হযরত আলী শাহ হুজুর : আধ্যাত্নিক সাধনার প্রাণ পুরুষ

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফের আধ্যাত্নিক সাধনার প্রাণ পুরুষ, উপমহাদেশের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন এর অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, সৈয়দুল আজম, হযরত হাফেজ হাকিম শাহ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহঃ) এর যোগ্যতম উত্তরসুরী ও সাহেব জাদা, একাত্তরের মহান মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক, পীরে তরিকত রাহনুমায়ে শরীয়ত,মুরশীদে বরহক, কুতুবে জামান, হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান আলী শাহ (রহঃ)।হুজুর কেবলা, তাহার জীবনের বেশিসময় ব্যয় করেছেন, বেতাগী দরবার শরিফের আশেক ভক্ত এবং মুরিদানদের সাথে সু-সম্পর্কের মাধ্যমে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্গত, ধর্মপুর-জাহানপুর ইউনিয়ন এবং রাউজান উপজেলার হলদিয়া-উত্তরসর্তা গ্রামে হুজুর সময় পেলে তশরিফ রাখতেন।

তিনি চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ ধর্মপুর ইউনিয়নে, তাঁর পিতার স্মৃতি-বিজড়িত স্থানে ১৯৮৫ সালে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করেন, যার নাম রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা। উক্ত মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে, তিনি প্রায় সময় দক্ষিণ ধর্মপুরে তশরিফ রাখতেন। তিনি ধর্মপুরের মানুষকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন। তারই প্রেক্ষিতে, তাহার অত্যান্ত স্নেহের রুহানি সন্তান(মুরিদ), দক্ষিণ ধর্মপুর রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য এবং দক্ষিণ ভুঁইয়া গাজীর বাড়ীর নিবাসী এবং আলী শাহ হুজুরের একনিষ্ঠ মুরিদ, মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির বাসভবনে আসতেন।

মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে তিনি নিজের সন্তান হিসাবে জানতেন। আলী শাহ হুজুর তাহার জীবদ্দশায় মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে খুবই ভালোবাসতেন। যেমন করে আশেক-মাসুক একসুতাঁই গাথাঁ থাকে। হুজুর যতবার দক্ষিণ ধর্মপুরে আসতেন, তিনি মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির বাসভবনে আরাম আয়েশ করতেন। তাহার বাসবভনে হুজুর থাকতে বেশি পছন্দ করতেন। মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানি এবং তাহার পরিবার, আলী শাহ হুজুরের খেদমতে সবসময় নিবেদিত থাকতেন। পরিবারের সকলে আলী শাহ হুজুরে আদেশ উপদেশ মতো চলতেন। আলী শাহ হুজুর তাহার জীবদ্দশায় মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে নিজের লোহানী সন্তান বলতেন। তাহাকে ছেলে পরিচয় দিতেন।

পুত বলে ডাকতেন। হযরত জিল্লুর রহমান (আলী শাহ্) হুজুর মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির বাসস্থানের যে রুমে সর্বদা অবস্থান করতেন, সেই স্মৃতি বিজড়িত খাস স্হানটি এখনো সংরক্ষিত আছে এবং মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির পরিবারবর্গ সেটা যথাযথ মর্যাদার সাথে স্মৃতি বহন করে রেখেছেন হযরতের হাস হুজরা শরীফ।আলী শাহ হুজুরের ইন্তেকালের একবছর আগে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানি এবং তাহার পরিবার ঐ হাসপাতালে হুজুরকে দেখতে গেলে আলী শাহ হুজুর মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে হাসপাতালে দেখা মাত্রই হঠাৎ জজবা হালতে ডাকে। হুজুরের কাছে নিয়ে গিয়ে হুজুর তাহার সিট থেকে কষ্ট করে নেমে দাড়িঁয়ে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে নিজের হাতে, নিজের মতো করে মাথায় একটি পাকড়ি পরিয়ে দেন।

তখন উপস্থিত সকলে, পীর-মুরিদের এই ভালোবাসার দৃশটি দেখে অভিভূত হন। এর মাধ্যমে আলী শাহ হুজুর স্বীকৃতি দিয়ে গেলেন তাঁহার আস্থাভাজন মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে। আলী শাহ হুজুরের কেমন ভালোবাসার একজন রুহানি সন্তান ছিলেন। আল্লাহ যেন এই মহান স্বীকৃতি ও তরিকতের খেদমত এবং গুণের উসিলায়, মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে জান্নাতবাসী করেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩ মার্চ সোমবার বিকেল ৪টায় মরহুম আলহাজ্ব আলী আহমদ কোম্পানীকে তার মহান মুর্শিদ কর্তৃক সেচ্চায় খেলাফত দান করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশ্বে’ পিপলস হাসপাতালে খেলাফত দানকালে আলী শাহ হুজুর নিজ মুখে বলেন,আমাকে আমার পীর ও আমার আব্বা জানের হুকুম মতে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে খেলাফত প্রদান করতে বাধ্য হলাম। এই কথা বলার সাথে সাথে নিজ মাথায় পাকড়ি বেধে দিয়ে ধন্য করেন। এসময় সাহেব জাদা মরহুম আলহাজ্ব¡

আলী আহম্মদ কোম্পানি মেঝ ছেলে মোরশেদুল আলম, ধর্মপুর ফটিকছড়ির দক্ষিণ ভুইয়া গাজীর বাড়ীর শাহ আলম, রাউজান হলদিয়ার হয়রতের খাস খাদেম মো. ফোরকান, মুহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ সাহেবের ছোট মামা, চট্টগ্রাম মহানগরীর নবাব সিরাজুদ্দৌলা রোড়স্থ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেলোয়ার সাওদাগর, মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির সহধর্মিনিসহ আরো অনেকে উপস্থিতি ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে: সাংসদ নুরুল আমিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিরসরাই উপজেলাধীন পাঁচটি বৌদ্ধ গ্রামের বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি এবং সাধারণ বৌদ্ধ জনগণের সাথে সাথে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অদ্য ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলেলে মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। ভিক্ষু মহাসভার সহ-সভাপতি শ্রীমৎ প্রিয়ানন্দ মহাথেরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পুষ্পেন্দু বড়ুয়া।

অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম বিজয় বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব পুলক কান্তি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেলের নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. বিপ্লব কুমার বড়ুয়া, দমদমা নবাবপুর ধর্মকীর্তি বৌদ্ধ বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ বিশ্বনাগরিক ড. ধর্মকীর্তি মহাথেরো এবং শাষন বংশ মহাথরসহ প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রামে বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীরা উনার নির্দেশে অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছিল। তিনি মিরসরাই উপজেলার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে তিন লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরিশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা মা-মেয়ের পৌঁছানো হলো না গন্তব্যে, পথেই সব শেষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি মাইক্রোবাসের দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারালেন মা ও মেয়ে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন মাইক্রোবাসের আরও চার যাত্রী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের বেশ কাছাকাছি চলে এসেছিলেন তারা। আর কিছুক্ষণ পরই হয়তো পৌঁছাতেন কাঙ্ক্ষিত স্থানে। কিন্তু পথেই সব শেষ।

নিহত দুজন রোজী আক্তার (৬০) ও তার মেয়ে নাজমা খাতুন (৪২)। রোজীর বাড়ি জয়পুরহাট পৌরসভার বাদশা গ্রামে। তার স্বামী মৃত নজিবুর রহমান। আর মেয়ে নাজমার শ্বশুরবাড়ি একই জেলার জামালগঞ্জ গ্রামে। মেয়েটির স্বামীর নাম আসলাম হোসেন। জয়পুরহাট থেকে একসঙ্গে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন নিহত দুজন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে চালক হঠাৎ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গুরুতর আহত হন ভেতরে থাকা যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার করেন তাদের। আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোজী ও নাজমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় আহত বাকি চার জনের মধ্যে মো. আলতাফ হোসেন (৫২) নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বাকি তিনজনের নাম-পরিচয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন তারা।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই জামান জানান, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই মাইক্রোবাসটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ