আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

প্রবাস স্কীমের আওতায় আসলে প্রবাসীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে-বিভাগীয় কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, প্রায় সময় দেখা যায় প্রবাসীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠায় এবং সে অর্থে পরিবার স্বাবলম্বী হয়। যখন সে মানুষটি নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে বিমান বন্দর থেকে আনতেও অসম্মতি জানায়। সে পরিবার ও সমাজের কাছে বঞ্চনার শিকার হয়। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের কথা চিন্তা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় প্রবাস স্কিম চালু করেছেন। প্রবাস স্কিমে চাঁদা প্রদান করলে ভবিষ্যতে প্রবাসীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, ভবিষ্যতে প্রবাসী যখন কর্মহীন হবে তখন এ অর্থ ব্যয় করতে পারবে।

বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরের উদ্যোগে ওয়েলফেয়ার সেন্টার, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর সহযোগিতায় বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও পুনঃএকত্রীকরণের (রি-ইন্টিগ্রেশন) লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিতকরণ বিষয়ে নগরীর সার্কিট হাউজে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশগামী যাত্রীদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রবাস স্কিমের আওতাভুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান। এতে করে তারা সব হারিয়ে দেশে ফিরলে কিংবা বৃদ্ধ বয়সে পরিবার ও সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হতে হবে না।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এর পরিচালক (অর্থ ও কল্যাণ) শোয়াইব আহমাদ খান এর সভাপতিত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি প্রবীর কুমার রায় পিপিএম (বার), উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) নিস্কৃতি চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবীর আহম্মেদ বক্তব্য রাখেন। সভায় সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে শোয়েব আহমেদ চট্টগ্রামে প্রসাবসীদের সকল সেবা একই ছাতার নিচে আনার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো প্রবাসী কল্যাণ ভবন হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে প্রত্যাগত কর্মী নির্বাচন ও নিবন্ধন, ওরিয়েন্টেশন মনোসামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরামর্শ প্রদান, রেফারেল এর আওতায় কর্মীদের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণ প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করা, ফেরত দক্ষ কর্মীদের আরপিএল এর আওতায় দক্ষতা সনদ প্রদান, নির্বাচিত কর্মীদের নগদ প্রণোদনা, প্রত্যাগত কর্মীদের তথ্য সংবলিত ডাটাবেজ তৈরি ও রেফারেল মনিটরিং নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বক্তারা বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীদের দক্ষতা যাচাই পূর্বক দেশে চলমান মেগা প্রকল্পে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে কর্মীদের বেকারত্ব নিরসনের পাশাপাশি দেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
একজন বিদেশ প্রত্যাগত কর্মী তার ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স পাসপোর্ট বা আউট-পাস বা বিমান টিকিট বা বোডিং কার্ড বা ফেরত সংক্রান্ত কোন প্রমাণক ও জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ছবি দিয়ে ওয়েলফেয়ার সেন্টারে তার নিবন্ধন নিশ্চিত করতে পারবে। উল্লেখ্য, নিবন্ধনের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে মাধ্যমে সরকারিভাবে সারা দেশে ৩০টি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ