অফডকের মাধ্যমে পণ্য খালাসের প্রস্তাব চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি ও সিসিটি পরিচালন সক্ষমতা বাড়বে দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমদানি পণ্যের ৮০ শতাংশ ধীরে ধীরে বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) বা অফডকের মাধ্যমে খালাস করা হলে নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-এর পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ১ দশমিক ৬ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানো, পণ্য খালাসের গতি বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে আমদানি পণ্যের ৮০ শতাংশ ধীরে ধীরে বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) বা অফডকের মাধ্যমে খালাসের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। বাণিজ্য সহজীকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (কঠোর নিয়মকানুন বা আইনি জটিলতা কমানো) উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাব জমা দিয়েছে সংস্থাটি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯টি টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান প্রস্তাবটিকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আইসিডির ব্যবহার বাড়লে বন্দরের ওপর চাপ কমবে এবং জটও হ্রাস পাবে। আন্তর্জাতিকভাবে কাস্টমস-সংক্রান্ত অধিকাংশ কার্যক্রম মূল বন্দরের বাইরে সম্পন্ন হয়।

বিডার মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-এর পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ১ দশমিক ৬ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কারণ এতে মূল বন্দরের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাত্র ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য বেসরকারি আইসিডির মাধ্যমে খালাসের অনুমতি দেয়। অথচ দেশের ২১টি অফডকের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিডা বলছে, আমদানি পণ্য খালাসের সীমিত সুযোগ বন্দরের কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে এবং আমদানি প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই আমদানি ও রফতানি- উভয় কার্যক্রমের বড় অংশ অফডকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে অফডকগুলোর জন্য নিয়মিত ঝুঁকিভিত্তিক পর্যালোচনা ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দিয়েছে বিডা।

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিচালন ব্যয় কমবে, পণ্য সরবরাহের সময় কমে আসবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এছাড়াও বিডা আরও প্রস্তাব দিয়েছে, কার্যকর ২৪ ঘণ্টা বন্দর পরিচালনা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং ও কাস্টমস সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে বন্দরের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক চললেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সেবা এখনও মূলত অফিস সময় ও কর্মদিবসে সীমাবদ্ধ। ফলে এলসি প্রসেসিং, পেমেন্ট ক্লিয়ারেন্স এবং আমদানি-রফতানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে বিলম্ব হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সপ্তাহজুড়ে ব্যাংকিং সহায়তা চালু এবং অধিকাংশ কাস্টমস কার্যক্রম পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

বিডার মতে, সমন্বিত ২৪/৭ কার্যক্রম চালু হলে পণ্য খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, সামগ্রিক দক্ষতা বাড়বে এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এছাড়া আধুনিক ও ইন্টারনেট-ভিত্তিক কাস্টমস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার- অ্যাসিকাডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডব্লিউ) এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যবহৃত সিস্টেমগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করারও প্রস্তাব দিয়েছে বিডা।এতে ব্যবসায়ীরা একবার তথ্য দিলেই তা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাগাভাগি হবে। ফলে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়া, বিলম্ব এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমে আসবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা গুনল চার প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম। নানা অনিয়মের অভিযোগে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরের ঝাউতলা বাজারের অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝাউতলা বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং অননুমোদিত পণ্য বিক্রির মতো অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব অপরাধে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রয়ের দায়ে বিসমিল্লাহ ফার্মেসি ও নাসির ফার্মেসি ১০ হাজার টাকা করে জারিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইলিয়াস ব্রাদার্সকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৬ হাজার টাকা এবং নরু সওদাগর জেনারেল স্টোরকে অননুমোদিত পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের দায়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিভিন্ন এলাকায় চুলা জ্বলছে না, রান্না না করতে পেরে বিপাকে মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় রাস্তায় নেমেছে কমসংখ্যক অটোরিকশা। যেগুলো চলছে, তারাও বাড়তি ভাড়া হাঁকছে। একই সঙ্গে গ্যাসচালিত গণপরিবহনেও গাড়ির সংখ্যা কমেছে। ফলে মোড়ে মোড়ে গাড়ির অপেক্ষায় মানুষের জটলা বেড়েছে। কোনো কোনো রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।


তবে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়েও সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেনা চালকরা। একেক জন চালক ছয় সাত ঘণ্টা ধরে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, হালিশহর ও ষোলশহর এলাকায় সকাল থেকে যাত্রীরা যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ে।
কোথাও বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ সারি, কোথাও সিএনজি অটোরিকশার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন যাত্রীরা। গ্যাসচালিত বাসে উঠতে পারলেও অনেক যাত্রীর অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে বাড়তি টাকা চাওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাইফুল ইসলাম বললেন, বাসে উঠতে পারছি না, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিলে বেশি ভাড়া। অফিসে যেতে দেরি হচ্ছে, খরচও বাড়ছে। গ্যাসের সংকট যে এভাবে রাস্তায় এসে পড়বে, ভাবিনি।ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনের চিত্রও একই। এখানে যাত্রী নয়, গন্তব্যের অপেক্ষায় সারিবদ্ধ অটোরিকশা। কয়েকটি স্টেশনে দেখা গেছে সড়কজুড়ে দীর্ঘ লাইন, চালকদের কেউ দুই ঘণ্টা, কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন।

ষোলশহরের একটি ফিলিং স্টেশনে কথা হয় চালক জাকির হোসেনের সঙ্গে। সকাল সাড়ে সাতটায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্তও গ্যাস পাননি। জাকির বলেছেন, এক জায়গায় গ্যাস নেই, আরেক জায়গায় চাপ কম। ঘুরতে ঘুরতে এখানে এসেছি। এখন চার ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এই সময়টায় তো যাত্রী নিয়ে রাস্তায় থাকার কথা।
স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ বা প্রেসার মারাত্মকভাবে কমে গেছে। চাপ যখনই সামান্য বাড়ে, তখনই পাম্প চালু করা হয়, আবার কমে গেলে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।

চালকদের হিসাবে, গ্যাস নিতে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা চলে যাওয়ায় তাঁদের ট্রিপ কমে গেছে। আয় কমলেও গাড়ির জমা, খাবার ও অন্যান্য খরচ কমেনি। ফলে বাড়তি ভাড়া না নিলে সংসার চালানো কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে। চালক সেলিম বলেছেন, আগে দিনে যত টাকা আয় হতো, এখন তার অর্ধেকও হচ্ছে না। গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে যাত্রী পাব কোথায়? আবার মালিকের জমা তো দিতেই হবে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও। নগরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চুলা জ্বলছে না। কর্মজীবী মানুষকে রান্না না করেই বের হতে হচ্ছে, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনছেন।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কর্ণফুলী গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণীর গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। ফলে আবাসিক গ্রাহকের পাশাপাশি পরিবহন ও শিল্প খাতেও সংকট তৈরি হয়েছে। কেজিডিসিএলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের বরাদ্দও কমেছে, আর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাপ কমিয়ে লোড ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। যাতে দেশের পূর্বাঞ্চলে সংকট তীব্র হয়েছে।

এদিকে গ্যাসের এই সংকট কবে নাগাদ কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজকে ভাসমান টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করা না গেলে সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে চট্টগ্রামের শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি, গণপরিবহনের সংকট ও বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তিও আরও বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে গ্যাসের সংকট এখন আর শুধু চুলার আগুন বা কারখানার উৎপাদনের বিষয় নয়, এর প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর প্রতিদিনের যাতায়াত, আয়-ব্যয় ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ