এনসিটি ইজারা দিলে দেশের কী লাভ হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দিলে দেশের কী লাভ হবে, তা সরকারকে জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। একইভাবে এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়েও সরকারের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি আহূত আগামী ৫ অক্টোবর দিনব্যাপী বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জাতীয় ফেডারেশন ও বেসিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা এ বিষয়ে প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সুলতান আহমদ হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।সভা থেকে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের শ্রমিক, জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। বন্দরের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের স্বার্থ জড়িত। তাই বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বক্তারা ৫ অক্টোবরের অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। তবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলনকে সরকার দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করলে তা ভুল হবে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। প্রয়োজনে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণার কথা জানান তারা।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এসকে খোদা তোতন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান,

জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহ-সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজি, বিএফটিইউসির সভাপতি আনোয়ারুল হক হুনি, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ মিয়া, বন্দর উইঞ্চ ক্রেন অপারেটর সমিতির নেতা ইমাম হোসেন স্বপন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লব, লুৎফুন্নাহার সোনিয়া, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির, ইমান আলী জানুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আন্দোলনের মধ্যেই অবশেষে হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অবশেষে দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিয়ে পরিচালনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকাল তিনটায় ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর করবে। বন্দর শ্রমিকরা এর প্রতিবাদে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল ‘চুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই বন্দর অচল করে দেওয়া হবে’। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে মশাল মিছিলের কর্মসূচি রেখেছে শ্রমিকরা।

সরকারি এই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ইব্রাহিম খোকন ফোনে সাড়া দেননি। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুও ফোনে সাড়া দেননি। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে খুব সীমিত আয়োজন করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। যেখানে অতিথি থাকবেন একশজন। ৩০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। বাকিরা ঢাকার। অনুষ্ঠানে দুপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এশা কাজিম।

শ্র্রমিকদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার। আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পৃথিবীর কোথাও কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর শতভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার নজির নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। তাই এ নিয়ে অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে। এরজন্য সরকারকে চরম মাশুল দিতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগে তদন্ত কমিটি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে গাড়ির পাস নিয়ে তর্কের জেরে এক জেটি সরকারকে ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে বন্দরের এক চেকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি তদন্তে মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় মো. আতিকুর রহমান (৪৫) নামে ওই জেটি সরকার আহত হয়েছেন।
তবে কী কারণে জেটি সরকার ও চেকারের মধ্যে গাড়ির পাস নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত এবং হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আহত মো. আতিকুর রহমান সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স টক ট্রেডের জেটি সরকার। ঘটনার পর তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে আতিকুর রহমান বন্দরের ৮ নম্বর ইয়ার্ডে যান। সেখানে বন্দরের নিম্নমান বহিঃসহকারী (জেআরওএ) বা চেকার জুয়েলের সঙ্গে গাড়ির পাস নিয়ে তার তর্ক-বিতর্ক হয়।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে চেকার জুয়েল দে আতিকুর রহমানকে ঘুষি মারেন। এতে তার চোখের নিচে জখম হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ কেফায়েত হামিম বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহাম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি দুপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ