সাতকানিয়ায় জনবান্ধব প্রশাসনের দৃষ্টান্ত খোন্দকার মাহমুদুল হাসান – জাহাঙ্গীর আলম

জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর থেকে প্রশাসনিক দক্ষতা, সাহসী সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান, দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায়-দুস্থ মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন।

সাতকানিয়ার মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় একটি উপজেলায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন সহজ নয়। একদিকে রয়েছে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত জনপদ, অন্যদিকে নদী-খাল, কৃষিনির্ভর এলাকা ও ঘনবসতি। এর সঙ্গে রয়েছে বন্যা, জলাবদ্ধতা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ মাটি কাটা, খাদ্যে ভেজাল, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও ভেজাল রোধে প্রায় শতাধিক অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ভেজাল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তৎপরতা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবনযাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

আধুনিক ও উন্নত সাতকানিয়া গড়ার লক্ষ্যেও তিনি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলার কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, কোথায় অনিয়ম হচ্ছে কিংবা কোন বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সমস্যা সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ জনবান্ধব প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাতকানিয়ায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে চাকরি দেওয়া কিংবা আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন উপজেলা প্রশাসন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থেকেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। হতদরিদ্র ও সহায়-সম্বলহীন মানুষের মাঝে চাল, ডাল ও অর্থ সহায়তা প্রদান, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগে একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পাশাপাশি অসহায় মানুষের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতারও প্রকাশ ঘটেছে।

তার দায়িত্ব পালনের সময় সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি ছিল পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ। মাটি কাটার সুবিধার্থে কিছু প্রভাবশালী চক্রের তৈরি করা একটি কৃত্রিম বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সেই বাঁধ কেটে দেওয়ার সাহসী পদক্ষেপ নেন তিনি। প্রভাবশালী মহলের তৈরি করা বাধা অপসারণের এ সিদ্ধান্তের ফলে এলাকায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং বন্যার পানির চাপ দ্রুত কমে আসে বলে স্থানীয়দের অভিমত। মাঠ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবেও এ উদ্যোগটি আলোচিত হয়েছে।

সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সাধারণ মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য উপজেলা পরিষদে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেন তিনি। বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি, আটকে পড়া মানুষের তথ্য, জরুরি উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জানতে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে উপজেলার বিপন্ন মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রায় ৮৯টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র সচল করা হয়।

বন্যার পানিতে পানিবন্দী হাজার হাজার পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ১৫ হাজার প্যাকেট চাল এবং ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার সরাসরি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। ত্রাণ কার্যক্রম যাতে শুধু উপজেলা সদরে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানিতে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন ইউএনও। দুর্যোগের সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে গতিশীল করার চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানি কমে যাওয়ার পরও থেমে থাকেননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন। কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—এসব বিষয় চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত দুস্থ ও অসহায় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দেন তিনি।

সব মিলিয়ে সাতকানিয়ায় খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও মানবিকতার একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া যায়। একদিকে ভেজাল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শত শত অভিযান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের চাকরি ও আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রভাবশালী চক্রের কৃত্রিম বাঁধ অপসারণের মতো পদক্ষেপ; অন্যদিকে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য, অর্থ, শীতবস্ত্র ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ এবং বন্যার সময় আশ্রয়, ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা—দুই দিকই তার কর্মপরিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমস্যা বোঝা, প্রয়োজনের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা এবং দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে সাতকানিয়ায় খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কর্মকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসনে একটি সক্রিয়, সাহসী ও জনমুখী ভূমিকার চিত্র তুলে ধরেছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সাতকানিয়াকে আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। কারণ একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু সরকারি দায়িত্ব পালন নয়—দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থা অর্জন করা। সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে মানবিক কর্মকাণ্ড, দুর্যোগ মোকাবিলা, জনস্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেই আস্থার জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, সপ্তাহে আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বৃষ্টির পর বেড়েই চলেছে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম এক সপ্তাহেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে। গত আগস্টের পুরো মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০২ জন। এর আগে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৪ জন।

এদিকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চট্টগ্রাম নগরের ৭ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ওয়ার্ড দুটির বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।কর্মসূচির আওতায় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়।

পাশাপাশি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও পরিত্যক্ত জায়গায় জমে থাকা পানিতে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হয়। মশক নিধনেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে সচেতন করা হয়। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া, মশক ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবু তাহেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চসিক কর্মকর্তারা জানান, নগরে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু ওষুধ প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নাগরিকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও জানান, মশক নিধন কার্যক্রম সফল করতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগেই ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৪৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ছয়জন। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন পাঁচজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর তেমন চাপ নেই। তবে আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এখনই সমন্বিতভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে স্বচ্ছ পানি জমে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ফুলের টব, ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্র ও সামগ্রীতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখা। এনএস-১ পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলেই সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত।

ডেঙ্গুর জটিল পর্যায়ে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টিকে চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্লাটিলেট কমে গেলেই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, প্রায় প্রতিদিনই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মশক নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন জায়গায় ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডে চালানো জরিপে প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ওই জরিপে লার্ভার উপস্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে ২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন। মারা যান ২৭ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন, মারা যান ১০৭ জন। আর ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৫ হাজার ৪৪৫ জন, মারা যান ৪১ জন।

রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতার ওপর হামলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতা রাসেলসহ তিনজনের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণের আংটি, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত রাসেল (৪৪) রূপগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি তাঁর ভাগিনা জসিম (৩৯) ও বন্ধু শামীম ভূঁইয়াকে (৪৯) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গোলাকান্দাইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে পৌঁছালে সাব্বির (২৩), কামরুল (৪৫), সোহান (২৩), ইয়ামিন (২৪), জিহাদ (২৪) ও রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন।

অভিযোগে রাসেল দাবি করেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। তাঁর ভাগিনা জসিমকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শামীম ভূঁইয়াও আহত হন।

রাসেলের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের হাতঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া জসিমের কাছে থাকা ড্রেজার ব্যবসার ১ লাখ টাকা এবং শামীমের ব্যবহৃত প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় রাসেল রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ