১০ মাঘের গাউসুল আযম মাইজভান্ডার দরবার শরীফ দেশের সর্ববৃহৎ স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাবেশ

লেখক ঃ নাজমুল হাসান চৌধুরী হেলাল আওলাদে গাউসুল আযম মাইজভান্ডারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১০ মাঘ ১৪৩০ বাংলা ২৪ জানুয়ারি ২০২৪ বুধবার বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা,বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভা-ারীয়া’র প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভা-ারী (ক.) কেবলা কাবার ১১৮তম মহান ১০ মাঘ উরস শরিফ ১০ মাঘ। বাংলা সনের এ তারিখ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের বর্ষপঞ্জির এক উল্লেখযোগ্য তাৎপর্যময় দিন।এ তারিখটি সারা বাংলাদেশের জন্যই সাংবাৎসরিক গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে প্রতিষ্টিত।১০ মাঘ,হযরত গাউসুল আযম মাইজভান্ডারি শাহসূফি হযরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহর (ক.)ওফাত দিবস।বাংলা ১৩১৩ সনের ১০ মাঘ মোতাবেক ইংরেজী ১৯০৬ সনের ২৩ জানুয়ারী তিনি ওফাত প্রাপ্ত হন। (সুত্র মাসিক আলোকধারা) এ তারিখে প্রতি বছর মাইজভান্ডার দরবার শরীফে মহাসমারোহে উরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর মাঘ মাস শুরু হবার আগে থেকেই চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশের নিভৃত পল্লী জনপদগুলো ঢোলক, খরতাল প্রভৃতি রখমারী বাদ্যের তালে তালে জেগে উঠে অকস্মাৎ। মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রাম বাংলার কৃষকের শান্ত উঠোন,প্রশান্ত আঙিনা। বাদ্যের তালে তালে অনুরণিত হতে থাকে মাইজভা-ারী গানের সুর। ‘মানুষ ধরা কল বসাইছে আমার বাবা ভান্ডারী, সেই কলেতে পড়লে ধরা আর থাকেনা ঘর-বাড়ী’ নানান ধরনের তকরীর দিতে দিতে সারিবদ্ধভাবে চলে মানুষ। পাড়ায় পাড়ায় ঘরে ঘরে গিয়ে সংগ্রহ করে উরস উপলক্ষে চাউল টাকা। ঢোলকের তাল, সানাইয়ের সুর শুনেই বৌ-ঝিরা বুঝতে পারে ওরশের নজরানা যোগাড়ে বেরিয়েছেন ভক্তরা। এসব দলে থাকেন এক কিম্বা একাধিক মাস্তান।শুধু চট্টগ্রামে নয়,বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই,এমনকি প্রতিটি মহল্লাতেই পাওয়া যাবে কয়েকজন করে ভান্ডারী-পাগল এমন মাস্তান। তাদের কারো মাথায় লম্বা বাবড়ী কাটা ঝাকড়া চুল। কারো হাতে লোহার কিম্বা গাছের বড় লাঠি,কারো হাতে লোহা বা তামা পিতলের বালা। পোশাকে-আশাকে নিতান্তই সাধারণ। কিন্তু প্রথম দর্শনেই এদের স্বকীয় একটা বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে। এদের দেখলে যে কেউই সহজে বুঝতে পারে। এরা ভান্ডারীর পাগল-মাস্তান। হক ভান্ডারীই এদের মুখের বুলি, জপমন। সারা দুনিয়াই যেন এদের ঘর। কেউ এদের পর নয়। উরস শরীফের নজরানা সংগ্রহের মিছিলে এদের উপস্থিতি পরিবেশকে করে তোলে আরো বৈচিত্র্যময়। যেখানে সেখানে এরা হালকায়ে জিকির শুরু করে দেয়। ঢোলক বাঁশীর আওয়াজ পেলে তো কথাই নেই এদের ভাবের সাগরে যেন তুফান উটে। বাল্যকালে এমন মিছিলে দু একজন মাস্তান কে ঢোলকের তালে তালে গাইতে শুনেছি “ফকিরী সহজ কথা না,লম্বা চুলে তেল মাখিলে ফকিরী পাবা না” কিম্বা ভান্ডারী! কি যাদুতে আমায় ভুলাইলি, গোস্ত দিবার আশা দিয়া কত্তি কিনালি (কত্তি অর্থ মাটির বদনা) “দেখে যারে মাইজভান্ডারে হইতাছে নুরের খেলা, নুরের মাওলা বসাইছে প্রেমের মেলা” আরো দেখেছি গান শুনে শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ের অশ্রুসিক্ত অভিব্যক্তি।
১০ মাঘের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয় মাইজভান্ডার শরীফ অভিমুখে জনগ্রোত। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায় দুর দুরান্ত থেকে শত শত বাস ভাড়া করে আসেন লাখ লাখ মানুষ। সে এক অপরূপ দৃশ্য। ট্রেনে বাসে পায়দলে কেবল মানুষের মিছিল।কিসের টানে কোন সে মোহিনী আকর্ষণে কাতারে কাতারে লক্ষ লক্ষ মানুষ এদিকে ছুটে আসেন।তা আল্লাহপাকই ভাল জানেন। সুফি কবি আবদুল হাদীর ভাষায় চল গো প্রেম সাধুগণ প্রমেরী বাজার,প্রেম হাট বসিয়াছে মাইজভান্ডার মাঝার। নারী পুরুষ, শিশু যুবক সকল বয়সের সকল স্তরের মানুষের সে এক মিলনমেলা মহাসম্মিলন। সমগ্র বাংলাদেশ যেন ভেঙে পড়ে মাইজভান্ডার শরীফ গ্রামে। মাইজভান্ডার শরীফ হয়ে ওঠে সমগ্র বাংলাদেশের মহামিলন তীর্থ। গোটা দেশের সাংস্কৃতিক আর্থিক ঐক্যের প্রতীক- প্রতিভু। লাখো লাখো মানুষ শুধু যায় আর আসে, পিঁপড়ের ঝাকের মত। সে দৃশ্য চোখে না দেখলে বলে বুঝানো যাবেনা।১০ মাঘ এভাবে পরিনত হয় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম স্থলে। শুধু জনসমাগম নয়,এই গোটা বিশাল গ্রামটিই তখন পরিনত হয় এক সুবিশাল এবাদতগাহে।সর্বক্ষণ চলে হালকায়ে জিকির,মিলাদ মাহফিল।দরবারের স্থানে স্থানে অজিফা পাঠ। আল্লাহর হামদ, মহনবীর নাত, আওলিয়া কেরামদের শানে গজল কাওয়ালী। ধর্মীয় পবিত্রতা, নিবেদিত প্রানের আকুতি যেন জড়িয়ে রাখে সমগ্র মাইজভান্ডার শরীফ কে। মানুষ নিজের অজান্তেই এতে হারিয়ে যায়, বিলীন হয়ে যায় মিশে যায় সেই অনাদি অনন্ত মহাশক্তির দরদী বুকে, মরমী সত্তায়। ১০ মাঘ উপলক্ষে মাইজভান্ডার শরীফে বসে এক বিরাট মেলা।বর্তমানে ঐ তারিখে দরবার শরীফের আশে পাশে বাজারগুলো যথা নাজিরহাট, নানুপুর লেলাং ফরহাদাবাদ প্রভৃতি জমে উঠে। হস্তশিল্পজাত বহু সামগ্রী এখানে বেচা কেনা হয়। চালুনি কুলা বেলুনি দা চুরি কোদাল বাঁশ বেতের অন্যান্য সামগ্রী। মাটির তৈরি তৈজস খেলনাপাতি মৌসুমি ফসল মূলা খীরা বরই হরেক রকম জিনিস পত্রের পসরা বসে। হালদা নদীর ভেতর চরে জম্মানো সাত/আট থেকে বার/চৌদ্দ কেজি ওজনের বিশাল বিশাল মুলা কাঁধে ঝুলিয়ে ঘরে ফেরেন ওরশার্থীরা। ১০ মাঘের কয়েকদিন আগে পিছে চলে চলে বেচাকেনা। ১০ মাঘ হয়ে ওঠে বাংলাদেশের হরেক রকম কুটির শিল্পের এক প্রদর্শনী ও বিপণন কেন্দ্র। আবহমান বাংলাকে পরিপূর্ণ রূপে খুঁজে পাওয়া যায় এখানে।
মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সকল ঘরে চলে এ উপলক্ষে জেয়াফত। দরবারে আগত লক্ষ লক্ষ মানুষ এখান থেকে খালি মুখে ফিরে যেতে পারেন না ফিরে যান না। তারা কেউ খালি হাতে আসেন না। প্রত্যেক দল সাথে করে নিয়ে আসেন মহিষ গরু ছাগল মোরগ চাউল রান্নার মসল্লা সামগ্রী। জমা দেন দরবারে। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলে রান্না বান্না ও পরিবেশনের কাজ।যে যার নিয়ত ও মানত করে খায়। এ দরবারের তবররুক খেয়ে জটিল রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন এমন লোকের সংখ্যাও অগণিত। রান্না বান্নার খানা পিনার এ বিশাল আয়োজন প্রকৃত অর্থে এক বিষ্ময়কর ব্যাপার লক্ষ লক্ষ মানুষেরা সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলার সহিত খেয়ে এখান থেকে যান।এর বৈশিষ্ট্য হলো এ খানা পিনায় ধনী গরীব সকলের জন্য একই ব্যবস্থা।খানা পিনা সরবরাহ করা হয় মাটির সানকিতে (বছি) বর্তমানে মেলামাইনের বাসনে (প্লেট)।হাজার হাজার মাটির সানকির প্রয়োজন হয় মাইজভান্ডার উরশ এ। এই মাইজভান্ডার শরীফই বলতে গেলে চট্টগ্রামের শত শত কুমোর পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছে দীর্ঘদিন।অনেকেরই জানতে ইচ্ছে হয়, এখানে ১০ মাঘ কত মহিষ গরু ছাগল জবাই হয়? হিসেব করে এর জবাব দেওয়া সম্ভব নয়।বলতে গেলে হাজারো হাজার। সে এক এলাহি কান্ড। কেবল মাইজভান্ডার দরবার শরীফে নয় ১০ মাঘ সারা বাংলাদেশে এমন কি দেশের বাইরে যেখানে ভক্ত অনুসারীরা আছেন কিন্তু কোনো না কোনো কারণে দরবারে হাজির হতে পারেন নাই। তারা নিজ নিজ অবস্থানে সমবেতভাবে উরশ শরীফের আয়োজন করেন।এই উরশ শরীফ বাঙালির জাতীয় অনুষ্টানের দাবীদার। বিশেষ করে জাতি ধর্ম দল মত বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের নিঃসংকোচ ও অবাধ অংশগ্রহন এ উরশ শরীফকে সার্বজনীনভাবে গৌরবের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

লেখক ঃ নাজমুল হাসান চৌধুরী হেলাল
আওলাদে গাউসুল আযম মাইজভান্ডারি

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাবেক মেয়র মনজুরের সঙ্গে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আলহাজ্ব হোসনেরা মনজুর আলম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। সাক্ষাৎকালে হযরত শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান গাউসুল আজম বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর খলিফা, মাইজভাণ্ডারী গানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং ফটিকছড়ির দক্ষিণ ধর্মপুরের মহান অলি হযরত শাহসূফি সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর আধ্যাত্মিক জীবন, সাধনা ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ধর্মীয় ঐতিহ্য আধ্যাত্মিক সাধনা ও মাইজভান্ডারী সংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ মতবিনিময়ীকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ সময় প্রতিনিধিদল তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শন, মাইজভাণ্ডারী সংগীত ও সুফিবাদী ভাবধারার তাৎপর্য তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমকে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে তাঁকে আমিন ভাণ্ডার দরবার শরীফের আমন্ত্রণপত্র এবং ‘সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী গান সমগ্র’ বইটি সৌজন্য উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। সভায় হযরত শাহসূফি সৈয়দ আমিনুল হক ধর্মপুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর পরিবারের সদস্য শাহজাদী ফাতেমা বেগম (খুশি), শাহজাদী আকলিমা আক্তার (পুতুল) ও শাহজাদী রাজিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক সাংবাদিক আল সিরাজ মাইজভাণ্ডারী, মো. জাভেদ হাসান, রাকিব, পিএস লিটনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ সহ উপস্তিত ছিলেন।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল ও গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন; শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল ও গুমানি নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
ষষ্ঠী থেকে বিজয় দশমী পর্যন্ত,পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, আনন্দ, উৎসব ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার ২১ অক্টোবর সন্ধ্যার পূর্বলগ্নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।

বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে বিদায়ের বিষাদ আর আগামী শরতে দেবী কে আবার বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা।
বুধবার দুপুর ২টা থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের পূজামণ্ডপ থেকে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিমা নিয়ে নদীর ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ভক্তদের মধ্যে একদিকে ছিল প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগ, অন্যদিকে ছিল পরিবার, সমাজ ও দেশের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়।

বড়াল নদীতে ভাঙ্গুড়া কেন্দ্রীয় মন্দির, কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির, জগাতলা দুর্গা মন্দির, পাথরঘাটা দুর্গা মন্দির ও শরৎনগর বাজার মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। অন্যদিকে চড়-ভাঙ্গুড়া ঘোষপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, কৈডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, নৌবাড়ীয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বেতুয়ান সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, দিলপাশার দুর্গা মন্দির ও অষ্টমনিষা দুর্গা মন্দিরে প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হয়।

প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে নদীর ঘাটগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তারা। বিসর্জনের সময় ভক্তরা সব অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির বিকাশ এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর তাৎপর্য শুধু প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেওয়াই এর অন্যতম শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর শরৎকালে দেবী দুর্গা পিতৃগৃহে আগমন করেন। কয়েক দিনের পূজা-অর্চনা ও আনন্দ-উৎসব শেষে বিজয়া দশমীতে তাকে বিদায় জানানো হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, দেবী ফিরে যান কৈলাসে স্বামী মহাদেবের গৃহে। এরপর আবারও শরতের আগমনে দেবীর আগমনের অপেক্ষায় থাকেন ভক্তরা।
প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। দেবী দুর্গার কাছে তারা পরিবার-পরিজনের সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করেছেন। আগামী বছর আবারও উৎসবের আনন্দে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা তাদের।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল বলেন, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূরাইয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিকাশের মধ্য দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে, শারদীয় দুর্গোৎসবের শিক্ষা হোক সেই মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ