বৈধ ইটভাটা ৪০৬, অবৈধ ৩২১টি

আট মাসে ২৯টি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা

বিশ্বজিৎ পাল, চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ব্যাঙের ছাতার মত একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। নিয়মিত অভিযান, জরিমানার মাঝেই কোনোভাবেই ইটভাটার লাগাম টানা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ ইটভাটা কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে গাছের গুঁড়ি, কাঠ ব্যবহার করায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। এতে কৃষিজমির মাটি যেরকম উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইটভাটায় পোড়ানো গাছ-কয়লা থেকে নির্গত হওয়া ধোঁয়ার সঙ্গে পার্টিকুলেট কার্বন, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড বের হয়, যা মানুষের চোখ, ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০ ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, বসতি এলাকা, পাহাড়, বন ও জলাভূমির এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যাবে না। কৃষিজমিতেও ইটভাটা অবৈধ। কিন্তু ইটভাটার মালিকরা এ আইন মানছে না।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে মোট ইটভাটা আছে ৪০৬টি। এর মধ্যে মাত্র ৮৫টির বৈধতা আছে। বাকি ৩২১টি ইটভাটা অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে ফিক্স চিমনি (৮৯-১২০ ফুট উঁচু) ভাটা আছে ২৭৯টি, জিগজ্যাগ চিমনি আছে ১১৬টি এবং পরিবেশ ফ্রেন্ডলি টেকনোলজির ইটভাটা আছে মাত্র ১১টি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ১২টি ইটভাটার মধ্যে সবগুলোর অনুমোদন আছে। আনোয়ারায় দুটির মধ্যে একটি, পটিয়ায় দুটির মধ্যে একটি, সন্দ্বীপে ১১টির মধ্যে নয়টি, বাঁশখালীতে ১২টির মধ্যে ১০টি, বোয়ালখালীতে পাঁচটির মধ্যে চারটি, মিরসরাইয়ে ১৫টির মধ্যে নয়টি অবৈধ। এছাড়া সীতাকুণ্ডে আটটির মধ্যে ছয়টি, চন্দনাইশে ৩২টির মধ্যে ২৫টি, লোহাগাড়ায় ৪৮টির মধ্যে ৪৫টি, ফটিকছড়িতে ৫৫টির মধ্যে ৪৩টি, সাতকানিয়ায় ৭০টির মধ্যে ৪৫টি, রাউজানে ৩৭টির মধ্যে ২৯টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৬৯টির মধ্যে ৬৬টি ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৩৫টির মধ্যে ২০টি ইটভাটা অবৈধ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার উপ পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা চালালে দুই বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদফতর থেকে সবসময় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ইটভাটার মালিকরা হাইকোর্টে গিয়ে মামলার বিরুদ্ধে রিট করে ভাটা পরিচালনা করে।
এদিকে পাহাড় কাটা, খাল-জলাধার ভরাট ও ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে গত আট মাসে ২৯টি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, যার বেশিরভাগই অনুমোদনহীন, অবৈধ।
পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, ইটভাটা সাধারণত বেশি সক্রিয় থাকে বছরের অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এ সময়কে ইট তৈরির মৌসুম বলা হয়। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত যেসব ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, এর বেশিরভাগেই কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে গাছের গুঁড়ি, কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছিল। ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল ফসলি জমির মাটি। এতে কৃষিজমির মাটি যেরকম উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েও সুফল মিলছে না। সেগুলোর মালিকপক্ষ রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে খুবই প্রভাবশালী। আইনের ফাঁক গলে ঠিকই ইটভাটাগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত লোহাগাড়া উপজেলায় নয়টি, সাতকানিয়ায় তিনটি, সীতাকুণ্ডে চারটি, ফটিকছড়িতে একটি, বাঁশখালীতে দুটি, রাউজানে পাঁচটি, রাঙ্গুনিয়ায় চারটি ও আনোয়ারায় একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার আরো বলেন, ইট প্রয়োজনীয় জিনিস। চাহিদার কারণেই দিন দিন ইটভাটার পরিমাণ বাড়ছে, অধিকাংশের লাইসেন্স নেই। ইচ্ছেমতো ইটভাটা পরিচালনা করছে তারা। পাহাড়ের ও ফসলি জমির মাটি কেটে এসব ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া লোকালয়ের আশেপাশে ইটভাটা পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। তবুও অনেক ইটভাটা লোকালয়ের পাশেই গড়ে উঠছে। আমরা প্রতি মাসেই এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন জরিমানার চেয়ে মামলা বেশি করছি। ইটভাটার মালিকরা চায় আমরা তাদের জরিমানা করি। এতে অতি সহজেই তারা পার পেয়ে যায়। তাই আমরা জরিমানা করি সর্ব্বোচ্চ তিন থেকে চারটি ইটভাটাকে। মামলা করলে তারা শাস্তির মুখে পড়ে।
এদিকে লোহাগাড়া উপজেলার মেসার্স আকতারিয়া ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারের ছাড়পত্র না থাকায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মামলা করে পরিবেশ অধিদফতর। মামলায় ইটভাটার আট অংশীদারকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে একজন মো. ইসমাইল।
ইসমাইল বলেন, করোনার পর আমরা আট জন মিলে একটি ইটভাটা চালু করি। তখনই আমরা পরিবেশ অধিদফতরের কাছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করি। কিন্তু তারা আমাদের জানায় সরকার তখন কোনো ইটভাটাকে লাইসেন্স দিচ্ছে না। আমাদের ইটভাটার আশেপাশে কোনো জনবসতি নেই। পাহাড়ের বা ফসলি জমির মাটিও আমরা কাটি না। শুধু লাইসেন্স না থাকায় পরিবেশ অধিদফতর আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক আফজারুল ইসলাম বলেন, শীতকালে পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ ইটভাটা। অন্যান্য সময়েও দূষণ হয়। তবে শীতকালে হয় বেশি। জরিমানা করেও এসব ইটভাটার মালিককে কিছু করা যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এইচএসসির পরীক্ষার সম্ভাব্য ফল প্রকাশ নভেম্বর দ্বিতীয় সপ্তাহে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ হতে পারে। ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সম্ভাব্য সময়ের কথা জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

তিনি বলেন, নভেম্বরের ৭ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফল তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা কিছুটা বিলম্বে শেষ হয়েছে। তবে ফল প্রস্তুতের কাজে অতিরিক্ত পরীক্ষক যুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা পরে অনুষ্ঠিত হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। পরীক্ষার্থীরা ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

পর্যালোচিত হারের ওপর ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ জ্বালানি সারচার্জ আরোপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমদানি-রপ্তানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার, খালি কনটেইনার ও পরিবহন সেবার চার্জ বাড়িয়েছে চট্টগ্রামের বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) বা অফডকগুলো। এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে সর্বশেষ কার্যকর হারের ওপর ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)। এক বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো চার্জ বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। একই দিন থেকে নতুন বর্ধিত হার কার্যকর হয়েছে বলে জানায় বিকডা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভার পর বেসরকারি আইসিডিগুলোর রপ্তানি পণ্য ও খালি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সংশোধিত চার্জ কার্যকর হয়। পরে ১৯ এপ্রিল থেকেও নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে এক বছরের মধ্যে তিন দফায় চার্জ বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে।

বিকডার সার্কুলারে বলা হয়, সরকার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে বেসরকারি আইসিডি পরিচালনার জ্বালানিনির্ভর বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। এ ব্যয় সমন্বয়ের জন্য সর্বশেষ পর্যালোচিত হারের ওপর ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে।

নতুন হারের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর ও আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) ও আইসিডির মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন, খালি কনটেইনার ওঠানো-নামানো, রপ্তানি পণ্য কনটেইনারে ভর্তি ও হ্যান্ডলিং, ভেরিফায়েড গ্রস মাস (ভিজিএম) এবং আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জ রয়েছে।

বিকডা জানায়, রপ্তানি প্যাকেজ চার্জের মধ্যে খালি কনটেইনার ইয়ার্ডে নেওয়া, সিএফএস শেডে পরিবহন, কনটেইনারে পণ্য ভর্তি, লোড ইয়ার্ডে নেওয়া এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটিতে পরিবহনের মতো সেবা অন্তর্ভুক্ত।অন্যদিকে আমদানি প্যাকেজ চার্জের মধ্যে বন্দর বা পিসিটি থেকে আইসিডিতে কনটেইনার আনা, আইসিডিতে নামানো, ডেলিভারি ইয়ার্ডে রাখা এবং শ্রমিকদের মাধ্যমে ট্রাক বা অন্যান্য পরিবহনে পণ্য সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের রপ্তানি পণ্যের শতভাগ কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং আমদানির ৬৮ ধরনের পণ্য ডেলিভারি বেসরকারি আইসিডির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে চার্জ বৃদ্ধির প্রভাব আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা যৌথ বৈঠক ছাড়াই একতরফাভাবে অফডক চার্জ বাড়ানো হয়েছে। এতে উৎপাদন ও লজিস্টিকস ব্যয় বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, আলোচনা ছাড়া এভাবে হঠাৎ করে চার্জ বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ব্যবসার খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। এর চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে। বায়াররা অর্ডার কমিয়ে দিলে বা অন্য দেশে চলে গেলে তার দায় কে নেবে?
চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, পোশাক খাতের টেকসই অগ্রগতির জন্য বন্দর, অফডক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। এককভাবে আলোচনা ছাড়া কোনো চার্জ নির্ধারণ করা হলে পুরো সাপ্লাই চেইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। কারণ আগের মূল্যে পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। এখন এক নোটিশে চার্জ বৃদ্ধি কার্যকর হলে তাহলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে অপারেটিং চার্জ সমন্বয়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে চিঠি দিয়েছে বার্থ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।সংগঠনটি জানায়, ২০২২ সাল থেকে গত চার বছরে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। ফলে তাদের পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।
তবে বার্থ অপারেটররা সরাসরি চার্জ বাড়ানোর পরিবর্তে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আইসিডিগুলোর অপারেশনাল ব্যয় সরাসরি বেড়েছে। এ কারণে ডিজেল নির্ভর সেবাগুলোর বিপরীতে বর্ধিত চার্জ কার্যকর করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ