ন্যানো প্রযুক্তি হতে পারে কৃষির নতুন দিশারি

কামরুল হুদা:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রচলিত রাসায়নিক সারের অপচয় রোধ ও উচ্চমূল্যের ভর্তুকি থেকে মুক্তি পেতে ন্যানো প্রযুক্তি হতে পারে কৃষির নতুন দিশারি। মাত্র ৫০০ মিলি ন্যানো তরল সার এক ব্যাগ বা ৫০ কেজি দানাদার সারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এটি কৃষকের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ লাঘব করে।

বিশ্বজুড়ে সারের সংকট এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে যখন খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তখন বাংলাদেশের কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছে ন্যানো প্রযুক্তি। কৃষকের উৎপাদন ও পরিচালনা খরচ কমানো, আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং সারের পেছনে সরকারের বিপুল ভর্তুকির বোঝা থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসার বিকল্প হিসেবে ন্যানো ফার্টিলাইজার এক বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ন্যানো ফার্টিলাইজার ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি মাটির উর্বরতা রক্ষা, সারের সঠিক ব্যবহার এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে ন্যানো সারের প্রয়োগ বৃদ্ধি, গবেষণা জোরদারকরণ এবং তা মাঠ পর্যায়ে দ্রুত প্রবর্তনের জন্য তাগিদ ও নীতিগত নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর কৃষি মন্ত্রণালয় ন্যানো ফার্টিলাইজার বিশ্লেষণ, গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ইতিমধ্যেই ন্যানো সার নিয়ে পাইলট প্রজেক্টের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ন্যানো সারের কার্যক্রম পরিচালনা ও ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ ‘ন্যানো সেল’ গঠন করেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যানো প্রযুক্তির সাফল্য ও বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণআন্তর্জাতিক কৃষি খাতে গত ৫-৭ বছর ধরে ন্যানো প্রযুক্তির ফার্টিলাইজার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বহু দেশ ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে ন্যানো সার প্রবর্তন ও প্রয়োগ শুরু করেছে:দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকা: পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো বড় কৃষিপ্রধান দেশগুলোতে ন্যানো সার সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আফ্রিকা মহাদেশ: সেনেগাল, কেনিয়া এবং উগান্ডার মতো আফ্রিকান দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও কম খরচে ফসল উৎপাদনে ন্যানো সার ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।ইউরোপ: প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক কৃষির অংশ হিসেবে ইউরোপের ইতালি, স্পেন ও জার্মানির মতো দেশগুলো পরিবেশবান্ধব কৃষি নীতি বাস্তবায়নে ন্যানো সারের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: আমাদের নিকটবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ফিলিপাইনে ন্যানো ইউরিয়া, ন্যানো ডিএপি, ন্যানো এমওপি এবং ন্যানো এনপিকে-এর বিস্তৃত ব্যবহার চলছে।
মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব দেশে ন্যানো সার ব্যবহারের ফলে ফসলের ফলন (ণরবষফ চৎড়ফঁপঃরড়হ) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পেয়েছে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ বহুলাংশে কমে এসেছে।বাংলাদেশে ন্যানো সারের মাঠ পর্যায়ের গবেষণা ও বাংলা মার্কের ভূমিকা।

বাংলাদেশে ন্যানো প্রযুক্তির প্রয়োগ কেবল ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলা মার্ক কেমিক্যাল লিমিটেড গত পাঁচ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাঠ পর্যায়ে ন্যানো ইউরিয়া, ন্যানো ডিএপি, ন্যানো এমওপি এবং ন্যানো এনপিকে নিয়ে ব্যাপক পাইলট প্রজেক্ট ও গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। ধান, গম, শাকসবজি এবং আমসহ নানা ধরনের ফলের ওপর পরিচালিত এসব ট্রায়ালে কৃষকদের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।

পাশাপাশি, দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক টেস্ট ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা কৃষি বিজ্ঞানীরা বাংলা মার্কের ‘ইফকো ন্যানো ইউরিয়া’ এবং ‘এন ব্লু’ (ঘ ইষঁব) সারের ওপর গবেষণা করে সফল রিপোর্ট প্রদান করেছেন, যা বিভিন্ন জার্নাল ও গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা মার্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের নীতিগত সহযোগিতা এবং কমার্শিয়াল অনুমোদন পেলেই তারা দ্রুততম সময়ে জাতীয় পর্যায়ে বাজারজাতকরণ শুরু করতে প্রস্তুত।সারের বিশাল ভর্তুকি কাটিয়ে ওঠার স্থায়ী পথ: বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখ লাখ টন রাসায়নিক সার আমদানিতে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করতে হয়।

২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৬ লাখ টন ইউরিয়ার চাহিদার বিপরীতে দেশে উৎপাদিত হয় মাত্র ১০ লাখ টন; বাকি ১৬ লাখ টন আমদানি করতে হয়।আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী এই সার ক্রয়ে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা খরচ হয় এবং কৃষককে কম দামে সার যোগান দিতে সরকারকে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি গুনতে হয়।৫০০ মিলিলিটারের মাত্র একটি ন্যানো ইউরিয়ার বোতল ৫০ কেজির এক বস্তা দানাদার সারের কাজ করে, যার খরচ কৃষকের জন্য অর্ধেকেরও কম।

বাণিজ্যিকভাবে ন্যানো সার ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে আমদানিনির্ভরতা কমার সাথে সাথে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ৮৭% পর্যন্ত কমানো সম্ভব, যা দেশকে দীর্ঘমেয়াদী ভর্তুকি নির্ভরতা থেকে বের করে আনবে।
কৃষকের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ হ্রাস
ভারী দানাদার সারের বস্তা পরিবহন, সংরক্ষণ এবং জমিতে ছিটানোর প্রক্রিয়ায় কৃষকের প্রচুর যাতায়াত ও শ্রম ব্যয় হয়। ন্যানো সার তরল হওয়ায় এটি পরিবহন করা অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী। এতে কৃষকের লজিস্টিক, অপারেটিং ও লেবার কস্ট বহুলাংশে কমে আসবে এবং সামগ্রিক উৎপাদন খরচ কমে তাদের নিট মুনাফা নিশ্চিত হবে।

রাসায়নিক সারের বিষাক্ততা থেকে মাটি ও জলাশয় রক্ষা
বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে মাটির উপকারী অণুজীব নষ্ট হচ্ছে এবং উর্বরতা কমছে। এছাড়া ইউরিয়া মিশে জলাশয়ের পানি দূষিত হয়ে মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করছে এবং অক্সিজেন গ্রহণে বাধা দিচ্ছে। বিপরীতে, ন্যানো সারের কার্যকারিতা প্রায় ৯০% হওয়ায় এটি সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় শোষিত হয় এবং মাটি ও পানির দূষণ রোধ করে।

অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে বৈপ্লবিক সমাধান
দেশে বর্তমানে গ্যাস সংকট এবং আর্থিক কারণে সার কারখানা বন্ধ কিংবা আমদানিতে বাধার ফলে যে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, ন্যানো ফার্টিলাইজার তার সময়োপযোগী সমাধান দিতে পারে। সারের অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করতে, কার্বন নির্গমন কমানোসহ কৃষকের উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে ন্যানো সার বাজারজাতকরণ এখন সময়ের দাবি।

বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, ২৪ বছর আগে একজন সাধারণ কৃষক তার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলেন ইউরিয়া স্প্রে করে প্রয়োগ করলে বেশি উপকার, আজ গবেষকরা তাদের গবেষণার মাধ্যমে কৃষক আজিজের চিন্তার কাছে পৌঁছালেন ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের মাধ্যমে। ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বব্যাপী শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। উন্নত বিশ্বের ধারাবাহিকতায়, আমাদের ড. জাভেদ উদ্ভাবিত ন্যানো সার যদি দেশের কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে তা কৃষি উৎপাদনে অভূতপূর্ব অগ্রগতি এনে দিতে পারে। এর মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথ তৈরির সম্ভাবনা আছে।
ন্যানো প্রযুক্তিতে বিভিন্ন পদার্থকে ন্যানোস্কেলে তৈরি করে তাদের গঠন ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা যায়, যার ফলে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে এমন সব পণ্য ও প্রক্রিয়া, যা খুবই কার্যকরী ও পরিবেশসম্মত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ন্যানো কীটনাশক, বায়ো-সেন্সর, স্মার্ট ডেলিভারি সিস্টেমের পাশাপাশি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ন্যানো ফার্টিলাইজার। ন্যানো ফার্টিলাইজার একটি অত্যাধুনিক সার, যা প্রচলিত ইউরিয়া বা অন্যান্য সার থেকে আকারে অনেক ক্ষুদ্র, কিন্তু কার্যকারিতায় বহুগুণ বেশি। এটি মাটিতে প্রয়োগের পর ধীরে ধীরে গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি সরবরাহ করে। এর ফলে গাছ দ্রুত শোষণ করতে পারে, অপচয় কম হয় এবং ফলন হয় বেশি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফটিকছড়িতে উদযাপিত হলো ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম শুভ জন্মোৎসব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ ফটিকছড়ি উপজেলা ও উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার যৌথ আয়োজনে ফটিকছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডস্থ কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির (সেবাখোলা) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এম.পি। তিনি বলেন, “সনাতন ধর্মের এই মহান উৎসব আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।” আলোকিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। মহান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিষদের ফটিকছড়ি উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা শ্রী মিহির চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান জুয়েল চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্তর উপজেলার সভাপতি সন্তোষ কুমার শীল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফটিকছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বাবু রবিন পাল ও উত্তর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বাবু এড. জনি কান্তি দে। সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উপজেলার সভাপতি পণ্ডিত লিখন চক্রবর্তী (লিংকন)। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজিত চক্রবর্তী,

ডা: প্রতাপ রায়, সুমন কুমার বনিক, লিটন পাল লিটু, মিন্টু নাথ, সাগর দে আবির, সিদ্ধ-রসিক প্রভু, লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য্য বলাই, পলাশ নাথ, আকাশ দে, সুজন মজুমদার, অধ্যাপক দয়াল রায়, এড. মিহির, সৈকত দাশ, মিন্টু নাথ, মানস চক্রবর্তী, রাজু দে, সুদীপ পাল, সজল দে, উজ্জ্বল নাথ, নান্টু দাস, প্রদীপ রায়, জুয়েল মনি পাল, রুপন ভৌমিক, রবি শংকর, রবি দে, জয়ন্ত দাস জকি, অমর দে, রঞ্জিত শীল, এডভোকেট উত্তম কুমার মহাজন, এডভোকেট তরুণ কিশোর দেব, শিমুল চক্রবর্তী, দূর্জয় পাল প্রমূখ। অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গীতা পাঠ, কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রামে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহরে নিজ বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উত্তর আগ্রাবাদের রমনা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান তিন মেয়ের জনক। তার দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন। আরেক মেয়ে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।নিহতের সহকর্মীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ব্যাংকে সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ছায়েদুর রহমান। তখন তাকে স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে কর্মস্থলে তিনি অনেকটাই চুপচাপ থাকতেন।

মিটিং শেষে বাসায় ফেরার পর তিনি দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তার মরদেহ উদ্ধার করে।হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন মণ্ডল বলেন, এক ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ