
প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ দেখতে সাদা,নাম দুধ-কিন্তু তৈরির উপকরণে নেই কোন খাঁটি দুধের স্বাভাবিক কোন উপাদান। ভোজ্য তেল,কস্টিক সোডা, চিনি, জেলি ও বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হয় কথিত সাদা দুধ।এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পাবনা জেলার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ লিটার ভেজাল সাদা দুধ জব্দ করেছে চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন।
এ ঘটনায় সুমন ঘোষ (৪১) নামে এক ব্যক্তি কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।বুধবার ২৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাটমোহর পৌর সদরের মধ্যশালিখার গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন ঘোষ একই গ্রামের অমল চন্দ্র ঘোষের ছেলে।চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি বাড়িতে গোপনে ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগ ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন।
রাতের অভিযানে সংশ্লিষ্ট বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত সাদা দুধ পাওয়া যায়।সেখানে প্রায় ৩০০ লিটার ভেজাল দুধ মজুত ছিল। শুধু দুধই নয়, তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয় দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ। এর মধ্যে ছিল জেলি, ভোজ্য তেল, চিনি, কস্টিক সোডা সহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য।
শুধু দুধই নয়, তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয় দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকম উপকরণ। এর মধ্যে ছিল জেলি, ভোজ্য তেল, চিনি, কস্টিক সোডা সহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য।উদ্ধার হওয়া উপকরণ ও প্রস্তুতকৃত দুধের নমুনা দেখে উপস্থিত কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে দুধের মতো সাদা তরল তৈরি করা হয়েছে। পরে তা বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলেই চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী ভ্রাম্যমাণ আদালত টি পরিচালনা করেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সুমন ঘোষ কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।অভিযানে চাটমোহর পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং চাটমোহর থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজারে দুধের চাহিদাকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে ভেজাল পণ্য তৈরি ও বিক্রির চেষ্টা করছে। তাই এ ধরনের কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোন ধরনের প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।