৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাস করেনি কেউ

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলে বড় ধস ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। বোর্ডের ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে এটাই সর্বনিম্ন পাসের হার। যার ফলে ২০২৬ সালের ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।বোর্ডের প্রকাশিত ‘জিরো পারসেন্টেজ স্কুল’ তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পড়াশোনা ছেড়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনমুখী হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব ফলাফলেও পড়েছে।

এদিকে এবার পাসের হার কমে যাওয়ায় এবার বোর্ডে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গত ১৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোনো বছরই পাসের হার ৭৫ শতাংশের নিচে নামেনি। ২০১১ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০১২ সালে ৭৯ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৮৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৯১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।

এছাড়া ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৮৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে।২০২১ সালে বোর্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এরপর ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ।

জানা গেছে, এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন, ২০২৪ সালে ১০ হাজার ৮২৩ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৫০ জন, ২০২২ সালে ১৮ হাজার ৬৬৪ জন এবং ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৯৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সেখানে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে।শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইংরেজি ও গণিতসহ কয়েকটি বিষয়ে পাসের হার কমে যাওয়া এবং পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকার বিদ্যালয়গুলোর আশানুরূপ ফল না হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এবারের পরীক্ষায় তুলনামূলক কড়াকড়িও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৭৭১ জন শুধু একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ। এক বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়াও এবার সামগ্রিক পাসের হার কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বোর্ডের প্রকাশিত ‘জিরো পারসেন্টেজ স্কুল’ তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তবে পরীক্ষার্থী কম হলেও একজনও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষক সংকট ও অ্যাকাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তালিকা অনুযায়ী, ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল থেকে মাত্র ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বরকলের আন্দর মানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুলে পরীক্ষার্থী ছিল ১০ জন। লংগদুর মোহালছড়ি হাইস্কুলে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ জন। এ দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেও কোনো শিক্ষার্থী এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়নি।এছাড়া সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুল থেকে ১০ জন, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৭ জন এবং দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুল থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল থেকে ৫ জন এবং বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানেও পাসের হার শূন্য শতাংশ।

বোর্ডের তালিকায় থাকা আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুলে ১৯ জন। এরপর ১৭ জন পরীক্ষার্থী ছিল ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুলে এবং ১৫ জন ছিল মোহালছড়ি হাইস্কুলে। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি না হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

শিক্ষাবিদদের মতে, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা দায়ী-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। এর সঙ্গে শিক্ষক সংকট, নিয়মিত পাঠদান, দুর্গম এলাকায় শিক্ষার সুযোগ, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, অভিভাবকদের আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির বিষয়গুলোও জড়িত থাকতে পারে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী আরো বলেন, ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে, তা চিহ্নিত করা হবে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রাম জেলার ২ হাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান শুরু হয়। কর্মসূচির উদ্বোধনকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না।


এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না। হাসপাতালের শয্যা বাড়াতে পারি, ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করতে পারি, চিকিৎসাসুবিধা দিতে পারি; কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়। এটি সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, স্কাউট, গার্ল গাইড, বিভিন্ন পরিবেশ সচেতন সংগঠনের সদস্য ও তরুণেরা অংশ নেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। ওই অভিযানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।

এরপর জেলার বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পুকুর ও জলাশয় পরিষ্কার করার মাধ্যমে মশার প্রজনন ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সেগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকা এখনো কার্যক্রমের আওতায় আসেনি, পর্যায়ক্রমে সেসব স্থানেও অভিযান চালানো হবে।

এর আগে, গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ আয়োজিত ওই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, মসজিদগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই এসব স্থানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে মুসল্লিদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সুযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিকদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে চট্টগ্রামজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ