মেয়রের নেতৃত্বে সমন্বিত কমিটি জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে- প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ডেস্ক নিউজ

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব পেল ১৯ সদস্যের কমিটি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২ দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সফর করে ঢাকা ফেরার পূর্বে বৃহস্পতিবার মেয়রের হাতে কমিটির প্রজ্ঞাপন হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহারের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া কমিটিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ওয়াসা, সিডিএ, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার উন্নয়ন, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রকৌশল, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরাও।এছাড়া কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এবং সিটি কর্পোরেশনের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

কমিটির কার্যপরিধিতে ৬টি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুসারে এই কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল খাল ও পানি নিষ্কাশন নালাসমূহ সারা বছর সচল রাখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয় সাধন করবেন; মহানগরীর জলাবদ্ধতাসহ জনস্বার্থে জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজের সমন্বয় সাধন করবেন; গঠিত কমিটি প্রয়োজনে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কাজের দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন তদারকি করবেন; কমিটি প্রয়োজনে সময়ে সময়ে সভা আহবানপূর্বক উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কাজের অগ্রগতি তদারকি ও সমন্বয় করবেন; চট্টগ্রাম মহানগরীর জনস্বার্থে যে কোনো বিষয় সময়ে সময়ে সরকারকে সুপারিশ করবেন এবং প্রয়োজনে কমিটি বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডারসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে মহেশ রেগুলেটর ও মহেশখাল কুমার রেগুলেটর এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে বারেক বিল্ডিং মোড়, কোতোয়ালী মোড়, মেরিন ড্রাইভ, মরিয়ম বিবি, কলাবাগিচা, টেকপাড়া, চাক্তাই ও রাজাখালী খাল এলাকার চলমান কাজ পরিদর্শন করেন। এছাড়া শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক হয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মোড়, চাক্তাই ডাইভারশন খাল, চন্দনপুরা, চকবাজার ফুলতলা ব্রিজ, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তক মোড় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত চট্টগ্রামে এসে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে। আমি গতকাল রাত থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে তেমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখিনি।”
তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ ৮০ থেকে ৯০ মিলিমিটার ভারী বৃষ্টি হলে স্বাভাবিকভাবেই পানি সরতে কিছুটা সময় লাগে। এটিকে জলাবদ্ধতা বলা যাবে না, এটি সাময়িক জলজট। প্রকৃত জলাবদ্ধতা তখনই বলা যায়, যখন তিন-চার দিন পানি নেমে না যায়।”

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নগরীর ৩৬টি খালের মধ্যে কয়েকটি খালে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় পানি জমেছিল। বিশেষ করে রিটেইনিং ওয়াল ও অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সিটি কর্পোরেশন, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করেছে।তিনি জানান, বর্ষাকালের আগে আপাতত ড্রেন ও খাল উন্নয়নকাজ সীমিত রাখা এবং চলমান কাজের ব্যারিকেড ও রিটেনিং ওয়াল অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষে আবার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন-২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। চলমান প্রকল্পের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হলে স্থায়ী সমাধান আরও দৃশ্যমান হবে। আগামী বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামবাসীকে ২০২৪ সালের পরিস্থিতিতে ফিরতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, “অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের নকশা অনুযায়ী খাল, সুইসগেট ও নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন করা হচ্ছে। স্বাভাবিক বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হবে না, যদিও অতিভারী বর্ষণে কয়েক ঘণ্টার জলজট তৈরি হতে পারে।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চলমান খাল সংস্কার কাজের কারণে সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় ভোগান্তি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এ প্রকল্প নগরবাসীর উপকারে আসবে। পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি পয়েন্টে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ও ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, জামালখানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে আবারও চট্টগ্রাম সফর করে খাল সংস্কার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি।পরিদর্শনের শেষে প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় ফেরার আগে মেয়রকে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের যে নির্দেশনা জানান তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সেবা সংস্থাকে নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে সভা করেন মেয়র।

সভায় মেয়র বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সবগুলো সেবা সংস্থার সহায়তায় গত বছরে চট্টগ্রামের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। ৩০ বছরের একটি সমস্যা সমাধানে আমরা সিডিএ, সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করছি। সরকার কমিটি গঠন করে দিয়েছে। আমরা সবাই এক সাথে কাজ করলে ইনশাল্লাহ আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রূপগঞ্জে পরিবেশ উন্নয়নে অভিযান, গাছের চারা রোপন, বিতরণ ও আলোচনা সভা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গোটা দেশের মতো নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব মুড়াপাড়া বাজার এলাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় পরিবেশ উন্নয়নে অভিযান, গাছের চারা রোপন, বিতরণ ও আলোচনা সভা করা হয়েছে। আজ ১০আগষ্ট সোমবার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জয়ের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। পরে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত গাছের চারা রোপন, বিতরণ ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ মোমেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাইউদ্দিন, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম রোবেল মাহমুদ, রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক দুলাল, মুড়াপাড়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুল মজিদ ভুঁইয়া, মুড়াপাড়া বাজার কমিটির সহ সভাপতি ও মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কামাল হোসেন, সাংবাদিক শফিকুল আলম ভুঁইয়া, মীর শফিকুল ইসলাম, মঞ্জুর এলাহী, নওয়াব ভুঁইয়া, আবু কাউছার মিঠু, এন বি আকাশ, শরীফ ভুঁইয়া, এসএম রনি প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ডেংগু মশা থেকে বাঁচতে হলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। সরকারের নির্দেশনার পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে বাড়ির আঙ্গিনাসহ আশপাশের পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা এবং সবুজায়ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য রূপগঞ্জ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরে শিক্ষার্র্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ ও ঢাকা-রূপসী-কাঞ্চন সড়কের পাশের ঝোপঝাড় এবং আগাছা পরিষ্কার করে গাছের চারা রোপনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীতার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি।
আজ রোববার (৯ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন । এরপর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি। ইতোমধ্যে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

আলোচিত খবর

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন, যোগ দেবেন ৫ কর্মসূচিতে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চট্টগ্রাম আসছেন তারেক রহমান। বন্দরনগরীর বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় করারও সুযোগ পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস উদ্দিপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিতে চট্টগ্রামে আসবেন। এ সফরে দলের নেতাকর্মীদের বাইরে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তিনি একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বললেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী একদিনের সফরে চট্টগ্রামে আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পৌঁছাবেন। বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

দুপুর ১টায় ফটিকছড়ি উপজেলায় আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমীর শাহ আহমদ শফির কবর জেয়ারত করবেন।
এরপর হাটহাজারী উপজেলায় যাবেন তারেক রহমান।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে দেবেন ১০ হাজার টাকা করে।
হাটহাজারী থেকে নগরীতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী উঠবেন পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে। সন্ধ্যায় হোটেলের হলরুমেই হবে বিএনপির সাংগঠনিক সভা। রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তিনি।


চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানালেন, ‘সভায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সবাই থাকবেন। থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রতিটি থেকে তিন থেকে পাঁচজন করে নেতা উপস্থিত হবেন। আহ্বায়ক কমিটিতে নেই এমন কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্য যোগ দেবেন এতে।’
প্রত্যেক সহযোগী সংগঠনের নগর কমিটি থেকে দুইজন করে নেতাকে সভায় যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতারা সভায় অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ