চট্টগ্রাম জেলায় সাড়ে ৯ হাজার ব্যক্তি পেনশন স্কিমের আওতায় এসেছে : জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেছেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যেক নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম অত্যন্ত জরুরী। অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১৮-৫০ বছর বয়সী সকল বাংলাদেশী নাগরিক এই পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবে। তবে বিশেষ বিবেচনায় পঞ্চাশোর্ধ নাগরিকগণ ১০ বছর নিরবচ্ছিন্ন জমা প্রদান করলে পেনশন সুবিধা পাবেন। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য পেনশন স্কিমের বিকল্প নেই। স্কিমগুলোর গ্যারান্টি সরকার নিজেই। সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন ধরণের প্রভার পড়বে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আসতে হবে।

গতকাল বুধবার বেলা ১২টায় নগরীর টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘টেরীবাজারের ব্যবসায়ী ও কর্মচারী ভাইদের মাঝে সর্বজনীন পেনশন স্কিম ঃ সচেতনতা ও স্পর্ট রেজিস্ট্রেশন’ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতি সভার আয়োজন করেন। সভায় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর সর্বজনীন পেনশন স্কিমের স্পর্ট রেজিস্ট্রেশনের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
ডিসি বলেন, সকল নাগরিকের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এখন পর্যন্ত এ জেলায় সাড়ে ৯ হাজার ব্যক্তি পেনশন স্কিমের আওতায় এসেছে। বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচী। তিনি বলেন, সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আপাতত চার ধরণের স্কিম চালুৃ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসীদের জন্য প্রবাস স্কিম, বেসরকারী চাকুরীজীবিদের জন্য প্রগতি স্কিম, অনানুষ্ঠানিক খাত অর্থ্যাৎ স্বকর্মে নিয়োজিত নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা স্কিম ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রয়েছে সমতা স্কিম। সরকার গত বছর সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করার পর ব্যাপক সাড়া পড়লে একটি মহল এটি নিয়ে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাতে থাকে। পেনশন স্কিমের নামে না কি সরকার মানুষের পকেটের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। পেনশন স্কিমের সুবিধা কি তা দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে।
জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান আরও বলেন, প্রবাসীরা প্রবাস থেকে অনলাইনে পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংক একাউন্ট এবং তার নমিনির আইডি কার্ড ও ছবি দিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সদস্য হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। দেশে অবস্থানরত ১৮-৬০ বছর বয়সী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক তাদের আইডি কার্ড, ছবি, ব্যাংক একাউন্ট, নমিনির আইডি কার্ড ও ছবি দিয়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সদস্য হতে পারবে। ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার গ্রাহক যত বছর বেঁচে থাকবেন তত বছর পেনশন পাবেন এবং ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার নমিনি ৭৫ বছর পর্যন্ত পেনশন পাবেন এবং ৬০ বছরের আগে মারা গেলে তার নমিনি মুনাফাসহ টাকাটা ফেরত পাবে। জমা টাকার মধ্যে ৫০ শতাংশ লোন পাবে।
অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ধারণা, উদ্দেশ্য, উপকারিতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন জেলা প্রশাসক। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ৪টি স্কিমের মধ্যে কে কোন স্কিমের আওতায় পড়বেন সে বিষয়ে ধারণা দেন তিনি। ৬০ বছর পর একজন ব্যক্তি কি পরিমান পেনশন পাবেন তা উপস্থাপনসহ উপস্থিতিদের মধ্যে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ডিসি।
জেলা প্রশাসক বলেন, বিদেশে কর্মরতবা অবস্থানকারী যে কোন বাংলাদেশী নাগরিক তার অভিপ্রায় অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধের শর্তে নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান পূর্বক এই স্কিমে অংশগ্রহণ করলে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর সমপরিমান অর্থ দেশীয় মুদ্রায় পরিশোধ করাসহ প্রয়োজনে স্কিম পরিবর্তন করতে পারবেন। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন কর্মচারী বা প্রতিষ্ঠানের মালিক নির্ধারিত চাঁদা প্রদান পূর্বক এই স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরতবা স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি যেমন-কৃষক, রিক্সা চালক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতিসহ সকল অনানুষ্ঠানিক কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ নির্ধারিত হাওে চাঁদা প্রদান পূর্বক এই স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। পেনশনযোগ্য বয়সে উপনীত হলে চাঁদাদাতা আজীবন পেনশন ভোগ করবেন। দারিদ্র সীমার নিম্নে বসবাসকারী স্বল্প আয়ের ব্যক্তিগণ নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান পূর্বক এই স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবংসমতা স্কিমে কর্তৃপক্ষ বিধি অনুসারে সমপরিমান অর্থ জমা করিবে।
টেরীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আমিনুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আহমদ হোছাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন (সিআইপি), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম গোলাম মোর্শেদ খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাদি উর রহিম জাদিদ, চসিক’র ২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। সভায় ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা, পৃষ্টপোষক, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত হবে : শিক্ষামন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়ার ভিত্তি শক্ত করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমন্বয় করে সুস্থ, দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা সম্প্রসারণ এবং যুব সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের ২২ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে এর আগে বড় পরিসরে ক্রীড়া আয়োজন করা হয়েছে।এবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ১৯ হাজার ২২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৯৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদ্রাসা এবং ৬৭৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একইদিনে একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় এই টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হবে। তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে আগামী সেপ্টেম্বরের ৯ অথবা ১০ তারিখ উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এসময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক প্রমুখ।

প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, একটি ভবন শক্ত করতে হলে যেমন এর ভিত্তি শক্ত করতে হয়, তেমনি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য যেতে হবে একদম তৃণমূল পর্যায়ে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।তিনি বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও শক্তিশালী হবে।পাশাপাশি মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রীড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপের সুযোগ পায়।বাংলাদেশের মেধাবী খেলোয়াড়দেরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের জন্য লোগো, রিলস, মাসকট, স্লোগান ও থিম সং তৈরিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গেছে। নির্বাচিত সেরাদের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

চসিকের ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার নতুন বাজেট বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে ‘হাল কর ও অভিকর’, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বাজেটের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২২ কোটি এবং মশকনিধনে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কাঙ্খিত উন্নয়ন অনুদান ও নিজস্ব কর আদায় না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটের আকার প্রায় ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ সংকুচিত করতে হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাজেট বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,’নগরবাসীর আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর প্রত্যাশায় ও চট্টগ্রাম মহানগরকে ক্লিন-গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাসযোগ্য নান্দনিক পর্যটন নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করছি।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান অনুমোদিত মোট জনবলের সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার ২২৬ জন। মেয়র জানান, এই সামান্য জনবল দ্বারা নগরের প্রায় সত্তর লাখ নগরবাসীকে পূর্ণাঙ্গ ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করা কোনোভাবেই সম্ভবপর নয়। যার কারণে যথাযথ নাগরিক-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনকে বিভিন্ন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।

নতুন বাজেটে সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের ‘হাল কর ও অভিকর’, যার পরিমাণ ৪২৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে আদায় হয়েছিল মাত্র ৩১৫ কোটি টাকা।বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি খাতের পুঞ্জীভূত বকেয়া থেকে এবার ১৯৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল মাত্র ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।অন্যান্য কর থেকে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক ফিস থেকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

নিজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের উন্নয়ন অনুদান খাত থেকে এবার বড় অংকের প্রাপ্তি আশা করছে চসিক। এই খাতে ৯৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা আশা করা হলেও বরাদ্দ মিলেছিল ৮৮৭ কোটি ৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

চসিকের ব্যয় খাতের বিবরণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি টাকা সরাসরি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নগরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে চসিকের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, নগরের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নে মোট ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের বিশাল কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনীর বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া নগরের সড়ক বাতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি খাতে এবার ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত সংশোধিত বাজেটে ছিল ৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চসিকের বিভিন্ন ঠিকাদার ও খাতের পুরনো বকেয়া দেনা মেটাতে এবার ১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চসিকের নিজস্ব আয় বাড়ার ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন অনুদানের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রাখা হয়েছে।চসিকের আয় খাতের বিবরণী অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এবার নিজস্ব উৎস থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্ষায় নগরের প্রধান দুর্ভোগ জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সর্বশেষ (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৭৫ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে প্রকৃত খরচ করা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিগত বছরের খরচের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আগামী অর্থবছরের জন্য মশকনিধন খাতে রেকর্ড ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগের (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মাত্র ৯ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে চসিক খরচ করতে পেরেছিল মাত্র ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার মশা মারার বাজেটে প্রায় পাঁচগুণ বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয় ও ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব শেষে চসিকের তহবিলে ৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ