চট্টগ্রামে অভিযানে সুড়ঙ্গপথে পালালো শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা, পুলিশের ওপর হামলায় আহত ৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে (৪২) গ্রেফতারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এসময় তার বাসার ভেতরে থাকা একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে পরিবারের সহযোগিতায় পালিয়ে যান তিনি। তবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে ছোড়া হয় ইট-পাটকেল। পুলিশ গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে পালিয়ে যায়
হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর খুলশী থানার ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনাগ্রহী একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, অভিযানের খবর আগেই পৌঁছে যাওয়ায় অনুসারীদের দিয়ে পুলিশকে ঠেকানোর সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন ওয়াকিল।

পুলিশ জানায়, পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে মারধর এবং অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ২ নম্বর আসামি বগা। তাকে গ্রেফতারে অভিযানে গেলে অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ককটেল সদৃশ বস্তু ছোড়ে। এসময় খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

জানা গেছে, ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সিএমপির তালিকাভুক্ত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক, বিস্ফোরকসহ ১৭টি মামলা আছে। সরকারি জমি দখল, গোলাগুলিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ আরো জানায়, গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের অস্থায়ী শিক্ষক মিজানুর রহমানকে পিটিয়ে আহত করে একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় ওয়াকিলকে আসামি করে মামলা হয় খুলশী থানায়।

ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বললেন, মামলার পর ওয়াকিল ক্রমাগত আমার সরকারি ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে গালিগালাজ করেন। হুমকিও দেন। এ অবস্থায় আমরা তাকে গ্রেফতারে অভিযানে নামি। থানা থেকে বেরিয়ে ১৫-২০ গজ দূরে ওয়্যারলেস কলোনির মোড়ে পৌঁছাতেই দেখি রাস্তায় ব্যারিকেড। কয়েকশ লোক সেখানে। আমাদের গাড়ি আর এগোতে পারেনি। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ও পুলিশ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, কাচের বোতল নিক্ষেপ শুরু করে। ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়।

আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে। ইটের আঘাতে আমি, আমার বডিগার্ড এবং আরও ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমার সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, ওয়াকিল হোসেন বগা ওয়্যারলেস কলোনির মোহাম্মদ জাবেদের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, দখলবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে। গত ৮ জুন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পেয়ার আহমেদ। এর আগে শুক্রবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত এ অভিযান চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পাঁচজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১২ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জন, চরজব্বর থানায় দুজন, সোনাইমুড়ী থানায় ছয়জন, চাটখিল থানায় ছয়জন এবং কবিরহাট থানায় সাতজনকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের দুই ক্যান্টিনে পচা-বাসি খাবার ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনল পাঁচ প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে খাদ্যপণ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, মেয়াদ সংক্রান্ত অনিয়ম, মূল্য তালিকা না থাকা এবং অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির বিষয়গুলো উঠে আসে।
অভিযানে সিএমসি ক্যাফেকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।ক্যাফেটির ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা তরকারি সংরক্ষণ এবং অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, রান্না ও পরিবেশনের প্রমাণ পাওয়ায় এ অর্থদণ্ড করা হয়। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, রান্না ও পরিবেশনের পাশাপাশি দধিতে মেয়াদ ব্যবহারের তারিখ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করা হয়।

এছাড়া মূল্য তালিকা না থাকা এবং ডাবের দাম বেশি রাখার অভিযোগে মেডিকোপ সুপার শপকে ১০ হাজার টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং বিদেশি অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির দায়ে জেবিএল সার্জিক্যাল ইউনিট-২কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, একই অভিযোগে স্বপ্না মেডিকেল স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং বিদেশি অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় খাদ্য ও ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ নেই। অভিযানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রি এবং পণ্যের মূল্য নিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, মেয়াদ ও অনুমোদন যাচাই করে ওষুধ বিক্রি এবং পণ্যের সঠিক মূল্য প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ