বোয়ালখালীবাসীকে স্বস্তি দিতে বাস সার্ভিস চালুর দাবি

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালী উপজেলার আহলা মুকুন্দরামের হাট থেকে আহলা দরবার শরীফ সার্ভিস যা দাশের দিঘী- বেঙ্গুরা-শাকপুরা-ফুলতল- কালুরঘাট হয়ে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল পর্যন্ত এবং দাশের দিঘী-কালাইয়ারহাট- কানুনগোপাড়া- সিও অফিস-ফুলতল- কালুরঘাট-বহদ্দার হাট বাস টার্মিনাল এই দুই সড়কে নিয়মিত লোকাল মিনি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে যাত্রী ও স্থানীয়রা। গ্যাস সংকটের সুযোগে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বল্প ও মধ্যম আয়ের হাজারো মানুষ।

মুকুন্দরামের হাট থেকে আরকান সড়কের বিভিন্ন এলাকা হয়ে বহদ্দারহাট পর্যন্ত প্রতিদিন কর্মজীবী, শিক্ষার্থী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু গণপরিবহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের সিএনজি অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কোথাও দ্বিগুণ, কোথাও তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া বেশি গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী শাখার সভাপতি অধির বড়ুয়া বলেন, “ আহল্লা দরবার শরীর মুকুন্দরামের হাট ও কানুনগোপাড়া এই দুটি রোড়ে দুটি বাস সার্ভিস ছিল কালের পরিক্রমায় তা বন্ধ হয়ে গেছে বর্তমানে ছোট গাড়ি প্রচুর বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর থেকে উত্তলন জন্য পুনরায় বাস চালুর দাবি করছেন বোয়ালখালী স্থানীয় জনসাধারণ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গণপরিবহনের সংকট রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আর ও বহুগুণ বেড়েছে।

বহদ্দারহাট – কানুনগোপাড়া ও বহদ্দারহাট আহল্লা দরবার শরীর বেংগুরা রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকাল মিনি বাস চালু করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আসবে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির প্রতি দ্রুত এই রুটে বাস সার্ভিস চালুর আহ্বান জানাছে।

নিয়মিত যাত্রী আশুতোষ চৌধুরী টিকলু বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কর্মস্থল ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে হয়। বাস না থাকায় সিএনজি অটোরিকশাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু ভাড়া অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। একটি লোকাল মিনি বাস সার্ভিস চালু হলে আমাদের মতো নিয়মিত যাত্রীদের জন্য অনেক সুবিধা হবে।

যাত্রীদের দাবি, কানুনগোপাড়া–বহদ্দারহাট ও বহদ্দারহাট আহল্লা দরবার শরীর বেংগুরা এই দুটি রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকাল মিনি বাস চালুর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজগুলো নির্ধারণ করে সেখানে বাস থামানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, একটি সড়ক শুধু যানবাহন চলাচলের মাধ্যম নয়—এটি মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই কানুনগোপাড়া ও বেংগুরা সড়কে নিরাপদ, নিয়মিত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করতে দ্রুত লোকাল মিনি বাস সার্ভিস চালু করা এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তিন সন্তান নিয়ে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে ইয়াসমিন, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি জাহিদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বামী মো. শাহিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ। কাজ করার সামর্থ্য নেই। ঘরে তিন শিশু সন্তান। স্বামীর চিকিৎসা থেকে শুরু করে সন্তানদের ভরণপোষণ ও পড়াশোনা—সবকিছুর দায়িত্ব এসে পড়ে ইয়াসমিন আক্তারের কাঁধে।

কিন্তু অসহায় হয়ে বসে থাকেননি ইয়াসমিন। সংসারের হাল ধরতে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নিজেই নেমেছেন রাস্তায়। তিন সন্তানকে নিয়েই অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্বামীর চিকিৎসা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় একসঙ্গে মেটানো তাঁর পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ইয়াসমিনের জীবনসংগ্রামের খবর পৌঁছায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে ইয়াসমিন নিজেই অটোরিকশা চালিয়ে হাজির হন। জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন নিজের লড়াইয়ের কথা।

ইয়াসমিনের কথা শুনে প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের শ্রমে সংসার চালানোর চেষ্টার প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। সন্তানদের পড়াশোনা কোনোভাবেই বন্ধ না করার পরামর্শ দেন তিনি। ইয়াসমিনের সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানাতে নিজের কার্যালয় থেকে নিচে নেমে তাঁর অটোরিকশার পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন জেলা প্রশাসক।

তিনি ইয়াসমিনকে বলেন, ‘এত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তুমি কারও কাছে হাত পাতোনি, কারও কাছে ছোট হওনি। তুমি নিজেই একটা অটো নিয়েছো, অটো নিয়ে পরিশ্রম করে চলছো—এটা খুবই ভালো।’

উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ইয়াসমিনের স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। তাঁকে চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী ও কিছু উপহারও দেওয়া হয়। সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতেও উৎসাহ দেন তিনি।

সহায়তা পেয়ে ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার তিনটা ছেলে আছে। তিনটা ছেলেকে নিয়ে খাচ্ছি। উনি আমাকে চাল দিয়েছেন, কিছু টাকা-পয়সাও দিয়েছেন।’

ইয়াসমিন একা নন

এদিন জেলা প্রশাসকের গণশুনানির টেবিলে ইয়াসমিনের মতো আরও অনেক মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প উঠে আসে। কেউ ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না, কারও প্রয়োজন সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস। কেউ প্যারালাইসিসে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার কেউ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেও অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

তাঁদের কথা শুনে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক। এদিন অসুস্থ ও অসহায় ১০ জন এবং একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল একজনকে দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ ও মসলাসহ খাদ্যসামগ্রী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁর বাবা দিনমজুর। পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচের পাশাপাশি ওমরের পড়াশোনা, যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সহায়তার আবেদন করেন তিনি। তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ইফফাত জাহান ইশা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। সপ্তাহে তিনবার তাঁকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছেন। তাঁর বাবা আবদুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন। মেয়ের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি সহায়তা চান।

কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত মো. নাজমুল হুদার অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে কেমোথেরাপি চলছে। পাশাপাশি মৃগীরোগের চিকিৎসাও নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় কেমোথেরাপি চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল শুকুর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা ও পঙ্গুত্বজনিত সমস্যায় ভুগছেন। নিয়মিত আয়ের উৎস না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

প্যারালাইসিসে থেমেছে উপার্জন

বাঁশখালীর মো. আবু তাহের প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। শরীরের বাঁ পাশ অবশ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা কাজ করতে পারেন না। উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

পটিয়ার আজিজুল হক পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও তিন ছেলে নিয়ে তাঁর সংসার। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ ও নিজের চিকিৎসা—দুটিই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একই এলাকার আবুল কাসেম চোখের রোগে আক্রান্ত। তাঁর অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা প্রয়োজন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনিও সহায়তার আবেদন করেন।

পারুল বেগমের স্বামী বহু বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। তাঁর এক সন্তান প্রতিবন্ধী। পারুল নিজেও কিডনি ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

মর্জিনা বেগমের স্বামীর হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে। চার মাস ধরে তিনি কাজ করতে পারছেন না। দুই মেয়ে ও এক ছেলের পরিবারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হালিশহরের রোকছানা বেগমের স্বামী মারা গেছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে। এরপর থেকে ছয় সন্তানকে নিয়ে একাই সংসার চালিয়ে আসছেন। সন্তানদের ভরণপোষণ করতে না পেরে তিনিও আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন।

শুনলেন ২১ জনের কথা

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া গণশুনানিতে সরাসরি ২১ জন সেবাপ্রত্যাশী অংশ নেন। চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জমিজমা, সম্পত্তি জবরদখলসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন। অনলাইনে একজন প্রবাসীও যুক্ত হয়ে তাঁর অভিযোগ জানান।

অভিযোগগুলো শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গৃহীত ব্যবস্থার ফলাফল সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে জানানোর নির্দেশও দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একটি আবেদন গ্রহণের পর সেটি কোথায় গেল, কী সিদ্ধান্ত হলো এবং তার ফলাফল কী—সেবাপ্রত্যাশী যেন সেটি জানতে পারেন, সেটিও আমাদের দায়িত্ব।’

সরকারি দপ্তরে জমা পড়া এসব আবেদন শেষ পর্যন্ত নথিতে পরিণত হয়। সেখানে থাকে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা আর সাহায্য চাওয়ার কারণ। কিন্তু বুধবারের গণশুনানিতে কাগজের আড়াল থেকে সামনে এসেছে একেকটি জীবনের গল্প—ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিসের ব্যয়, প্যারালাইসিসে থেমে যাওয়া উপার্জন কিংবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকে থাকার চেষ্টা।

তবে তাঁদের মধ্যে ইয়াসমিনের গল্পটি কিছুটা আলাদা। স্বামী দুর্ঘটনায় অসুস্থ, ঘরে তিন শিশু সন্তান, সংসারে অভাব—তারপরও তিনি থেমে যাননি। অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে নিজের শ্রমে পরিবারকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সেই সংগ্রামের কথা শুনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক—স্বামীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী ও উপহার। আর ইয়াসমিনকে সাহস জুগিয়েছেন, যেন জীবনের লড়াইয়ের মধ্যেও তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনা থেমে না যায়।

বুধবারের গণশুনানিতে তাই শুধু আবেদন ও অভিযোগের শুনানি হয়নি; কাগজের আড়ালে থাকা মানুষগুলোর সংকটের কথা শুনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ছিল।

রংপুরে সপরিবারে শিক্ষক গণপতি হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রংপুরে সপরিবারে শিক্ষক গণপতি হত্যাসহ সারা দেশ খুন, বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে হামলা ও জমি দখলের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় খুন, সংখ্যালঘুদের নির্যাত, জমি জবর দখলের ঘটনা আমাদের হতাশ করছে। দেশ যদি মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অধীনে চলে যায় তবে সকল প্রগতিশীল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চার হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে সভাপতিত্ব করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি চন্দন তালুকদার। মহানগর পূজা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিখিল নাথের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পূজা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, জন্মাষ্টমী পরিষদের সহসভাপতি তপন কান্তি দাশ, আশুতোষ দাশ, কার্যকরী সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, সহসভাপতি চন্দন দাশ, বিদ্যালাল শীল, অরবিন্দ পাল অরুন, বাগীশিক কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যক্ষ বিজয় লক্ষ্মী দেবী প্রমুখ।
আরও পড়ুন

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিএনপির কাছে হিন্দুদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু গত ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় খুন, হিন্দুদের ওপর হামলা, জমি জবর দখলের ঘটনা হিন্দুদের হতাশ করছে। এছাড়া হিন্দুদের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে চাকরিসহ বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানি ও চাকরিচ্যুত করছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হলেও সরকার, প্রশাসন ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা সময় সুযোগ পেলে এ দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

তারা আরও বলেন, রংপুরসহ সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, মঠ-মন্দির, দোকানপাট দখল করছে তাদের কোনো ধর্ম পরিচয় থাকতে পারে না। তাদের অনতিবিলম্বে তদন্তপূর্বক বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজনের হত্যায় প্রকৃত দোষীদের তদন্তপূর্বক গ্রেপ্তার ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে চেরাগী পাহাড় হয়ে জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ