সমাজে মানবিকতার সংকট: আমরা কি সত্যিই ভালো মানুষ হতে পারছি?

সমাজ আছে, মানুষ আছে—শুধু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে মানবিকতা?

জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, আত্মীয়তা, প্রতিবেশী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়েই মানুষের সামাজিক জীবন গড়ে ওঠে। একে অপরের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের সামাজিকতার অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র যেন অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, হিংসা, ঈর্ষা ও আত্মকেন্দ্রিকতা।

আজ একজনের উন্নতি অন্যজনের আনন্দের কারণ হওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ ভালো কিছু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়ার বদলে তার সফলতার পেছনে নেতিবাচক কারণ খোঁজা হয়। অন্যের ভালো থাকা যেন অনেকের কাছেই নিজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

একটি এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু এখন এমনও দেখা যায়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কিংবা সামাজিক কোনো কাজে এগিয়ে এসে উল্টো নিজের সম্মান ও ইজ্জত নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তাহলে মানুষ একসময় অন্যের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহটাই হারিয়ে ফেলবে। আর তখন সমাজে মানুষের সংখ্যা বাড়লেও কমতে থাকবে মানবিকতা।

ভালো মানুষ প্রয়োজন, কিন্তু ভালো মানুষ তৈরি হয় একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশে। যেখানে সত্য কথা বললে অপমানিত হতে হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে শত্রু তৈরি হয় এবং মানুষের উপকার করতে গেলেও সমালোচনার শিকার হতে হয়—সেখানে অনেক ভালো মানুষও একসময় নীরব হয়ে যায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, অর্থ-সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় না। একজন মানুষ কতটা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, কতটা সহানুভূতিশীল হয়েছে এবং অন্যের সম্মান কতটা রক্ষা করেছে—সেখানেই তার প্রকৃত পরিচয়।

সমাজকে সুন্দর করতে হলে আগে আমাদের নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে হবে, বিপদে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং অকারণে কারও সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সমাজ বদলের শুরুটা অন্য কারও কাছ থেকে নয়, শুরুটা হতে হয় নিজের কাছ থেকেই।

খুব ইচ্ছে করে—মসজিদে আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ি। এরপর বাবার কবরে কিছুক্ষণ বসি, নীরবে কথা বলি, তারপর কবরের পাশে একটু হাঁটাহাঁটি করি। বাবা নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর ভালোবাসা আর তাঁর রেখে যাওয়া শূন্যতা প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভব করি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালো গাফলতি মায়ের বরাদ্দকৃত ইনজেকশন নবজাতকের শরীরে পুশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মায়ের জন্য বরাদ্দকৃত ইনজেকশন নবজাতকের শরীরে পুশ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। নগরের প্রবর্তক এলাকার সেন্টার ফর স্পেশালাইজড কেয়ার অ্যান্ড রিসার্স (সিএসসিআর) হাসপাতালে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নবজাতককে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইইউ) মো. সালাহউদ্দিন রোগীর স্বজনদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বাচ্চাটির দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেছেন, বাচ্চাটিকে আমরা দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নবজাতকের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, কেউ এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার বিকালে চিকিৎসক তাসনিমা বানু খুকির অধীনে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন শাকিলা ইয়াসমিন। শাকিলার বাড়ি নগরীর বাকলিয়ায়। রাতে চিকিৎসক তাসনিমা প্রসূতিকে একটি বিশেষ রক্তজনিত সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত রোফাইলাক-৩০০ মিলিগ্রামের একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেন।

শাকিলার স্বামী মোহাম্মদ হাসানের অভিযোগ, যে নার্সকে ইনজেকশনটি দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা নবজাতকের শরীরে দিয়ে দেন। আমার স্ত্রী নার্সকে নিষেধ করার পরও তিনি মায়ের ইনজেকশন বাচ্চাকে দিয়ে দেন। বিষয়টি চিকিৎসকদেরকে জানালে তারা স্বীকার করেন যে নার্স ভুল করেছে।এ ঘটনায় নার্স, ডাক্তার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, ঘটনার পর নবজাতকটিকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নবজাতকের বাবা এবং স্বজনরা বিচার দাবি করেন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার জন্য তাদের অবহেলার বিষয়ে জবাবদিহি করতে বলেন। এ ছাড়া নবজাতকটির বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসাসংক্রান্ত সুরক্ষার দাবি জানান।

কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮ জানুয়ারি। এবার খুলনা, ঢাকা ও রাজশাহী- এ তিন বিভাগীয় শহরে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৮ ডিসেম্বর

ঢাকার মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিট এবং ১৯ ডিসেম্বর ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এবার পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সাতটি বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শহরগুলো হলো- ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ