শক হিসেবে দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাছাড়া খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। একক কারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। বোর্ডে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও থাকেন। হয়তো বোর্ড তাকে যোগ্য মনে করেছেন, একারণে তার পদোন্নতি হয়েছে।
এর আগে, একই অভিযোগে পদোন্নতি না হওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি জানান, আগের বার হয়তো কাগজপত্র বা যোগ্যতার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। এখন সেই সমস্যা নেই।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) দেলোয়ার হোসেনের পদোন্নতির বিষয়টি বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়। পরদিন বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের সই করা চিঠিতে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর একই কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসেছিল। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকায় বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল। যদিও একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিককে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বন্দরের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, জাহাজ ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নৌ বিভাগের উপসংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহিরুল ইসলাম, সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, সিবিএর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক, নৌ বিভাগের প্রথম শ্রেণির মাস্টার ইব্রাহিম সেলিম এবং ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিবহন পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম রনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, কর্মস্থলে প্রভাব, দুর্নীতি করে সম্পদ গড়া, জাহাজ ক্রয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের এমটি কান্ডারি-১০ জাহাজের জন্য নতুন দুটি ম্যান ইঞ্জিন বাবদ ১৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো। আবার ওই জাহাজে গিয়ার বক্স পরিবর্তনের নামে আরও ১৭ কোটি টাকা ফাইলে নোট দিয়েছিলেন তারা। এ ছাড়া আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও শুরুতে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি দুদক। তবে অভিযোগের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা আসে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে।

একই বছরের ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর তৎকালীন উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন। গত বছরের এপ্রিলে আতিকুল আলম বদলি হয়ে গেলে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পড়ে আরেক তৎকালীন উপপরিচালক আহসানুল কবীর পলাশের ওপর। উপপরিচালক হিসেবে আহসানুল কবীর পলাশ গত বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে চট্টগ্রামে যোগদান করার পর অনুসন্ধান কার্যক্রমে শুরু করেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করেন। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনিও বদলি হয়ে যান।

তারপর কাজ শুরু করেন উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিনে। তিনি জানান, উল্লিখিত অভিযোগে অনেকগুলো টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। এই কারণে আমরা নিরপেক্ষ সংস্থার প্রতিনিধি দিয়ে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করব। এই লক্ষ্যে কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা চিঠি ইস্যু করব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রামে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহরে নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উত্তর আগ্রাবাদের রমনা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান তিন মেয়ের জনক। তার দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন। আরেক মেয়ে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।নিহতের সহকর্মীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ব্যাংকে সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ছায়েদুর রহমান। তখন তাকে স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে কর্মস্থলে তিনি অনেকটাই চুপচাপ থাকতেন।

মিটিং শেষে বাসায় ফেরার পর তিনি দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তার মরদেহ উদ্ধার করে।হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন মণ্ডল বলেন, এক ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামে আসর থেকে ৬ জুয়াড়ী গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইপিজেডের দক্ষিণ হালিশহর আকবর আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠের আমবাগান এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আইটককৃতরা হলো, বাসু দে (৩৫), আব্দুল মজিদ (৪০), আরিফ (২৮), মো. আনোয়ার হোসেন (৪৬), সাইদ হোসেন শাকিল (২৬) ও মো. সাদ্দাম (৩৫)।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, অভিযানে বিভিন্ন রঙের ১৫ প্যাকেট তাস এবং নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে।

তিনি জানান, স্থানীয় জুয়াড়ি ওসমান গণি ত্রিপল ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে জুয়ার ঘরটি তৈরি করে সেখানে জুয়ার আসর পরিচালনা করছিলেন। এর আগেও আকবর আলী পকেট গেইট খালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি জুয়ার ঘর সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পরে ওসমান গণি আবারও নতুন করে জুয়ার ঘর তৈরি করেন। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ