আনাগোনা কম ক্রেতাদের

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশুবোঝাই ট্রাক আসছে স্থায়ী-অস্থায়ী হাটে

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পশুবোঝাই ট্রাক এসেছে, সে তুলনায় ক্রেতাদের আনাগোনা অনেকটাই কম। বাজারে পশুর ঘাটতিকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন হাটে আসা ক্রেতারা। আবার অনেকেই এসেছেন দরদাম যাচাই করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে পশু ক্রয় করতে। গোখাদ্য, পরিবহন ও লালন-পালনে খরচ বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দামও নাগালের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

ক্রেতারা জানান, কোরবানি পশুর আকাশচুম্বী দামে এখন দেখতে আসা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছেন এবং পশু দেখতে এসেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, বিক্রেতারা এখনো পশু বিক্রিতে আগ্রহী নন। এ কারণে তারা অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন। পশুর হাটের হাসিল নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

খামার-সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় কোরবানি ঈদে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকতে পারে পশুর দাম। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক পশু চট্টগ্রামের বাজারে আসছে। নগরের সাগরিকা, মইজ্জ্যারটেক ও পাহাড়তলীসহ এগ্রোগুলোতে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনার জোরেশোরে প্রস্তুতি। খামারিরা বলছেন, গোখাদ্য ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা কিছুটা শঙ্কার মধ্যে আছেন। তবে এবারের ঈদে বাজারে ভালো দামের পশুর চাহিদা থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজার পশুর ঘাটতি আছে। যা গেল বছরের তুলনায় বড় ফারাক। ২০২৪ সালে উৎপাদন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি এবং ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে ৭ লাখ ৮৩ হাজারে নেমে আসাকে ডেইরি খাতের বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়ভাবে গৃহপালিত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৯টি ষাঁড়, ৯০ হাজার ৪৮৮টি বলদ, ৩৩ হাজার ৭৯২টি গাভি, ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল ও ৪১ হাজার ৪২৩টি ভেড়া এবং ৯৬টি অন্যান্য পশু।

প্রাণিসম্পদ অফিস তথ্যসূত্রে আরও দেখা যায়, চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চল ও উপজেলাগুলোতে পশুর উদ্বৃত্ত থাকলেও নগর এলাকায় ঘাটতি বেশি। উপজেলাগুলোর মধ্যে মিরসরাইয়ে ৬ হাজার ৫১০টি, সন্দ্বীপে ১১ হাজার ৬০৪টি, সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ২৩০টি, ফটিকছড়িতে ৭ হাজার ৮১৮টি এবং লোহাগাড়ায় ৬ হাজার ৯৭৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ ছাড়া বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ-সংশ্লিষ্টরা জানান, সুস্থ ও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু বাজারে আনতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে এবং খামারিরাও লাভবান হবেন।
সরেজমিনে পশুর হাটে গিয়ে বিভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের একটি অংশ বিভিন্ন এগ্রো ও ফার্মের ওপর নির্ভর করায় এখনো হাটে আশা অনুযায়ী ক্রেতার দেখা মিলছে না। মানুষ আগের মতো পশুর হাটের ঝামেলা-জঞ্জালের মধ্যে আসতে চায় না। এগ্রো ও ফার্মে তারা পশু লালন-পালন করে মোটাতাজা করে আকর্ষণীয় করে তোলেন, ফলে ক্রেতাদের এখন নজর ওদিকেই বেশি।

আহমদ জমির নামের এক পশু বিক্রেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ফার্ম হয়ে গেছে, তাই বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি যেমন কমেছে তেমনি কমেছে আগত পশুর সংখ্যা। মানুষ এখন এগ্রো বা ফার্ম থেকে আগেভাগেই পশু কিনে রাখছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার চাপ কমে যাচ্ছে। আমরা খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। পশু বিক্রেতা জলিল আহমদ বলেন, প্রতিনিয়ত খাদ্য, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ– সবকিছুই বাড়ছে। তাই পশুর দামও বেড়ে যাচ্ছে। আমরা ন্যায্য দাম চাইছি, লোকসান দিয়ে তো বিক্রি করতে পারব না।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলীম চৌধুরী বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমি সিটি করপোরেশন থেকে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। পশুর হাট এখনো জমেনি। হাটে ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দাম জিজ্ঞেস করে ফিরে যাচ্ছেন। অল্প অল্প করে এখানে অসংখ্য পশু আনা হয়েছে। আশা করছি, বাজার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেচাকেনায় চাঙ্গা হয়ে উঠবে। হাসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইজারা অনুযায়ী হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
পশু দেখতে আসা নগরের অক্সিজেন এলাকার আবু হেনা বলেন, কেনার উদ্দেশ্যে আসিনি। এসেছি কোরবানির পশু দেখতে এবং দাম যাচাই করতে। দাম, বাজার পরিস্থিতি ও পশুর সরবরাহ বিবেচনা করে কিছুদিন পরই পশু কিনতে আসব।

হাটে আসা শামীম হোসেন আখন্দ নামের ক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি, মহিষের দামও নাগালের বাইরে। তাই বিভিন্ন হাট ঘুরছি, দেখছি, তারপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিনব। কোরবানির জন্য ভালো পশু দরকার কিন্তু বাজেটও দেখতে হচ্ছে।
শামসুল আলম নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, লাখে যদি ৩ শতাংশ হাসিল দিতে হয় তাহলে গরু না কিনে রশি কিনেই বাড়ি ফিরতে হবে। এমনিতে হাটগুলোতে গরু-মহিষের দাম হাতের নাগালের বাইরে। ভাবছি, গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে কম দামে কিনতে পারি কি না।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম নগরে যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে, তা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশু দিয়ে পূরণ হবে। বিশেষ করে বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার বেপারিরা প্রতিবছরের মতো এবারও পশু নিয়ে আসবেন। এ ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলাতেও চাহিদার তুলনায় পশু উদ্বৃত্ত আছে। এ ধরনের বিষয় নিয়ে খামারিদের সহায়তার জন্য উপজেলা অফিসে যেতে হবে। বড় খামারিরা অনেকেই ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সহায়তা চান না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এবার এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষার্থী সাদমানের চমক ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ পেয়ে উত্তীর্ণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এক শিক্ষার্থী চমক দেখিয়েছে। কখনো পাঁচ-ছয় ঘণ্টা টানা পড়াশোনা, আবার কখনো হাতে ব্যাট নিয়ে খেলায় মেতে ওঠা-এভাবেই বেড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী সাদমান ইসলাম। গণিত, ফিজিক্স ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গিয়েছে। সবকিছু ছাড়িয়ে এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে হয়েছে সেরাদের সেরা।এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। যা এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নাম্বার বলে জানা যায়। ছেলের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বাবা ফখরুল ইসলাম ও মা শাহিদুন্নিসা। ছেলের এই সাফল্যের পেছনে নিজেদরে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অনুপ্রেরণার কথা বললেন তারা।

জানা গেছে, পড়াশোনার ক্ষেত্রে অবশ্য কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল না সাদমানের। স্কুলের ক্লাস, শিক্ষকদের কাছে পড়া ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়মিত করত। কোনো ক্লাস বা পড়াশোনা মিস করত না। মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগও ছিল সীমিত। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন অলিম্পিয়াডেও সাদমানের ছিল সাফল্য। গণিত অলিম্পিয়াড, ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডেও জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ পেয়েছে। সাদমানদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা সদরের ঝালকাঠি গ্রামে। সাদমানের একটি বোন রয়েছে। বোন বর্তমানে চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতো ভালো রেজাল্ট করেছে। ১২৭১ নম্বর পেয়ে বোর্ডে প্রথম হয়েছে সাদমান ইসলাম, ১২৬৯ নম্বর দ্বিতীয় হয়েছে রোজবাহ উদ্দিন রোহান। এছাড়াও আরো অনেকেই মেধা তালিকায় রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের প্রত্যাশাও ছিল। শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। আমাদের দক্ষ শিক্ষকবৃন্দের গাইডলাইন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় আজকের এই সাফল্য।
জানতে চাইলে সাদমান বলেন, আমার দৈনিক ১৫ বা ১৮ ঘণ্টা পড়াশুনা করার জন্য কখনো কোন টার্গেট ছিল না। তবে ডেইলির পড়া ডেইলিই শেষ করতাম। আমি মূলত স্পোর্টস লাভার। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতাম। এখন আমার স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হওয়া। বোর্ডসেরা হওয়ার পর এখন সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই এগোতে চায়।

এদিকে ছেলের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার মা শাহিদুন্নিসা। সাদমানের বাবা ফখরুল ইসলাম কুমিল্লায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। চাকরির কারণে তাকে কুমিল্লায় থাকতে হয়। ফলে ছেলের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন দেখাশোনার প্রায় পুরো দায়িত্বই ছিল মায়ের ওপর। ছেলের বোর্ডসেরা হওয়ার খবর পেয়ে রেজাল্টের দিন রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন বাবা। শাহিদুন্নিসা বলেন, আমার ছেলে পঞ্চম শ্রেণি থেকেই কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় টিকে সে কলেজিয়েটে ভর্তি হয়। এরপর থেকে স্কুলে ওর রোল এক ছিল।ছেলের পড়াশোনার পেছনে নিজের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে মা শাহিদুন্নিসা বলেন, ওর বাবা চট্টগ্রামের বাইরে থাকায় ওর দেখাশোনার পুরো দায়িত্ব আমার ওপরই ছিল। ওর বাবা সপ্তাহে একবার এসে হয়তো দেখা করে যেতেন, কিন্তু এখানে থাকতে পারতেন না। তাই আমি ওকে নিয়ে একপ্রকার যুদ্ধ করেছি।

তবে সাদমানকে শুধু পড়ার টেবিলে আটকে রাখেননি তার মা। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও ছেলের আগ্রহকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন তিনি। শাহিদুন্নিসার ভাষায়, ও পাঁচ-ছয়-সাত ঘণ্টা পড়াশোনা করত। আবার উঠে খেলত। হাতে ব্যাট থাকত, কাঁধে ব্যাগ থাকত। স্কুলেও ব্যাট নিয়ে যেত। বাসায় এসেও খেলা শুরু করে দিত। ও স্থির ছিল না, ওকে কিছুটা চঞ্চল বলা যায়। ক্রিকেট ওর খুব পছন্দ। ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত শাহিদুন্নিসা আরো বলেন, মোটামুটি আল্লাহর রহমতে সবকিছুতেই ভালো করত। আমরা চেষ্টা করেছি ওকে সঠিকভাবে এগিয়ে দিতে।

পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, যৌথ অভিযান চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ‘ভাসমান গুদাম’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজসমূহে অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে গম, মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এমনকী ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) যৗথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানে ২৮ জনকে আটক করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে উক্ত অভিযান চালানো হয়। একই সাথে অভিযানের মাধ্যমে বহির্নোঙ্গরের অবস্থানরত জাহাজসমূহের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অসাধু ব্যক্তি বা চক্র পণ্যবাহী জাহাজ অথবা নোঙর করে রেখে বাজারে পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে। এছাড়া সন্দেহজনক বা অনিয়মপূর্ণ কার্যক্রম শনাক্ত হলে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজসমূহে বন্দর ত্যাগের পর নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছানো/খালাসের বিধান রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পণ্য পরিবহন ও খালাসের ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব, পণ্য আটকে রাখা কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত লাইটার জাহাজ ও মাদারশিপের সঙ্গে যোগাযোগ করে চালকদের প্রযোজ্য নিয়ম ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য অবহিত করার পাশাপাশি জাহাজে লোডকৃত পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে খালাস ও পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

যৌথ অভিযানে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙ্গর এলাকায় তপ্তীর অধিক টোশন/বোট তল্লাশি ও যাচাই করা হয়। এ সময় মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগে ২৮ জনকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আটক করা হয় এবং এর মধ্য থেকে ২৪ জন আটককৃত ব্যক্তিদের ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে নেভিগেশনাল চ্যানেলে স্থাপিত অবৈধ জাল স্থাপন প্রতিরোধে স্থানীয়দের নিকট লিফলেট বিতরণ এবং তাদেরকে সচেতন করা হয়েছে।

অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পাইলট ভেসেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনী হতে ১টি জাহাজ ও ২টি বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড হতে ১টি জাহাজ ও ২টি বোট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। বন্দর ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বিত নজরদারি, টহল ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বার্থে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ অথবা অবৈধ ‘ভাসমান গুদাম’ তৈরি, পণ্য আটকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ জাল স্থাপন কিংবা জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের স্বার্থ, জনস্বার্থ এবং নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এধরনের অভিযান ভবিষ্যতে ও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ