গণসচেতনতা ছাড়া শহরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয় : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চাক্তাই খাল চট্টগ্রামের দুঃখ হিসেবে পরিচিত। তাই এই ডাইভারশন খাল নিয়মিত খনন ও পরিষ্কার রাখতে হবে। যদি আমরা নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যেতে পারি এবং সবাই মিলে এই খালে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করি, তাহলে এই এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। বর্ষা মৌসুমের আগেই চলমান ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করে জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হবে।শুক্রবার দুপুরে নগরীর চকবাজার ডিসি রোডস্থ মিয়ার বাপের মসজিদ এলাকা সংলগ্ন চাক্তাই খাল ও চলমান ব্রিজের নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে মেয়র খালের বর্তমান অবস্থা এবং ব্রিজের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন। তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কথা শোনেন।

তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন।
মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতামুক্ত গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। চাক্তাই খালের ওপর নির্মাণাধীন এই ব্রিজটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়ন কাজ হয়, তাই কাজে কোনো ধরনের ধীরগতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমি নিজে নিয়মিত মাঠে থেকে উন্নয়ন কাজগুলো তদারকি করছি।

মেয়র এ সময় বিশেষভাবে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণসচেতনতা ছাড়া এই শহরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। বাজারের লোকজন যেন ফুটপাথ ও খালপাড়ে পসরা সাজিয়ে না বসেন তা নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পুনর্বাসনের পরও যারা খালের পাশে এসে বসে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, আমরা শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমরা চাই নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হোক, এই নগরী আমাদের সবার, তাই পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও সবার।
পরিদর্শনকালে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন, আনোয়ার হোসেন লিপু, পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ সেকান্দর, ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ এমরান উদ্দিন, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মিজান, বিএনপি নেতা আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, মো. আইয়ুব, মো. শহীদ, মো. খোকন ও মো. সেলিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আন্দোলনের মধ্যেই অবশেষে হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অবশেষে দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিয়ে পরিচালনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকাল তিনটায় ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর করবে। বন্দর শ্রমিকরা এর প্রতিবাদে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল ‘চুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই বন্দর অচল করে দেওয়া হবে’। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে মশাল মিছিলের কর্মসূচি রেখেছে শ্রমিকরা।

সরকারি এই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ইব্রাহিম খোকন ফোনে সাড়া দেননি। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুও ফোনে সাড়া দেননি। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে খুব সীমিত আয়োজন করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। যেখানে অতিথি থাকবেন একশজন। ৩০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। বাকিরা ঢাকার। অনুষ্ঠানে দুপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এশা কাজিম।

শ্র্রমিকদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার। আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পৃথিবীর কোথাও কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর শতভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার নজির নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। তাই এ নিয়ে অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে। এরজন্য সরকারকে চরম মাশুল দিতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগে তদন্ত কমিটি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে গাড়ির পাস নিয়ে তর্কের জেরে এক জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে বন্দরের এক চেকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি তদন্তে মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় মো. আতিকুর রহমান (৪৫) নামে ওই জেটি সরকার আহত হয়েছেন।
তবে কী কারণে জেটি সরকার ও চেকারের মধ্যে গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত এবং হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আহত মো. আতিকুর রহমান সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স টক ট্রেডের জেটি সরকার। ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে আতিকুর রহমান বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে যান। সেখানে বন্দরের নিম্নমান বহিঃসহকারী (জেআরওএ) বা চেকার জুয়েলের সঙ্গে গাড়ির পাস নিয়ে তার তর্ক-বিতর্ক হয়।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে চেকার জুয়েল দে আতিকুর রহমানকে ঘুষি মারেন। এতে তার চোখের নিচে জখম হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহাম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি দুপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ