আজঃ বৃহস্পতিবার ৭ মে, ২০২৬

প্রবাস স্কীমের আওতায় আসলে প্রবাসীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে-বিভাগীয় কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, প্রায় সময় দেখা যায় প্রবাসীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠায় এবং সে অর্থে পরিবার স্বাবলম্বী হয়। যখন সে মানুষটি নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে বিমান বন্দর থেকে আনতেও অসম্মতি জানায়। সে পরিবার ও সমাজের কাছে বঞ্চনার শিকার হয়। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের কথা চিন্তা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় প্রবাস স্কিম চালু করেছেন। প্রবাস স্কিমে চাঁদা প্রদান করলে ভবিষ্যতে প্রবাসীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, ভবিষ্যতে প্রবাসী যখন কর্মহীন হবে তখন এ অর্থ ব্যয় করতে পারবে।

বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরের উদ্যোগে ওয়েলফেয়ার সেন্টার, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর সহযোগিতায় বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও পুনঃএকত্রীকরণের (রি-ইন্টিগ্রেশন) লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিতকরণ বিষয়ে নগরীর সার্কিট হাউজে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশগামী যাত্রীদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রবাস স্কিমের আওতাভুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান। এতে করে তারা সব হারিয়ে দেশে ফিরলে কিংবা বৃদ্ধ বয়সে পরিবার ও সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হতে হবে না।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এর পরিচালক (অর্থ ও কল্যাণ) শোয়াইব আহমাদ খান এর সভাপতিত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি প্রবীর কুমার রায় পিপিএম (বার), উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) নিস্কৃতি চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবীর আহম্মেদ বক্তব্য রাখেন। সভায় সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে শোয়েব আহমেদ চট্টগ্রামে প্রসাবসীদের সকল সেবা একই ছাতার নিচে আনার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো প্রবাসী কল্যাণ ভবন হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ওয়েলফেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে প্রত্যাগত কর্মী নির্বাচন ও নিবন্ধন, ওরিয়েন্টেশন মনোসামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরামর্শ প্রদান, রেফারেল এর আওতায় কর্মীদের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণ প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করা, ফেরত দক্ষ কর্মীদের আরপিএল এর আওতায় দক্ষতা সনদ প্রদান, নির্বাচিত কর্মীদের নগদ প্রণোদনা, প্রত্যাগত কর্মীদের তথ্য সংবলিত ডাটাবেজ তৈরি ও রেফারেল মনিটরিং নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বক্তারা বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীদের দক্ষতা যাচাই পূর্বক দেশে চলমান মেগা প্রকল্পে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে কর্মীদের বেকারত্ব নিরসনের পাশাপাশি দেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
একজন বিদেশ প্রত্যাগত কর্মী তার ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স পাসপোর্ট বা আউট-পাস বা বিমান টিকিট বা বোডিং কার্ড বা ফেরত সংক্রান্ত কোন প্রমাণক ও জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ছবি দিয়ে ওয়েলফেয়ার সেন্টারে তার নিবন্ধন নিশ্চিত করতে পারবে। উল্লেখ্য, নিবন্ধনের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে মাধ্যমে সরকারিভাবে সারা দেশে ৩০টি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কাতালগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, গড়ে উঠবে আধুনিক সবুজ পার্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম চকবাজার–মুরাদপুর সড়কের কাতালগঞ্জ এলাকায় রাস্তার পাশে ইবনে সিনা হাসপাতাল-এর সামনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিতে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে চুক্তি লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন-এর নির্দেশনায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন-এর তত্ত্বাবধানে বুধবার এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা।

চসিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ও স্থায়ী অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছিল, যা শুধু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনই নয়, বরং পথচারীদের চলাচল ও আশপাশের পরিবেশের জন্যও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। বিশেষ করে হাসপাতালসংলগ্ন হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছিল এবং একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে চসিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত দোকানঘর, টিনশেড স্থাপনা ও অন্যান্য দখলকৃত অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় দখলদারদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল বা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উচ্ছেদকৃত জায়গাটি পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করে একটি নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় রাজধানীর রমনা পার্ক-এর আদলে একটি আধুনিক সবুজ পার্ক নির্মাণ করা হবে। এতে শিশুদের জন্য আলাদা খেলার জায়গা, পথচারীদের বসার স্থান, ছায়াবৃক্ষ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে হাসপাতালে আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য এটি একটি স্বস্তির জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

চসিক জানিয়েছে, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগরকে বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন দেড় লাখ টাকা জরিমানা গুনল ফুলকলি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও আমদানিকৃত কাঁচামালের বৈধ উৎস প্রদর্শনে ব্যর্থতার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্ট ফ্যাক্টরিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার দুপুরে পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের কৃষি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ফ্যাক্টরিটি পরিদর্শন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে খাদ্য উৎপাদন এলাকায় মাছির উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এসময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) যুযুৎস যশ চাকমা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আনিচুর রহমান জানান, পরিদর্শনের সময় খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া ব্যবহৃত আমদানিকৃত পণ্যের আমদানিকারকের নাম প্রদর্শন করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে, তবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও জানান, ফ্যাক্টরির বর্জ্য পানির কারণে স্থানীয় পরিবেশ দূষণ ও কৃষিকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। পূর্বে সময় দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ