স্বাধীনতা, রাষ্ট্রগঠন ও রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবদান আজও স্মরণীয়- জাহাঙ্গীর আলম

জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী জাতির সামনে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ, আলোচিত ও প্রভাবশালী অধ্যায়কে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় রাজনীতি, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। তাঁর জীবন, কর্ম এবং আত্মত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা, মেধাবী এবং দায়িত্বশীল। শিক্ষাজীবন শেষ করে সামরিক জীবনকে বেছে নেন এবং তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। একজন দক্ষ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে অল্প সময়েই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে জিয়াউর রহমান একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে তাঁর নাম দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর সাহসিকতা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত করে। স্বাধীনতার সেই সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসের আলোচনায় বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক সংকট এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সামনে আসেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিনির্ভর উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। দেশের উন্নয়নে উৎপাদনমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বহুদলীয় রাজনীতির প্রসার, জাতীয় ঐক্য, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করে। তাঁর সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন গতি পায় এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়, যার প্রভাব আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার যে চিন্তা পরবর্তীতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) হিসেবে বাস্তব রূপ পায়, সেই উদ্যোগের প্রাথমিক আলোচনায় তাঁর অবদান ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের পরিচিতি ও কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিন্তু ইতিহাসের নির্মম এক অধ্যায়ে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টায় শহীদ হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলে। পুরো দেশে নেমে আসে শোকের ছায়া। সেই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও একটি আলোচিত ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর মৃত্যু শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের বিদায় ছিল না; বরং দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় তা বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।

জিয়াউর রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক মূল্যায়নে ভিন্নতা রয়েছে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বাস্তবতা। কেউ তাঁকে স্বাধীনতার সাহসী সৈনিক ও আধুনিক বাংলাদেশের একজন রূপকার হিসেবে দেখেন, আবার কেউ তাঁর সময়কার রাজনৈতিক ঘটনাগুলো ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেন। তবে ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে এ কথা স্পষ্ট যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, জাতীয় পরিচয় এবং বহুদলীয় রাজনীতির আলোচনায় তাঁর নাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর অবদান, নেতৃত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত এবং দেশের জন্য রেখে যাওয়া রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘদিন গবেষণা, মূল্যায়ন ও আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। সময়ের ব্যবধানে ইতিহাসের অনেক কিছু বদলায়, কিন্তু কিছু নাম থেকে যায় জাতির স্মৃতির গভীরে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তেমনি এক নাম—বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত, স্মরণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুমিল্লায় গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হ,ত্যা করেছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।

সেবাপ্রত্যাশীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দামপাড়ার সিএমপি সম্মেলন কক্ষে ‘ওপেন হাউজ ডে’-তে সেবাপ্রত্যাশী নগরবাসীর বক্তব্য শোনার সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, সেবাপ্রত্যাশীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে পুলিশকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নগরবাসী বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা ও পুলিশি সেবাসংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। সিএমপি কমিশনার তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন।
এ সময় কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সমস্যার সমাধান পাওয়ায় পুলিশ কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ওপেন হাউজ ডে আয়োজনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়াসহ সিএমপির বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ