যুক্তরাষ্ট্রে এবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল ক্ষমতাসীন ট্রাম্পের দল। আবার ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও একই রকম ধাক্কা খেয়েছেন।দুই দেশের নির্বাচনে প্রভাবশালী নেতাদের ক্ষমতার দাপট কমে এসেছে । ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কংগ্রেসে তাঁর দলের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর মেয়াদ এখনই শেষ হচ্ছে না। নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল সরাসরি সরকার গঠনের প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর দল লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সমর্থন নেই।
কীভাবে তাঁরা শেষের দ্বারপ্রান্তে এলেন
বুধবার বেলা আড়াইটায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রয়োজনীয় ২২৫টিতে জিতেছে। উচ্চকক্ষ সিনেটে ৫৪টিতে নিশ্চিতভাবে জিতেছে। । এই ফলকে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে জনমতের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটারদের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় মেয়াদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও শুল্কের প্রভাব সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টনের লড়াই ছিল না; এটি ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর এক ধরনের গণভোটে পরিণত হয়।
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সংকটের ধরন ট্রাম্পের থেকে আলাদা। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তাঁর দল লিকুদ পার্টি নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে এককভাবে ২৭টি পেয়েছে। জোটের শরিকদের আসন মিলিয়ে তা দাঁড়ায় ৫৩টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। বিরোধী জোট ৪৮ আসন পেলেও তাদের সমর্থন দিচ্ছে ১৯ আসন পাওয়া আরব দলগুলো। ফলে বিরোধীরা সরকার গঠনের দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে।
বুধবার ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি সরকার গঠনের জন্য সম্ভাবনাময় জোটের একজন নেতাকে দায়িত্ব দেবেন। দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধীদের সঙ্গে আরবদের সমর্থন থাকায় প্রথমে গাদি আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি।এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়াগুলোতেও শেষের আবেগের বার্তা আছে।