হারিয়ে যাবে ১ হাজার ৭৮২ একর কৃষিজমি

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চউক’র ‘এক নগর দুই শহর’

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) একটি আধুনিক শিল্প ও আবাসিক হাব বা মেগাসিটি গড়ে তুলতে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনস’ বা ‘এক নগর দুই শহর’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কর্ণফুলী টানেল কেন্দ্র করে নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় ৭ হাজার ৩১৫ একর জমির ওপর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে রূপরেখাও দিয়েছে চউক। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হারিয়ে যাবে ১ হাজার ৭৮২ একর কৃষিজমি।

কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের আনোয়ারার ২৩ হাজার ৯৬৭টি কৃষি পরিবারের মধ্যে ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক। সংখ্যায় যারা ২৩ হাজার ৭৭৬ জন। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে এই বিশালসংখ্যক ক্ষুদ্র চাষি তাদের একমাত্র জীবিকা হারাবেন। বর্তমানে ওই উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৩৩ জন মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। জমি হারানোর ফলে এই বিশাল শ্রমশক্তি পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম আহমদ সরকার বললেন, উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি তিন ফসলি। ধানের পাশাপাশি এখানে সবজিরও ব্যাপক আবাদ হয়। এমনিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে লোকজন কৃষিজমি কিনে আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছেন। এতে কৃষিজমি কমছে। নতুন শহর বাস্তবায়ন করা হলে কৃষিজমি আরও কমে আসবে।

এদিকে কৃষিজমি হ্রাস ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিকল্পনার প্রকল্প পরিচালক এবং চউক’র উপ-প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বললেন, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন হচ্ছে। যার কারণে কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। এজন্য মাস্টারপ্ল্যানে ২ হাজার ৩৮৮ একর কৃষিজমি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকা ও কলকারখানা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

চউক’র দেয়া ‘আনোয়ারা অ্যাকশন এরিয়াপ্ল্যান (২০২৫-৫০)’-এর খসড়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষিজমির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে যাচ্ছে বৈরাগ ইউনিয়নে। সেখানে বিদ্যমান ৪৯৪ একর কৃষিজমির ৯৮ শতাংশই শিল্প ও সাধারণ নগর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সেখানে আবাদি জমি অবশিষ্ট থাকবে মাত্র ৯ একর। এ ছাড়া শিল্পায়ন ও নগরায়ণের চাপে চাতরী ইউনিয়নে ৫৪৬ একর এবং বারখাইন ইউনিয়নে ৩৪৮ একর কৃষিজমি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।বর্তমানে এখানকার মোট জমির ৫৭ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে কৃষি ও মৎস্য খাতে এবং ৯ শতাংশ জলাশয়। এর পাশাপাশি আবাসিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ২৭ এবং শিল্প খাতে আড়াই শতাংশ।

জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলা চট্টগ্রামের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। কৃষিজমি কমে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়বে ধান, ডাল, শাকসবজি ও অর্থকরী ফসল উৎপাদনের ওপর। সর্বশেষ কৃষিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে ধান। বর্তমানে উপজেলায় ১১ হাজার ১৯৬ একরে আমন এবং ৯ হাজার ৬৪ একরে বোরো ধানের চাষ হয়। আবাদি জমি কমলে এই উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এরপরই রয়েছে শাকসবজি। আনোয়ারার জনপ্রিয় বেগুন (১৩৯ দশমিক ৬৭ একর), টমেটো (১১৬ দশমিক ৭ একর) এবং আলু (১১৮ দশমিক ৫৮ একর) চাষের এলাকা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হবে। এ অঞ্চলে প্রায় ৪০০ একর জমিতে মরিচ চাষ হয়। এ ছাড়া ফেলন ডাল (১২৬ দশমিক ৬১ একর) উৎপাদনের এলাকাটিও নগর উন্নয়নের আওতায় পড়েছে।

সূত্র জানায়, ২০৫০ সাল নাগাদ আনোয়ারায় জনসংখ্যা ৭ লাখ ২৪ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন পরিকল্পনায় ৭৭৪ দশমিক ৪ একর জমি নিয়ে চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং শিল্প খাতে ৫৫০ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই শিল্প জোনে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হয়েছে। নগরায়ণের এই বিপুল চাপ সামলাতে আনোয়ারায় ৪৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার নতুন ও উন্নত সড়কের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারা-পটিয়া সড়ককে ১৬০ ফুট প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার যানবাহন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাক টার্মিনাল, একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল, সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি উচ্চবিদ্যালয় এবং ৯টি ক্লিনিক স্থাপনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আনোয়ারা এলাকাটি ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমি বন্যার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে প্রাকৃতিক জলাধার (বর্তমানে যা ৯ শতাংশ) ও খোলা জায়গা কমে যাবে, যার ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করবে। জলাবদ্ধতা রোধে ১১৪ দশমিক ২৩ কিলোমিটার নতুন সেকেন্ডারি ড্রেন এবং ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার নতুন খালের অ্যালাইনমেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে পার্কি খাল, খুরুশকুল, দক্ষিণ বারুনিছড়া, ইছাখালী এবং মুরাই খালে সাতটি রেগুলেটর স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে পার্কি খালের মুখে একটি বড় রেগুলেটর নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পলি জমা রোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চারটি সিল্ট ট্র্যাপ বসানো হবে। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবেশদূষণ রোধে ‘ইকো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনিং’ এবং নদীর তীরে বনায়ন বা গ্রিন বেল্ট কর্মসূচি হাতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কৃষিজমি ধ্বংস করে এমন মেগাসিটি নির্মাণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. অলক পাল বলেন, তিন ফসলি জমিতে শহর গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয় নয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে অংশীজনের মতামত নেওয়া এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। নয়তো এটি পরিবেশের ওপর যেমন প্রভাব ফেলবে, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে। তিনি কৃষিজমি বাদ দিয়ে নদীর পাড়কে ঘিরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আরেকটি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল ১৬০টি বাস-ট্রাকের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে আরেকটি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল চালু হতে যাচ্ছে। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জালালাবাদ ওয়ার্ডের কুলগাঁও বালুচরা এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ৮ দশমিক ১০ একর জায়গার উপর টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কদমতলী ও বহদ্দারহাটে দুটি বাস টার্মিনালের পর নগরীর এটি হবে তৃতীয় বাস টার্মিনাল।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম বাস টার্মিনাল নির্মিত হয় কদমতলীতে। দ্বিতীয় টার্মিনাল নির্মিত হয় বহদ্দারহাটে ১৯৯৩ সালে। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছরেও নির্মাণ হয়নি কোনো বাস টার্মিনাল। সিটি বাস টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদন হয়। নানা জটিলতায় প্রায় আট বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি চসিক। প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় হয়েছে ১০৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া, ভূমি উন্নয়নে ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, অবকাঠামো উন্নয়নে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ইয়ার্ড নির্মাণ বাবদ ২৫ কোটি টাকাসহ মোট ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সর্বমোট এই প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণসহ ব্যয় হয়েছে ১৩৯ কোটি টাকা।

এখানে বাসের পাশাপাশি ট্রাকের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে। টার্মিনালটি চলতি মাসে উদ্বোধনের পর পুরোদমে চালু হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এই টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার ও আন্তঃনগর উভয় ধরনের বাসই ছাড়বে। টার্মিনালটিতে মোট ১৬০টি বাস-ট্রার্ক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, কুলগাঁও বালুচরা বাস টার্মিনালসহ বেশকিছু প্রকল্পের কাজ আমাদের শেষ পর্যায়ে। মেয়র দু’এক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরলে এগুলো চালু বা উদ্বোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই বাস টার্মিনালটি চালু করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে টার্মিনালের মূল ভবনের ফিনিশিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। যা চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করা হবে। টার্মিনালের প্রবেশ পথে একটি তিন তলা ভবন রয়েছে। এছাড়া, একটি সিটি বাস টার্মিনাল, একটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল, ২৫টি যাত্রী বোর্ডিং লেন, ১৪টি অতিরিক্ত ওয়েটিং লেন, একটি বড় খোলা হল রুম এবং তথ্যকেন্দ্র, পুরুষ ও নারীদের জন্য টয়লেট, ২২টি টিকিট কাউন্টার, যাত্রীদের বসার জায়গা, ওয়াইফাই সুবিধা, লাগেজ রুম, ট্যাক্সি বুকিং রুম, ফাস্ট এইড স্টেশন, রেস্তোরাঁ, এসি বাসের যাত্রীদের বসার জায়গা, বাস-ট্রাক মালিকদের জন্য অফিস এবং বাস কর্মচারীদের আবাসন কক্ষ রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ও চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন বলেন, মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ভবনের ফিনিশিংয়ের কাজ, বাগান ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। টার্মিনালটির ব্যবহার শুরু হলে সুবিধা পাবে দেশের দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির লাখো বাসিন্দা। এতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশমুখ অক্সিজেন এলাকার নিত্যদিনের যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি অভিমুখী বাস-ট্রাকের জন্য কোন টার্মিনাল নেই। টার্মিনাল না থাকায় এসব সড়কের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার উপর যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় কুলগাঁও এলাকায় বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চসিক। টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলের যানজট অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কে অক্সিজেন হয়ে প্রতিদিন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বাদেও উত্তর জেলার বিভিন্ন রুটে ৫০০ থেকে ৬০০ বাস চলাচল করে।

চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, রাঙামাটি-খাগড়াছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে দৈনিক নিয়মিত পাঁচ শতাধিক বাস চলাচল করে। কিন্তু স্থায়ী টার্মিনাল নেই। তাই মুরাদপুর কিংবা অক্সিজেন এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে হয় বাসগুলোতে। এতে নগরীর অন্য রুটে চলাচলকারী যানবাহনকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। নতুন টার্মিনাল চালু হলে উত্তরের রুটগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। অক্সিজেনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রুটে যানজট কমে আসবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় গ্রেফতার-২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইইনার গায়েবের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কন্টেইনার বের করে নিয়েছিল। তারা হলেন- পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের উত্তর কৈয়গ্রামের মো. মোর্শেদ আলম (৩১) ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মো. সাইদুর রহমান (৫১)। দুজনই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার প্যারামাউন্ড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের জেটি সরকার হিসেবে নিয়োজিত ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে কন্টেইনার গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের সামনে থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুজন ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যবাহী কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের এফসিএল সেকশনে থাকা অভিযুক্তরা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এ সময় ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষর জাল করে অন-ডেট ও অন-চেসিস অ্যাসাইনমেন্টের কপি আসল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এরপর ওই জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে পণ্যসহ একটি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ