জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে ৫ খাল খননে নামল চসিক

বিশেষ প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে আমরা নগরের খাল, নালা ও ড্রেনগুলো সচল করার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার নগরের পাঁচটি খালে খনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। নগরের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পাঁচটি খালে খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বহদ্দারহাট এলাকার ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের ডোম খাল, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে সুন্নিয়া মাদ্রাসা খাল, সদর খাল, অক্সিজেন এলাকার ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে অনন্যা আবাসিক খাল এবং ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের টেক্সটাইল ব্রিজ সংলগ্ন চশমা খালে খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়।

চসিক মেয়র বলেন, চসিকের পক্ষ থেকে নিয়মিত খাল পরিষ্কার ও খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে এবং খাল-নালায় বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী গঠনে সিটি করপোরেশন এবং নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। জনগণের সহযোগিতা থাকলে জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন আরও সহজ হবে। চসিকের পক্ষ থেকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমাতে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের খালগুলো পর্যায়ক্রমে খনন, আবর্জনা অপসারণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোকে পুনরুদ্ধার ও কার্যকর রাখার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এনসিটি-সিসিটি ইজারা ঠেকাতে আসছে কঠোর কর্মসূচী বন্দর রক্ষা কমিটির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ৩১ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। রোববার (১৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই হলে অনুষ্ঠিত নাগরিক কনভেনশন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বন্দর রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় কনভেনশনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।কনভেনশনে সিদ্ধান্ত হয়, ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসংযোগ কর্মসূচি চালানো হবে। এরপর ৩১ আগস্ট বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে।

কনভেনশনে বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু চট্টগ্রামের নয়, এটি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বন্দরের টার্মিনাল কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার আগে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বন্দরের সক্ষমতা ও আয় বাড়ানোর পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, বন্দর ও বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকদের স্বার্থ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। জনগণের সম্পদ জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জাতীয় সম্পদ। এর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। বন্দর রক্ষা কমিটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরদার করবে।

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজস্ব আয়, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কনভেনশনে আরও বক্তব্য রাখেন টিইউসি চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারুল, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা।

চট্টগ্রাম বন্দর নোঙর করা জাহাজে ধাক্কা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করেজে আবারও দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহত, জাহাজে পানি প্রবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি। দুই জাহাজের ২১ জন ক্রুই নিরাপদে রয়েছেন।শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে, তবে রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আলফা অ্যাঙ্করেজে প্রবল স্রোতের কারণে প্রবেশকারী বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি আনাসসা নোঙর করে থাকা এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে সামান্য ধাক্কা দেয়। এমভি আনাসসা ২১ জন ক্রু নিয়ে স্ল্যাগ বহন করছিল।বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এ ঘটনায় দুই জাহাজের কোনো ক্রু আহত হননি। জাহাজ দুটিতে পানি প্রবেশ বা পরিবেশ দূষণেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই জাহাজ দুটি নিরাপদে আলাদা হয়ে আবার নোঙর করে। বর্তমানে বন্দরের নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী এমটি সি স্পাইক ট্যাংকারের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমে ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে সাময়িক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। তবে কার্গো ট্যাংক অক্ষত থাকায় কোনো তেল ছড়িয়ে পড়েনি।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ