সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘাটে অলস বসেসমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা * বিপাকে কয়েক হাজার জেলে পরিবার আছে শত শত ট্রলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা * বিপাকে কয়েক হাজার জেলে পরিবার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় জেলে পরিবারগুলোর জীবনে মেনে এসেছে দূর্ভোগ। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন এসব পরিবারগুলো। এর মধ্যে সরকারি খাদ্যসহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ জেলের অভিযোগ, এখনো তাদের হাতে পৌঁছেনি সেই সহায়তা। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করে আছে শত শত ট্রলার, থমকে গেছে মাছ ধরার ব্যস্ততা, স্থবির হয়ে পড়েছে মৎস্যনির্ভর অর্থনীতি।
জানা গেছে, সমুদ্রে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে। দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ প্রতিবছরের মতো এবারও কার্যকর করা হয়েছে।

এর প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে উপকূলীয় জেলেদের জীবনে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার কয়েক হাজার জেলে পরিবার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ ছয়টি উপজেলার মোট ৪৬ হাজার ৯৭ জন সমুদ্রগামী জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ৫৮ দিনের জন্য খাদ্যসহায়তার চাল দেওয়ার কথা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ জেলে পরিবারে এখনো পৌঁছায়নি এই সরকারি সহায়তা। মো. বাবুল নামে এক জেলে বলেন, আমরা সাগরে অনেক কষ্ট করে মাছ ধরি। এখন সরকার সাগরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা শুধু সাগরে জাল ফেলা আর টানা শিখেছি, অন্য কোনো কাজ জানি না।

সরকারি চালও পাচ্ছি না। এখন বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। আমরা চলব কী দিয়ে?
তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমের দাবি, নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে জেলেদের কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, মৎস্যজীবীদের হালনাগাদ কার্যক্রম সারা বছরই চলে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, জেলেদের নিবন্ধনের জন্য মৎস্য অফিসে আবেদন করতে হয়। তারা কোন নৌকায় সাগরে যান, তার প্রত্যয়নপত্র স্থানীয় চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরের কাছ থেকে নিতে হয়।

এরপর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে তা মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে তালিকাভুক্ত করা হয়। অনেক সময় জেলেরা সঠিক তথ্য বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়, ফলে ভোগান্তি বাড়ে। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে যেসব জেলে এখনো নিবন্ধনের বাইরে আছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে সহায়তার আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে জেলেদের দূর্ভোগের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফিশারিঘাট, রানী রাশমনি ঘাট, উত্তর কাট্টোলি ঘাটসহ জেলার উপকূলবর্তী ঘাটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে শত শত সমুদ্রগামী ট্রলার। গত ১৫ এপ্রিল থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর ঘাটে ফিরতে শুরু করে এসব ট্রলার। জেলেদের কেউ নতুন জাল বুনছেন, কেউ চায়ের আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ নিজেদের ট্রলার ও ফিশিং বোট পুনরায় চলাচল উপযোগী করে নিচ্ছেন।

রতন দাশ নামে নগরের ফিশারিঘাটের জেলে জানান, সরকারি খাদ্যসহায়তা কেউ পাচ্ছে, আবার কেউ পাচ্ছে না। পরিবারে আটজন সদস্য। আমার কার্ড থাকলেও এখনো চাল পাইনি। বলা হয়েছে, আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।

তিনি বলেন, সাগরে যারা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, তাদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তালিকাভুক্ত জেলেরা নির্ধারিত চাল পেয়ে যাবেন। নিবন্ধিত জেলেরা যেন সঠিকভাবে চাল পান, সে জন্য মাঠপর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে।এদিকে চালের গুণগতমান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক জেলে। পাশাপাশি ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

সরকারিভাবে নিবন্ধিত হতে বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করে শংকর কুমার দাশ বলেন, সরকার অনুদান দেয়, কিন্তু আমরা পাই না। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা যাদের পছন্দ করেন, শুধু তাদেরই অনুদান দেন। আমার পরিবারে বারো জন সদস্য। আমরা সমুদ্রে যাই তিনজন, কিন্তু শুধু আমাকে কার্ড দেয়া হয়েছে। তাও কার্ড পেতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা স্বাক্ষর আর কাগজপত্রের জন্য হাজার হাজার টাকা নেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি করেন।

রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। তবে এ কারণে তিনি পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।রিটকারীর বক্তব্য, সংবিধানের এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকেনা। যার কারণে সংসদ সদস্যদের গণতান্ত্রিক অধিকারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চলমান প্রক্রিয়া স্থগিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ । নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে তফসিল জারি করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনকে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট। এরপর ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলার শুরুতেই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ