চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হবে বছরে প্রায় ৮ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এটি চালু হলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সক্ষমতা তৈরি হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৮ লাখ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা যুক্ত হবে বন্দরে। রোববার (৩০ আগস্ট) পতেঙ্গার কর্ণফুলী নদীর তীরে এই টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। লালদিয়া টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এত বড় বিদেশি বিনিয়োগে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ দেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার ভাটিতে গুপ্তা বাঁকের পরবর্তী এলাকায় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর। এর মধ্যে ৩২ একর জায়গায় মূল টার্মিনাল, প্রায় ৭ দশমিক ১৫ একর জায়গায় কনটেইনার ইয়ার্ড এবং প্রায় ১০ একর জায়গার একটি অংশে ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা থাকবে। প্রস্তাবিত টার্মিনালে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা হবে। নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য থাকবে সাতটি জাহাজ থেকে তীরে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর ক্রেন এবং ইয়ার্ডে থাকবে ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার-চাকা ক্রেন। টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টিইইউ।

জানা গেছে, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা এক দশকেরও বেশি সময়ের পুরোনো। ২০১৩ সালে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাস্তব জটিলতায় তা দীর্ঘদিন বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারেনি। লালদিয়া চরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জমি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে

ডেনমার্কভিত্তিক মারস্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস ২০২৩ সালের ২১ মে লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব দেয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি যৌথ প্ল্যাটফর্মের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় এবং এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ চুক্তির কার্যকারিতা শুরু হয়। এরপর চুক্তিতে নির্ধারিত পূর্বশর্তগুলো পূরণ করে ২২ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এপিএম টার্মিনালসের কাছে প্রকল্পের সাইট হস্তান্তর করে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতার জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এর চেয়ে বড় জাহাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পণ্য ছোট জাহাজে করে সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ আঞ্চলিক বন্দরে নিয়ে গিয়ে সেখানে বড় জাহাজে তুলে দিতে হয়। এতে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হয়। এপিএম টার্মিনালসের হিসাবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়তি সময় যুক্ত হতে পারে।

লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে বড় জাহাজের সরাসরি সংযোগের কারণে এই বাড়তি ধাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় হতে পারে। তৈরি পোশাকের মতো সময়নির্ভর রপ্তানি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস ও সরবরাহের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

বন্দর সূত্রে আরো জানা গেছে, পিপিপির আওতায় বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি ও বন্দরের মালিকানা ধরে রাখবে। আর এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটির নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তির মধ্যে প্রথম তিন বছর নির্মাণপর্ব এবং পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনার মেয়াদ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে টার্মিনাল হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। এপিএম টার্মিনালস চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করলে পরিচালনার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) ও বন্দর বিশেষজ্ঞ মো. জাফর আলম বলেন, সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে, কোনো রকম বিনিয়োগ ছাড়া আমরা একটি বড় অবকাঠামো পাচ্ছি। বিদেশি বিনিয়োগ আসছে, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে। তবে যথাসময়ে শেষ করাটা একটা চ্যালেঞ্জ।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের নকশায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কনটেইনার ওঠানো-নামানো ও ইয়ার্ড পরিচালনায় বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থাও থাকবে। ভবিষ্যতে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগী অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।ইয়ার্ডের ক্রেনগুলো প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে কর্মীদের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে। জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যেই এসব প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে।
তারা বলেন, নির্মাণপর্বে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। টার্মিনাল চালুর পর সরাসরি কয়েকশ মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান হবে। এর বাইরে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পণ্য খালাস, জাহাজসেবা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতি পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে। ফলে স্থানীয় কর্মীদের নতুন ধরনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগও তৈরি হবে।

ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, লালদিয়া টার্মিনালের সুফল পুরোপুরি পেতে শুধু নির্মাণকাজ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। বড় জাহাজ চলাচলের জন্য কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ও নেভিগেশন ব্যবস্থা সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়লেও বন্দর থেকে পণ্য দ্রুত বের করে নেওয়ার ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থায় নতুন করে জট তৈরি হতে পারে।

কাস্টমস, পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যবস্থার গতি বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলোর সরাসরি সেবা নিশ্চিত করাও বড় বিষয়। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা ও নির্ভরযোগ্য নেভিগেশন নিশ্চিত করা গেলে বড় জাহাজের নিয়মিত সরাসরি আগমন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আরেকটি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল ১৬০টি বাস-ট্রাকের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে আরেকটি অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাল চালু হতে যাচ্ছে। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জালালাবাদ ওয়ার্ডের কুলগাঁও বালুচরা এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ৮ দশমিক ১০ একর জায়গার উপর টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কদমতলী ও বহদ্দারহাটে দুটি বাস টার্মিনালের পর নগরীর এটি হবে তৃতীয় বাস টার্মিনাল।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম বাস টার্মিনাল নির্মিত হয় কদমতলীতে। দ্বিতীয় টার্মিনাল নির্মিত হয় বহদ্দারহাটে ১৯৯৩ সালে। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছরেও নির্মাণ হয়নি কোনো বাস টার্মিনাল। সিটি বাস টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদন হয়। নানা জটিলতায় প্রায় আট বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি চসিক। প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় হয়েছে ১০৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া, ভূমি উন্নয়নে ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, অবকাঠামো উন্নয়নে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ইয়ার্ড নির্মাণ বাবদ ২৫ কোটি টাকাসহ মোট ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সর্বমোট এই প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণসহ ব্যয় হয়েছে ১৩৯ কোটি টাকা।

এখানে বাসের পাশাপাশি ট্রাকের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে। টার্মিনালটি চলতি মাসে উদ্বোধনের পর পুরোদমে চালু হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এই টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার ও আন্তঃনগর উভয় ধরনের বাসই ছাড়বে। টার্মিনালটিতে মোট ১৬০টি বাস-ট্রার্ক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, কুলগাঁও বালুচরা বাস টার্মিনালসহ বেশকিছু প্রকল্পের কাজ আমাদের শেষ পর্যায়ে। মেয়র দু’এক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরলে এগুলো চালু বা উদ্বোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই বাস টার্মিনালটি চালু করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে টার্মিনালের মূল ভবনের ফিনিশিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। যা চলতি মাসের মধ্যেই শেষ করা হবে। টার্মিনালের প্রবেশ পথে একটি তিন তলা ভবন রয়েছে। এছাড়া, একটি সিটি বাস টার্মিনাল, একটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল, ২৫টি যাত্রী বোর্ডিং লেন, ১৪টি অতিরিক্ত ওয়েটিং লেন, একটি বড় খোলা হল রুম এবং তথ্যকেন্দ্র, পুরুষ ও নারীদের জন্য টয়লেট, ২২টি টিকিট কাউন্টার, যাত্রীদের বসার জায়গা, ওয়াইফাই সুবিধা, লাগেজ রুম, ট্যাক্সি বুকিং রুম, ফাস্ট এইড স্টেশন, রেস্তোরাঁ, এসি বাসের যাত্রীদের বসার জায়গা, বাস-ট্রাক মালিকদের জন্য অফিস এবং বাস কর্মচারীদের আবাসন কক্ষ রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ও চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন বলেন, মূল ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ভবনের ফিনিশিংয়ের কাজ, বাগান ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। টার্মিনালটির ব্যবহার শুরু হলে সুবিধা পাবে দেশের দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির লাখো বাসিন্দা। এতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশমুখ অক্সিজেন এলাকার নিত্যদিনের যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি অভিমুখী বাস-ট্রাকের জন্য কোন টার্মিনাল নেই। টার্মিনাল না থাকায় এসব সড়কের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার উপর যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় কুলগাঁও এলাকায় বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চসিক। টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলের যানজট অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কে অক্সিজেন হয়ে প্রতিদিন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি বাদেও উত্তর জেলার বিভিন্ন রুটে ৫০০ থেকে ৬০০ বাস চলাচল করে।

চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, রাঙামাটি-খাগড়াছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে দৈনিক নিয়মিত পাঁচ শতাধিক বাস চলাচল করে। কিন্তু স্থায়ী টার্মিনাল নেই। তাই মুরাদপুর কিংবা অক্সিজেন এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে হয় বাসগুলোতে। এতে নগরীর অন্য রুটে চলাচলকারী যানবাহনকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। নতুন টার্মিনাল চালু হলে উত্তরের রুটগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। অক্সিজেনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রুটে যানজট কমে আসবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার সাথে নিরাপদ খাবার পানির এটিএম বুথ স্থাপনে চুক্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে পানি সরবরাহ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এটিএম বুথ স্থাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। চুক্তিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম এবং ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে পানির এটিএম বুথ স্থাপন। মহানগরীর যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে এবং যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাবার পানির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে পানির এটিএম বুথ স্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ পানি আরও সহজলভ্য করাই হলো এই চুক্তির মুল উদ্দেশ্যে।

চুক্তি অনুযায়ী ওয়াটারএইড বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ওয়াসার পাম্প বা সরবরাহ লাইনের পানির গুণগত মান মূল্যায়ন করবে এবং পানির গুণগত মানের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পানি শোধন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার সহায়তায় পাইলট সময়কালে এটিএম বুথগুলোর জন্য কেবল জমি প্রদান করবে; সমস্ত ক্যাপিটাল ইকুইপমেন্ট (মূলধনী যন্ত্রপাতি) ওয়াটারএইড বাংলাদেশ দ্বারা অর্থায়ন করা হবে। জায়গা প্রাপ্তিতে সমস্যা হলে আলোচনা সাপেক্ষে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে জায়গা গ্রহণের বিষয়ে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অনুমতি ব্যতীত সরাসরি খুচরা পানি বিক্রি এবং বিতরণ করতে পারবে না; বুথগুলোতে সমস্ত পানি বিক্রি অবশ্যই সরাসরি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ অনুমোদিত কর্মী বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত করতে হবে। আনুমানিক ১০০টি ওয়াটার এটিএম বুথ চালু না হওয়া পর্যন্ত পাইলট পর্যায়টি চলবে।

ওয়াটার এইড বাংলাদেশ একটি সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) গ্যারান্টি দিবে যার অধীনে যেকোনো অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক ত্রুটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি কোনো বুথ ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে, তবে জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ একটি বিকল্প সাময়িক পানি বিতরণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ শুধু একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছে না, বরং চট্টগ্রাম নগরীর পানি সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আগামী তিন বছরের একটি যৌথ পথচলার সূচনা করছে। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, পানি সংকটাপন্ন এলাকা এবং নিরাপদ খাবার পানির সীমিত সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর এই অংশীদারিত্ব চুক্তি অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমি মনে করি, পানির এটিএম বুথ শুধু পানি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা নয়। এটি মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।

বিশেষ করে যেসব মানুষ প্রতিদিন পানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগ বাস্তব উপকার বয়ে আনবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরবর্তীতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন এবং যেসব এলাকায় লবণাক্ততার কারণে নিরাপদ খাবার পানির সংকট রয়েছে, সেখানে রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমকে উন্নত ও গতিশীল করতে বিলিং অ্যাপস তৈরি, ওয়াসার পানির লাইন সম্প্রসারণ সহ আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এতে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের -এর মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সুফল সরাসরি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার বলেন, পানি সেবা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান এবং সামাজিক নিরাপত্তা সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই পানি সংকটাপন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ওয়াটার এইড বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নগরীর পানি ও স্যানিটেশন খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ওয়াসার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগালে জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে বলে আমি আশাবাদী।

আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, প্রধান রজাস্ব কর্মকর্তা রুমন দে সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ সেখ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মোঃ তাহমিদুল ইসলাম, জোনাল লিড বাবুল বালা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ