আজো বিচার পায়নি তাদের পরিবার

লংগদু রাজনগর গনহত্যার ৩৮ বছর

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ স্টাফ রিপোর্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ঠিক ১১ বছর পূর্বে রাজনগর গণহত্যা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস)এর সামরিক শাখা তথাকথিত শান্তিবাহিনী।
১৯৮৬ সনের ৪-ই জুন ভোর রাত্রে নিরস্ত্র বাঙ্গালী নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বধীন শান্তিবাহিনীর হায়েনারা৷ শান্তিবাহিনীর সদস্যরা গুলি করতে করতেই বাঙ্গালী গ্রামে প্রবেশ করে। প্রবেশ করেই আগুন ধরিয়ে দেয় বাঙ্গালীদের ঘর বাড়িতে। এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রায় ৫০ টি বসতঘর৷ ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক কিছু। স্থানীয়রা জানান, ৩ জুন রাত্রে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ৪জুন ভোর রাত্রে শান্তিবাহিনীর গুলিতে ১১ জন নীরিহ নারী-পুরুষ ও শিশু গণহত্যার শিকার হয়। গণহত্যায় নিহত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-
(১) মো. ওমর আলী (৪৫)
(২) বেগম ওমর আলী (৩০)
(৩) আব্দুল মালেক (৭), পিতা ওমর আলী
(৪) ফাতেমা বেগম (৪), পিতা ওমর আলী
(৫) মালেকা বানু (২৮), স্বামী খৈয়র উদ্দিন
(৬) নিলুফা আক্তার (১), পিতা খৈয়র উদ্দিন
(৭) এরশাদ আলী মুন্সী (৬৫), পিতা নছরদ্দিন ফকির
(৮) রেজিয়া খাতুন (২৫), স্বামী হাফিজ উদ্দিন
(৯) আজিজুল ইসলাম (১০), পিতা হাফিজ উদ্দি
(১০) আলিমন বিবি (২৪), পিতা আব্দুর রহমান
(১১) জামেলা খাতুন (২২), স্বামী সমর আলী

শান্তিবাহিনীর হাতে নিহত হওয়া সদস্যের পরিবার গণহত্যার ৩৮ বছরেও বিচার পায়নি। কোনপ্রকার ক্ষতিপূরণ পায়নি। লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রাজনগর এখনো রয়েছে গণহত্যায় নিহত ব্যক্তিদের গণকবর। চোখে পড়ে গণকবরটি। একসময় এই নিয়ে প্রতিবাদ হলেও কয়েকবছর ধরে দামাচাপা পড়ে যায়। স্থানীয়রা বলেন, লংগদুতে আরো বড় ৩ গণহত্যা থাকার কারণে এই গণহত্যার স্মৃতি কেউ মনে রাখেনি। এই গণহত্যায় এক পরিবারের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। স্মৃতি সংরক্ষণে রাজনগর জোন এগিয়ে আসেন। তারা শাহাদাৎ বরণকারী ব্যক্তিদের নামের তালিকা স্মৃতি সংরক্ষণ করেন।

এই গণহত্যায় জড়িত সন্তু লারমা ও তার সংগঠন জেএসএস দায়মুক্তি পেয়ে পাহাড়ে আরো বাঙ্গালী হত্যা, অপহরণ ও খুন-খারাবির সঙ্গে জড়িত আছে। পাহাড়ে এই সন্ত্রাসীদের বিচার করার কেউ নেই। নিহত পরিবারগুলো এখনো ৪ জনু আসলে স্বজন হারানোর বেদনায় চোখের জল ফেলে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার ও ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগে চার প্রতিষ্ঠানকে ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাহাড়তলী এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর বা অনিরাপদ খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চানাচুর, বুট ভাজাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা এবং খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতে পোড়া তেল ব্যবহারের কারণে লোকনাথ ফুড প্রোডাক্টসকে ৫০ হাজার টাকা, খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহারের জন্য ক্ষতিকর কেওড়া জল বিক্রির অভিযোগে মেসার্স কাউসার এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ফেনী স্টোরকে ক্ষতিকর রং মিশ্রিত কাশ্মীরি মরিচ বিক্রির দায়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে ঘি কিনে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য হিসেবে বিক্রির অভিযোগে আর এন সুপার বাঘাবাড়ি ঘি প্যাকেটজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন মেনে চলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ঠেকাতে জেলা পুলিশের সাইবার টিমকে বিশেষ নির্দেশনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত শনাক্ত, যাচাই ও প্রতিরোধে এ নির্দেশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের (বিপিএম) সভাপতিত্বে সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য শনাক্ত, তথ্যের সত্যতা যাচাই, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের উৎস চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিশেষ করে দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপ ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছড়ানো তথ্য সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা এবং ধর্মীয় উসকানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এমন কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় পুলিশ সুপার গুজব শনাক্তের পর দ্রুত তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য তুলে ধরে কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচারের সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন।এ সময় গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ, সময়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বলা হয়, কোনো ঘটনা বা তথ্য নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে হবে। যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে জনগণের বিভ্রান্তি দূর করতে সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তথ্য প্রচার করতে হবে।পাশাপাশি থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা পোস্ট শেয়ার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কোনো কনটেন্টে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত, দ্রুত সত্যতা যাচাই এবং সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ