সব ধর্মের মূল লক্ষ্য সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা: সিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। পৃথিবীর সব ধর্মের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে মানুষের অধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সকল ধর্মের মানুষ, বর্ণের মানুষকে নিয়ে সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হবে। তিনি বলেন, সব সম্প্রদায়ের মানুষ সম্মিলিতভাবে সম্পৃক্ত থেকে আগামীর অগ্রযাত্রাকে শক্তি এবং সাহসে পরিণত করতে হবে। সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সবার অংশগ্রহণে প্রগতিশীল, কল্যাণময় বাংলাদেশ গড়তে মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে।

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, জ্ঞান, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মানুষকে মূল্যায়ন করতে হবে। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। কোন বিভাজন কিংবা বৈষম্যের শিকার যাতে কেউ না হয় সে ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি নির্ভয়ে সকল ধর্মের মানুষকে তাদের অনুষ্ঠান, উৎসব পালন এবং সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ-কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে মহাশোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বাঁশখালী ঋষিধাম ও তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ। তিনি বলেন, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মানুষের জন্য দিয়ে গেছেন মানবপ্রেমের অবিনশ্বর বাণী। নিয়মিত ধর্মচর্চা করলে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। সকল ধর্মেই সাম্য ও মানবতার কথা বলে। তাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা আমাদের দায়িত্ব।

মহাশোভাযাত্রা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বাবুল ঘোষ বাবুনের সভাপতিত্বে শুরুতে গীতাপাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি চন্দন দাশ। মহাশোভাযাত্রা উপ-কমিটির সদস্য সচিব শিমুল মুহুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর.কে দাশ রুপু, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টী রাজীব ধর তমাল, জন্মাষ্টমী পরিষদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, প্রবর্তক ইসকন শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী, নন্দনকানন রাধা মাধব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তারণনিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়ন তপন কান্তি দাশ, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, শিবু প্রসাদ দত্ত, বিদ্যালাল শীল, হরিপদ দাশ, লায়ন শংকর সেনগুপ্ত, চট্টগ্রাম মহানগর জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন শংকর সেনগুপ্ত,

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নিখিল কুমার নাথ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. রাজীব বিশ্বাস। বক্তব্য রাখেন জন্মাষ্টমী পরিষদ কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রতন আচার্য্য, উপ-অর্থ সম্পাদক সুমন ঘোষ বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ শংকর দাশ সিধু, সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন মহাজন, প্রচার সম্পাদক এস প্রকাশ পাল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কানুরাম দে, রানা মহাজন, বাবলু দেবনাথ, অরুপ দাশ রুবেল, সুকান্ত মজুমদার, রাজু দাশ প্রমুখ।

শোভাযাত্রাটি আন্দরকিল্লা থেকে শুরু লালদীঘি পাড়, কোতোয়ালী মোড়, নিউমার্কেট, নন্দনকানন, ডিসি হিল, চেরাগী পাহাড় মোড় হয়ে জেএম সেন হলে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে মিলিত হয় মিলনমেলায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চুয়েটের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন নতুন ভিসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চুয়েটের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন নতুন ভিসি

এনসিটি ইজারার উদ্যোগ বাতিল না হলে বন্দর অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল না হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বন্দর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচিতে এ হুঁশিয়ারী দেয়া হয়। এতেও কাজ না হলে দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মশাল মিছিল, বন্দর ভবন ঘেরাও করে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখার ডাক এসেছে সংগঠন থেকে।

বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সেখানে বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা এসে যোগ দেন। কর্মসূচিতে সরকারদলীয় শ্রমিকদল, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।কর্মসূচির কারণে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের দিকে যানবাহন চলাচল দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এ সময় পুলিশ, বন্দর নিরাপত্তা বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বললেন, আগামী ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
আন্দোলনে বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বললেন, সরকার যখন অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তখন এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দিতে কেন এত তাড়াহুড়ো করছে তা জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারের মত, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থে কাজ করছেন। বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবীর জানালেন, আমরা আশা করেছিলাম সরকার এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করবে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু আমরা হতাশ।

ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি তপন দত্ত ঘোষণা দেন, দাবি আদায়ে ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। কার্যালয় থেকে বের হতে দেয়া হবে না।
ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বললেন, বিদেশিদের ইজারা নিয়ে সরকার আমাদের বুঝিয়ে দেবে অন্যথায় আমরা নিজেরাই বুঝে নেবো। এভাবে আমরা আর বসে থাকব না।

এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি ইজারা বন্ধের দাবিতে আগামী ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় বন্দর ভবনের সামনে থেকে মশাল মিছিল এবং ১৩ অক্টোবর বন্দর ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সংগঠনের নেতারা।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন বলেন, বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের হাতে দেওয়া হলে তারা নামমাত্র কর দিয়ে বড় অংশের অর্থ নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। দেশীয় জনবল দিয়ে বন্দর পরিচালনা করলে এর আয় দেশের অর্থনীতিতেই থাকবে।

বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বাসদ মার্ক্সবাদী চট্টগ্রাম জেলাত সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ, গণ্মুক্তি ইউনিয়নের সম্বয়ক রাজা মিয়া, স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লব, ল্যাসিং-আনল্যাসিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইকবাল, মার্চেন্ট শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন, উইঞ্চ অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ইমাম হোসেন খোকন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ