নির্বাচনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এসেছি: প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা নির্বাচনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এসেছি। আমরা আইন পাশ করে এবারই প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন করেছি।
এটাকে স্থায়ী রূপ দেওয়াটাই আমাদের উদ্দেশ্য।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে খালেদা জিয়ার ছেলে মুচলেকা দিয়ে চলে গেল লন্ডন। বলল, আর জীবনে রাজনীতি করব না। এখন ওখানে বসে হুকুম দিয়ে দিয়ে মানুষ হত্যা করাচ্ছে। জিয়াউর রহমান যেমন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, ঠিক একইভাবে জিয়ার বউ ক্ষমতায় এসে আমাদের আন্দোলনরত নেতা-কর্মীদের হত্যা করে। আর তার ছেলেও এখন একই কাজ করছে। জিয়া পরিবার পুরোটাই একটি খুনি পরিবার। নিজেরা ক্ষমতায় থেকে সমানে অর্থ বানিয়েছে, সম্পদের পাহাড় গড়েছে। এরা মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে না। এটাই তাদের চরিত্র। তারা মানুষ খুন আর দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই চায় না। বিএনপি-জামায়াত বোধহয় ইসরায়েলিদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে চলে।

তিনি বলেন, পুলিশকে যেভাবে মাটিতে ফেলে পিটিয়ে মারলো, মারতে মারতে যখন সে বেহুশ হয়ে গেছে তখন তার মাথা থেকে হেলমেট ফেলে দিয়ে মাথায় কোপালো। এরা হচ্ছে বিএনপি নেতা। আমরা কোন দেশে বসবাস করছি। পুলিশ হাসপাতালের মধ্যে ঢুকে হামলা চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পোড়ানো হলো। সেখানে পুলিশদেরও আহত করা হলো। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলা করা হলো। এই হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের চরিত্র। তাদের ওপর জনগণের আস্থা-বিশ্বাস থাকবে কীভাবে? এদের আন্দোলন মানেই জ্বালাও-পোড়াও। এদের শিক্ষাটা বোধহয় ইসরাইলের কাছ থেকে নেওয়া। ইসরাইলিরা হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করে নারী-শিশু ও রোগীদের আহত করেছে। সেখানেও কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের ওপর আক্রমণ হয়েছে। ছোট ছোট শিশুসহ যেভাবে মানুষ হত্যা করছে। সেখানে লাশের সারি বয়ে যাচ্ছে। জামায়াত-বিএনপি বোধহয় ওদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে চলে। এখন তারা আউটসোর্সিং আন্দোলন শুরু করেছে। কিছু মাদকাসক্ত ও সমাজের অবাধ্য লোকজন দিয়ে তাদের হাতে টাকা দিয়ে আগুন সন্ত্রাস চালাচ্ছে। আবার এক যুবদল নেতা সরাসরি বাসে আগুন দিতে গিয়ে ধরা খেয়েছে। অনেক স্থানে জনগণও এসব সন্ত্রাসীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। তারপরও এদের লজ্জা হয় না। গতকাল ও পরশু চাল বোঝাই গাড়ীতে আগুন দিয়েছে। দেশের মানুষ যে খাবার খাচ্ছে তা ওদের পছন্দ হচ্ছে না। ঠিক পাকিস্তানিরা এভাবে ঘোলা ভরা ধান পুড়িয়ে দিয়েছিল। টুঙ্গিপাড়ায় আমাদের বাড়িও আগুন দিয়ে পুড়িয়েছিল। জামায়াত-বিএনপির রাজনৈতিক শিক্ষা ওই সমস্ত জায়গা থেকে হয়েছে। এরা মানুষের জন্য কিছু করতে চায় না।

নিজের শাসনামলের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা দেশের অনেক উন্নয়ন করেছিলাম। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর আমরা দেশটি যেখানে রেখে গিয়েছিলাম সেখান থেকে আবার পিছিয়ে পড়েছিল। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা কমে গিয়েছিল, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়েছিল। একে একে সবকিছু আবার পেছন দিকে চলে গিয়েছিল। আমাদের ছিল ভাতের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। আর সে আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি মূল শক্তি ও সাহস হচ্ছে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়াবাসী। আর বাংলাদেশের জনগণ তো আছেই। এজন্য আমি সর্বক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছি। আপনাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আপনারা আমার নির্বচনী এলাকার দায়িত্ব নিয়েছেন বলেই আমি সারাদেশের কথা ভাবতে পারছি। আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আপনারা আমাকে প্রার্থী করেছেন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হবে। এর আগে ভোট চাওয়া যায় না। নির্বাচনী একটি শৃঙ্খলা আছে। আমাদের সেই শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।
এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ার নিজ বাসভবন থেকে কোটালীপাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র ও অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে-বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর ১৫ নং বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপির পক্ষ থেকে এক সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাস বিরোধী মিছিলের নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ মিজান ও মোঃ ফজর আলী। সন্ত্রাসীরা কোন বিশৃংখলা করলে শক্ত হাতে দমন করা হবে। সন্ত্রাস বিরোধী মিছিলে উপস্থিত ছিলেন – ওয়ার্ড সভাপতি চৌধুরী সায়েফুদ্দিন রাশেদ সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সরোয়ার উদ্দিন, মোঃ কচি ভাই, মোঃ ফজর আলী,


মোঃ মামুন, মোঃ ইব্রাহিম লালন, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ মুন্না খান, মোহাম্মদ মিজান, মোঃ আবু মুসা,মোহাম্মদ মিন্টু, মুনমুন জাহাঙ্গীর, বাদশা জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ নাজমুল, মোহাম্মদ শফি, কুতুব উদ্দিন নয়ন, মোহাম্মদ রুবেল, মোহাম্মদ আরিফ,ফারুক হোসেন, জালাল উদ্দিন জনি, মোহাম্মদ নাজিম, মোঃ মহিউদ্দিন, মোঃ হানিফসহ বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপি, র অংগ সংগঠনের নেতা কর্মী ও সদস্যবৃন্দ।


বিক্ষোভ মিছিল প্রাক্কালে বক্তাগণ বলেন -নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতা দেশবিরোধী শক্তির সকল ষড়যন্ত্র ও অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই অপশক্তি কোন ডিস্ট্রংঘর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

এইচএসসির পরীক্ষার সম্ভাব্য ফল প্রকাশ নভেম্বর দ্বিতীয় সপ্তাহে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ হতে পারে। ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সম্ভাব্য সময়ের কথা জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

তিনি বলেন, নভেম্বরের ৭ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফল তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা কিছুটা বিলম্বে শেষ হয়েছে। তবে ফল প্রস্তুতের কাজে অতিরিক্ত পরীক্ষক যুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা পরে অনুষ্ঠিত হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। পরীক্ষার্থীরা ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ